‘আমার সন্তান খুব দুষ্টু, কথা শোনে না’- এমন অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। কিন্তু শিশুদের আচরণ বুঝতে এবং তাদের শারীরিক বা মানসিক বিকাশের প্রেক্ষাপটে ধৈর্য ধরে প্রতিক্রিয়া দেখাতে না পারাই সমস্যার মূল।
শিশুরা জন্মগতভাবে দুষ্টু নয়। হামাগুড়ি দেওয়া, চিৎকার করা বা জিনিসপত্র ভাঙা- এসব আচরণ তাদের শেখার প্রক্রিয়ার অংশ। অভিভাবকরা যখন অধৈর্য হয়ে শিশুর উপর হাত তোলেন, তা মুহূর্তের শান্তি এনে দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে শিশুর মানসিক বিকাশ ও আচরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
মনোবিজ্ঞানে জেন্টল প্যারেন্টিং বা অথোরিটেটিভ প্যারেন্টিং অন্যতম কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে পরিচিত। এতে শিশুর আবেগকে স্বীকৃতি দিয়ে ধৈর্য সহকারে সীমা স্থাপন করা হয়, যাতে শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি না হয়। উদাহরণস্বরূপ, শিশুরা যদি বোতল ফেলে, পারমিসিভ অভিভাবক শুধু বলবেন ‘এমন করো না’, অথোরিটেটিভ অভিভাবক যুক্তিসংগতভাবে বলবেন, ‘তুমি খেলতে চাও, কিন্তু বোতল ফেললে পানি নষ্ট হয়। বরং বল নিয়ে খেলি, দেখি কে আগে আনতে পারে।’
যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ড. ব্রায়ান রাজ্জিনো বলেন, ‘জেন্টল প্যারেন্টিং মানে শুধু আদরে বড় করা নয়, বরং সন্তানকে প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা শেখানো।’
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে মনোবিজ্ঞানী ড. এনি পেজালো বলেন, শিশুর সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্য চারটি উপাদান জরুরি- কাঠামো বা নিয়ম, ভালোবাসা ও উষ্ণতা, শিশুকে স্বতন্ত্র ব্যক্তি হিসেবে দেখা এবং ধৈর্যশীল লালন-পালন।
শিশু নিখুঁত অভিভাবক চায় না, বরং চায় এমন মা-বাবা যারা নিজে চেষ্টা করে, ভুল হলে ক্ষমা চায় এবং ভালোবাসা ও সহানুভূতির মাধ্যমে নেতৃত্ব দেয়। এভাবেই শিশু শেখে আবেগ নিয়ন্ত্রণ, সীমা মানা এবং সমাজের জন্য স্থির ও সহানুভূতিশীল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে।
এএডি/