প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর শিশুদের মনোযোগ ধরে রাখা বাবা-মার জন্য আজকাল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার শামিল। শিশুকে খাওয়ানোর সময় ফোনে রিলস দেখা, টিভির সামনে ভিডিও গেমস দিয়ে শিশুকে বসিয়ে রাখা, ছোট থেকে ক্লাস ফাইভ-সিক্সের বাচ্চারাও এ ধাঁধায় আটকে গেছে। কার্টুন-গেমসের জগৎ ছেড়ে এরপর বই পড়ার অভ্যাস আয়ত্ত করতে বেগ পেতে হয় শিশুদের। বই পড়ায় আগ্রহ কম, পড়া মনে থাকে না, বার বার এসব অভিযোগ উঠে আসে। অন্য কাজেও মনোযোগের ঘাটতি চোখে পড়ে।
শিশুর সহজাত প্রকৃতি তুলে ধরে মনোবিদরা জানান, শিশুরা স্বভাবতই চঞ্চল। তাদের মনোযোগ এক জায়গায় ধরে রাখা কষ্টকর। তাই তাদের অভিভাবকদের ধৈর্য্যশীল হতে হবে। শুধু বকলেই হবে না, শিশুদের আবদার বুঝে টোটকা দিতে হবে। শিশুদের নিজে থেকে পড়ার মানসিকতা তৈরি এবং যে কোনো বিষয়ে মনোযোগ ধরে রাখার জন্য কিছু কৌশল মেনে চলতে হবে বাবা-মাকে।
১) ঘুম হতে হবে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত
সারাদিনের ক্লান্তির পর পর্যাপ্ত ঘুম মস্তিষ্কে প্রাণ ফিরিয়ে আনে, যে কোনো কাজেও সহজে মন বসে। শিশুদের একাগ্রতা বাড়াতে ঘুমের মান ভালো হওয়া প্রয়োজন। প্রতিদিন অন্ততপক্ষে ৯-১১ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন হয় শিশুদের।
২) প্রাণায়াম
শ্বাস-প্রশ্বাস্বের একরকম ব্যায়াম হলো প্রাণায়াম। হাঁটু ভাজ করে বসে একাগ্রচিত্তে মাইন্ডফুল ব্রিদিং করা হয়। কিন্তু শিশুদের এক জায়গায় বসিয়ে এ ভঙ্গিতে ব্যায়াম করানো কঠিন। তবুও হাল ছাড়া যাবে না অভিভাবকদের। প্রতিদিন অন্তত মিনিট পাঁচেক প্রাণায়ামের অভ্যাস শিশুদের করানো জরুরি।
৩) মাল্টিটাস্কিং বাদ দিতে হবে
শিশুদেরকে দিয়ে একসঙ্গে অনেক কাজ করানো যাবেনা। যেহেতু শিশুদের মস্তিষ্ক পূর্ণরূপে বিকশিত হয়নি সেহেতু তাদের একসঙ্গে অনেক কাজ সামাল দেওয়ার ক্ষমতা গড়ে ওঠেনি। এদিকে অভিভাবকদের নজর দিতে হবে, নাহলে কোনো কাজে শিশুরা ঠিকভাবে মনোযোগ দিতে পারবে না।
/ইউএমএইচ