গাজা অভিমুখী ত্রাণবাহী নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র একটি বাদে বাকি সব জাহাজ আটক করার কথা জানিয়েছে ইসরায়েল। তবে আদৌ এতগুলো জাহাজ আটক করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইসরায়েলের এমন ঘোষণার পর দুইবার ভিডিও বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশি আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা এবং রাত ১০টার দিকে পৃথক ভিডিও বার্তা দিয়েছেন তিনি। আগের বার্তাটি রুমের মধ্যে থেকে করেছিলেন তিনি এবং জানিয়েছেন উত্তাল সমুদ্রের কারণে তার শারীরিক অবস্থা কিছুটা খারাপ হয়েছে।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ভিডিওবার্তায় শহিদুল আলম ক্যাপশনে লেখেন, ‘সাগর খুবই উত্তাল। এইমাত্র বমি হলো, এখন শুয়ে আছি।’
ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘বমি করার পরপরই সরাসরি সম্প্রচারে যাওয়াটা স্বাভাবিক নয় বলেই আমার ধারণা। আমি এখন মেঝেতে শুয়ে আছি। তাই আমি বরং ক্যামেরাটাকে ঘুরিয়ে দিচ্ছি। দেখা যাক, এটা কাজ করে কি না। আশা করি, এবার আপনারা দেখতে পাচ্ছেন।’
শহিদুল আলম বলেন, ‘সময়টা বেশ উপযুক্ত। কারণ, আমি এইমাত্র বিবিসিকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছি। সাক্ষাৎকারটি চলাকালে বা এর পরপরই জাহাজটি দুলতে শুরু করে। এ সময় আমি অসুস্থবোধ করছিলাম এবং বমি করার জন্য একটি ব্যাগ খুঁজছিলাম। ভাগ্যক্রমে ঠিক সময়েই একটি ছোট ব্যাগ পেয়ে যাই। তাতে মেঝেটা নোংরা হওয়া থেকে রক্ষা পায়। তবে হ্যাঁ, আমি ঠিক আছি।’
জাহাজে একজন চিকিৎসক তার দেখাশোনা করছেন বলে জানান শহিদুল আলম। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, কেউ আমার ল্যাপটপ ও টেবিলে থাকা অন্যান্য সরঞ্জাম গুছিয়ে রেখেছেন। সব জিনিস মেঝেতে নামিয়ে রাখা হচ্ছে, যাতে সেগুলো পড়ে না যায়। সমুদ্র এখনো খুবই উত্তাল। বাইরে এখনো আলো আছে। আশা করি, আমরা খুব দ্রুত এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠব। আমি ঠিক আছি। এটা একটা ভিন্ন অভিজ্ঞতা বলতে হবে।’
এর কিছু পর শহিদুল আলম আরও একটি ভিডিও আপলোড দেন নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে। ওই ভিডিওর সঙ্গে তিনি লেখেন, ‘লোকজন জানতে চাইছে আমি কেমন আছি। দুঃখিত, আমি সবাইকে একে একে জবাব দিতে পারছি না। আজ আমি বমি করেছি এবং তারপর পড়ে গিয়েছিলাম, তবে তেমন গুরুতর কিছু হয়নি। জাহাজে ২০ জন ডাক্তার আর নার্স আছেন, তাই চিকিৎসার দিক থেকে আমরা হয়তো যাত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যত্নে আছি। আমি অবশ্য সেই যত্ন পেয়ে বেশ আনন্দই পেয়েছি। আমার ভাতিজি মৌলি থাকলে বলত আমি নাকি ড্রামা কুইন হচ্ছি। গাজার আরও এক দিন কাছাকাছি পৌঁছে গেলাম।’
‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামের নৌবহরে ৪৪টি জাহাজ ছিল। দৃকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলোকচিত্রী শহিদুল আলম ওই বহরে থাকা ‘কনশানস্’ নামের একটি জাহাজে যাত্রা করেন। বাংলাদেশ সময় বুধবার মধ্যরাতে নৌবহর গাজার কাছাকাছি এলাকায় পৌঁছালে ইসরায়েলি সেনারা জাহাজগুলোতে এসে ত্রাণ নিয়ে যাওয়া অধিকারকর্মীদের আটক করতে থাকে। নৌবহরের ত্রাণবাহী জাহাজসহ অধিকারকর্মীদের ইসরায়েলের আশদোদ বন্দরে নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বহরে থাকা একটি বাদে অন্য সব জাহাজ আটক করা হয়েছে।