জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সাবেক তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম সম্প্রতি একাত্তর টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অনেক উপদেষ্টা এখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ করছেন এবং নিজেদের জন্য ‘সেফ এক্সিট’ বা নিরাপদ প্রস্থানের চিন্তা করছেন। এ মন্তব্যের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, গণ–অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলে ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে কয়েকজন উপদেষ্টা পদে দায়িত্ব নেন। তিনি নিজে তথ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ছিলেন, তবে পরে পদত্যাগ করে এনসিপির নেতৃত্বে যোগ দেন। অন্যদিকে, মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এখনও উপদেষ্টা পদে রয়েছেন।
টেলিভিশন চ্যানেল একাত্তরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাবেক তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, তারা কেউ সরকারের উপদেষ্টা পদে যেতে চাননি। তারা জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেটা হলে ছাত্রদের দায়িত্ব নিতে হতো না। রাজনৈতিক শক্তি বা অভ্যুত্থানের শক্তি সরকারে না থাকলে অন্তর্বর্তী সরকার তিন মাসও টিকত না। প্রথম ছয় মাস সরকারকে উৎখাত করা বা প্রতিবিপ্লব করার নানা ধরনের চেষ্টা চলমান ছিল। এটা এখনো মাঝেমধ্যে আছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘রাজনৈতিক দলের নেতাদের এবং যারা উপদেষ্টা হয়েছেন, তাদের অনেককে বিশ্বাস করাটা আমাদের অবশ্যই ভুল ছিল। আমাদের উচিত ছিল ছাত্র নেতৃত্বকেই শক্তিশালী করা, সরকারে গেলে সম্মিলিতভাবে যাওয়া। নাগরিক সমাজ বা রাজনৈতিক দলকে আমরা যে বিশ্বাস করেছিলাম, আস্থা রেখেছিলাম, সে জায়গায় আসলে আমরা প্রতারিত হয়েছি। অনেক উপদেষ্টা নিজেদের আখের গুছিয়ে নিয়েছে অথবা গণ–অভ্যুত্থানের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। যখন সময় আসবে, তখন আমরা এদের নামও উন্মুক্ত করব।’