রোগ থেকে মুক্তির জন্য মানুষ যে হাসপাতালে ছুটে যায়, সেই হাসপাতালেই রোগ বরণ নিচ্ছে অনেকেই। চিকিৎসা দিয়ে প্রতিরোধ নয়, উল্টো এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরি করে ডেঙ্গু ছড়াচ্ছে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে, আক্রান্তদের মশারি না দেয়ায় হাসপাতালটিতে জন্ম নেয়া মশার কামড়ে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ।
হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, জরুরি বিভাগের পাশেই ময়লার স্তূপের মধ্যে একাধিক পাত্রে জমে রয়েছে পানি। যার মধ্যেই জন্মাচ্ছে এডিসের লার্ভা ও মশা। শুধু জরুরি বিভাগ নয়, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের চারপাশেও যেন চাষ হয় এডিস মশার। পরিত্যক্ত ডাবের খোসা, ওয়ানটাইম কাপ বা মাটির পাত্র, সব কিছুতেই জমে রয়েছে পানি। জন্মাচ্ছে এডিসের লার্ভা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ১০৪ নম্বর ওয়ার্ডের সামনে এক বালতি পানি। কাছে গিয়ে দেখা যায়, পুরো বালতির পানি যেন এডিসের লার্ভায় ভরা। এ বিষয়ে ওয়ার্ডটির দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাইলে প্রথমে নানা অজুহাত দিলেও পরে দায় স্বীকার করেন তারা। এরপর ফেলে দেয়া হয় এডিসের লার্ভায় ভরা বালতির পানি।
কেবিনে গিয়েও ডেঙ্গু প্রজননের ভয়াবহ চিত্র চোখে পড়ে। প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি টবে গাছ না থাকলেও জমে রয়েছে পানি। দীর্ঘদিন ধরে জমা পানি যেন ফেলার কেউ নেই। ফলে, টবের ভেতর জন্মাচ্ছে এডিসের লার্ভা ও মশা।
সাধারণ ওয়ার্ডে গিয়ে মেলে আরেক দৃশ্য। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জন্য আলাদা কোনো কক্ষ নেই। অন্য রোগীদের সঙ্গেই রাখা হয়েছে তাদের। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের বেডে টানানো দেখা যায়নি কোনো মশারি। ফলে, তাদের কামড় দেয়া মশার মাধ্যমে অন্য রোগীদের মাঝেও ডেঙ্গু ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কেন মশারি দেয়া হচ্ছে না জানতে চাইলে ওয়ার্ড ইনচার্জ মিতা মন্ডল দাবি করেন, সব ডেঙ্গু রোগীরা মশারির ভেতরেই রয়েছেন। এরপর সত্যতা প্রমাণ করতে ওয়ার্ডের ভেতরে যান। কিন্তু, ব্যর্থ হয়ে দায় চাপান রোগীদের ওপর।
তিনি বলেন, ‘যেহেতু এটা জেনারেল ওয়ার্ড, গরমের একটা ব্যাপার আছে। এ ছাড়া, রোগীর লোকজনও এত সচেতন না। মশাকে তারা গুরুত্ব দেন না।’
এতোসব অনিয়মের বিষয় নিয়ে এবার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ সেজাব উদ্দীন কথা বলতে রাজি হননি। এ সময় ওয়ার্ডের কর্মকর্তাদের ডেকে ধমকালেন তিনি।
সময়ের আলো/এনএ