বকেয়া বিল চেয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে আদানির চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

বিদ্যুৎ সরবরাহের বকেয়া বিল ৪৬৪ মিলিয়ন ডলার দ্রুত পরিশোধ করতে তাগাদা দিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি দিয়েছে ভারতের আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান

2025-10-08T21:22:35+00:00
2025-10-08T21:22:35+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬,
১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
অর্থনীতি
বকেয়া বিল চেয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে আদানির চিঠি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৫, ৯:২২ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
বিদ্যুৎ সরবরাহের বকেয়া বিল ৪৬৪ মিলিয়ন ডলার দ্রুত পরিশোধ করতে তাগাদা দিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি দিয়েছে ভারতের আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি। 

চিঠিটি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মাদ ইউনুসের কাছে পাঠিয়ে বকেয়া পরিশোধে দ্রুত তার হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। তবে, এই চিঠি নিয়ে তারা চিন্তিত নয় বলে জানিয়েছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর পাঠানো চিঠিতে বকেয়া পরিশোধ না করায় উদ্বেগ প্রকাশ করে গৌতম আদানী বলেছেন, বাংলাদেশ বকেয়া পরিশোধে দীর্ঘ মেয়াদে বিলম্ব হওয়ায় করায় ঋণদাতা এবং অংশীদারদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। 

চিঠিতে, আদানি স্বীকার করেছেন যে বাংলাদেশ ২০২৫ সালের জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে আংশিক অর্থ প্রদান করেছে, যা বকেয়া আংশিকভাবে হ্রাস করতে এবং জ্বালানি ও খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহের অসুবিধা কমাতে ব্যাপকভাবে সহায়তা করেছে। 

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই সরকারের বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত ভারতীয় কোম্পানি আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর চুক্তি বাতিলের দাবি উঠে। ব্যাপক সমালোচনার পর সরকার অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন জাতীয় পর্যালোচনা কমিটি গঠন করেছে।

জানা গেছে, ইতোমধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য এরই মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার দফতর থেকে আদানির চিঠি বিদ্যুৎ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় আদানির বকেয়ার পরিমাণ ৫ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা। (এক ডলার সমান ১২৩ টাকা হিসাব করে)। গত জুলাইয়ে আদানির সব বকেয়া পরিশোধ করা হয়। এরপর নতুন করে এই পরিমাণ টাকা বকেয়া পড়েছে।

২০১৭ সালে ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের গোড্ডা জেলায় ১ হাজার ৪৯৮ মেগাওয়াট সক্ষমতার একটি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের চুক্তি করে তৎকালীন সরকার। একই বছর আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি করে পিডিবি। চুক্তি অনুযায়ী, এই কেন্দ্র থেকে ২৫ বছর বিদ্যুৎ কেনা হবে। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির দৈনিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ও আমদানির তথ্যানুযায়ী, গতকাল বিকেল ৫টায় ১৩১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর প্রধান উপদেষ্টাকে লেখা চিঠিতে আদানির চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, আদানি পাওয়ারের গোড্ডা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ১৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহে পিডিবির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। আমরা এ পর্যন্ত প্রাপ্ত অর্থ পরিশোধের বিষয়টি স্বীকার ও প্রশংসা করি। বিশেষ করে চলতি বছরের জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে পরিশোধিত অর্থ, যা আমাদের বকেয়া স্থিতি আংশিকভাবে কমাতে সাহায্য করেছে। একইভাবে জ্বালানি ও খুচরা যন্ত্রাংশ সংগ্রহের সঙ্গে সম্পর্কিত আমাদের অন্য সংস্থানগুলো পরিচালনায় কষ্ট লাঘব করতেও সাহায্য করেছে। তবে এখনো প্রায় ৪৬৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বকেয়া রয়েছে। এই বকেয়া পরিশোধে বিলম্ব আমাদের ঋণদাতা এবং অংশীদারদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরের ২৩ জুন পিডিবির কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আমাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে, লেট পেমেন্ট সারচার্জসহ সব বকেয়া ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পরিশোধ করা হবে। কিন্তু বর্তমান বকেয়াটি ঋণদাতাদের মধ্যে গুরুতর উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে। কারণ কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সূচি বা কোনো চূড়ান্ত পরিকল্পনা এখনো পিডিবি থেকে জানানো হয়নি। পিডিবির কাছ থেকে ৪৬৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পাওনা দ্রুত নিষ্পত্তির সুবিধার্থে আমি আপনার (প্রধান উপদেষ্টা) মূল্যবান হস্তক্ষেপ আন্তরিকভাবে কামনা করছি। আমরা আমাদের অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করতে এবং ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নত করতে আগ্রহী।

এদিকে, আদানির সঙ্গে পিডিবির কয়লার দাম নিয়ে বিরোধ এখনো অমীমাংসিত থেকে গেছে। মতবিরোধটি ঝাড়খণ্ড প্লান্টে উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রতি ইউনিট ব্যয় নিয়ে। গত জুনে একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে বিপিডিবি কর্মকর্তারা আদানির কয়লার মূল্য নির্ধারণের সূত্রটি ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য করার প্রস্তাব করেন। আদানি বিদ্যমান পিপিএর (বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি) নির্দিষ্ট শর্তাবলি উল্লেখ করে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। একই বৈঠকে আদানি প্লান্টের নির্ভরতাযোগ্য সক্ষমতা (ডিপেন্ডেবল ক্যাপাসিটি) সংশোধনের অনুরোধ করা হয়।

চিঠিতে প্রধান উপদেষ্টাকে কার্যক্রম এবং অর্থায়নের উপর আরও চাপ এড়াতে প্রাপ্য পরিমাণের দ্রুত নিষ্পত্তি সহজতর করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

চিঠি প্রাপ্তির বিষয়টি স্বীকার করে বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আদানির বকেয়া পাওনা পরিশোধের বিষয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বকেয়া টাকা কীভাবে পরিশোধ করা হবে, সেটি নিয়ে কাজ চলছে। পাশাপাশি সক্ষমতা সংশোধনের জন্য একটি সম্পূরক চুক্তির প্রয়োজন হবে। তারিখ নির্ধারিত না হলেও উভয় পক্ষই অমীমাংসিত সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য শিগগির একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করতে সম্মত হয়েছে।


বিপিডিবি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রেজাউল করিম বলেছেন, আমরা ইতিমধ্যেই আদানি পাওয়ারকে প্রস্তাব দিয়েছি যে কোম্পানি বিতর্কিত কয়লা শুল্ক পর্যালোচনা করতে সম্মত হলে তারা তাদের বিদ্যুতের একটি অংশ ভারতীয় বাজারে বিক্রি করতে পারে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, আগে তাদের যে বকেয়া ছিলো চলতি বছরে সব পরিশোধ করা হয়েছে। এখন যে বকেয়া জমা হয়েছে, তা লেটেস্ট। এটা নিয়ে পিডিবি কাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা চিন্তিত নই।

সময়ের আলো/জেডআই


  বিষয়:   বকেয়া বিল  পরিশোধ  বাংলাদেশ সরকার  ভারত  আদানি গ্রুপ  চেয়ারম্যান  গৌতম আদানি 


Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: