বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। নিম্নচাপের অবস্থান বাংলাদেশ থেকে দূরে হলেও এর প্রভাব এরই মধ্যে পড়তে শুরু করেছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টির সঙ্গে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া, আগামীকাল বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সকালে আবহাওয়ার ৩ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির কারণে দেশের চার সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর এবং নদী বন্দরে ১ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানায়, নিম্নচাপটির গতিপথ এখন ভারতের উড়িষ্যার দিকে। এটি আরও শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে এর নাম হবে ‘শক্তি’। ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলেও এটি ভারতের দিকেই যাবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়াবিদ তরীফূল নেওয়াজ কবীর বলেন, ‘নিম্নচাপটি এখন গভীর নিম্নচাপ আকারে ভারতের দিকে যাচ্ছে। এখনও এটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে এমনটা বলা যাচ্ছে না। আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, এটি আগামীকাল শুক্রবার সকাল নাগাদ ভারতের উড়িষ্যা উপকূলের স্থলভাগে উঠে যেতে পারে। ঝড়ে পরিণত হবে না এটা একেবারে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তবে ঝড়ে পরিণত হলেও সেটি ভারতের উপকূলের দিকেই যাওয়ার আশঙ্কা বেশি।’
গভীর নিম্নচাপের অবস্থান জানাতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গভীর নিম্নচাপটি আজ সকাল ছয়টায় চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ৮৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৮৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৭৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৭৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। আরও উত্তর-উত্তর পশ্চিম দিকে এগোনোর সম্ভাবনা আছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে, যাতে স্বল্প সময়ের নোটিশে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারে।
আজ সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে সারাদেশের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
সেই সাথে আগামীকালের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বানবজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া, সারাদেশের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
সময়ের আলো/এসআর/এনএ