আকিজ এয়ার বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমার প্রতিষ্ঠানের নাম ‘আকিজ বশীর এয়ার’। যদি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করতে হয় তবে সেটি নিয়ে করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান পদে থাকা তার দায়িত্ব নিয়ে ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’ আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, এ বিষয়ে প্রচারিত প্রতিবেদনে তথ্যগত ঘাটতি আছে। বোর্ডে সচিব, এনবিআর চেয়ারম্যানসহ আরও অনেকে আছেন। কারো আত্মমর্যাদা থাকলে কোনো কনফ্লিক্ট হয় না।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ট্রাভেল এজেন্সি খাতে নৈরাজ্য চলছে অভিযোগ করে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, যারা গরিব মানুষের রক্ত চুষে খাচ্ছে তাদের নিয়ে অনুসন্ধান করা উচিত। অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে আমাকে নিয়ে, কিন্তু প্রতারণা করা লোকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, এভিয়েশন খাতে প্রতারণার তথ্য দিলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রত্যাশিত থার্ড টার্মিনাল চালুর তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ২১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। আমরা যত দ্রুত সম্ভব এটি চালু করতে কাজ করছি। তবে এখনো বিদেশি নির্মাণ কোম্পানি টার্মিনাল হস্তান্তর করেনি। তাই নির্দিষ্ট তারিখ বলা যাচ্ছে না।
একই অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আগামী ১ নভেম্বর থেকে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হবে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক দ্বীপে ভ্রমণ করতে পারবেন। নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে পর্যটকরা শুধু দিনের বেলা সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করতে পারবেন। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে রাতেও অবস্থানের সুযোগ থাকবে। পর্যটকদের নিয়ন্ত্রণে একটি সফটওয়্যার চালু করা হবে বলেও জানানো হয়।
দেশের পর্যটন শিল্প রক্ষায় একটি পর্যটন নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, নীতিমালার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এটি কার্যকর হলে খাতটি আরও সুশৃঙ্খল হবে। পর্যটন খাতের তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর উন্নয়নে “Tourism Satellite Account (TSA)” প্রণয়নের কাজ চলছে। এটি চালু হলে পর্যটন সংক্রান্ত রিয়েল-টাইম তথ্য পাওয়া যাবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্রীড়া বোর্ডের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে দেশে ক্রীড়া পর্যটনের সূচনা হয়েছে।
বর্তমান সরকার পর্যটন খাতকে জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। দায়িত্বশীল ও টেকসই পর্যটন নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক পর্যটন মানচিত্রে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাবো বলে আমরা আশাবাদ ব্যক্ত করছি।
সময়ের আলো/জেডআই