জাতীয় মানবাধিকার কমিশনই গুম কমিশনের দায়িত্ব পালন করবে

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

জাতীয়

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, আমরা আলাদা করে গুম কমিশন করব না, মানবাধিকার কমিশন ওই

2025-10-30T19:31:24+00:00
2025-10-30T19:46:25+00:00
 
  শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬,
১৯ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনই গুম কমিশনের দায়িত্ব পালন করবে
উপদেষ্টা পরিষদের সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৫, ৭:৩১ পিএম  আপডেট: ৩০.১০.২০২৫ ৭:৪৬ পিএম
তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ছবি : বাসস
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, আমরা আলাদা করে গুম কমিশন করব না, মানবাধিকার কমিশন ওই দায়িত্ব পালন করবে, সেই বিধান আইনে রাখা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এক ব্রিফিংয়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি। এর আগে বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫’ এর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। 

এ প্রসঙ্গে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমাদের একটা মানবাধিকার কমিশন ছিল। এটা খুব দন্তহীন একটা প্রতিষ্ঠান ছিল এবং সেখানে গুরুতর কিছু সমস্যা ছিল। কমিশনে নিয়োগের যে পদ্ধতি, সেটার মধ্যে ত্রুটি ছিল। কমিশনের যে এখতিয়ার, সেখানে মারাত্মক ঘাটতি ছিল। এ ছাড়া, সেখানে এমন সব লোক বসানো হয়েছিল, তারা তাদের আইনগত এখতিয়ার প্রয়োগ করতে পারেননি বা করেননি।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই অধ্যাদেশকে অনেক বেশি শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছি। মানবাধিকার কমিশন যাতে সত্যিকারের এখতিইয়ার-সম্পন্ন, ক্ষমতা-সম্পন্ন প্রতিষ্ঠান হয় এবং যাতে মানবাধিকার লঙ্ঘন রোধে ভূমিকা রাখতে পারে, সেভাবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছি। নিয়োগ পদ্ধতি একটু বদলানো হয়েছে। একটা গণবিজ্ঞপ্তি যাবে, একইসঙ্গে কমিশনের জন্য কিছু নাম সংগ্রহ করা হবে। উচ্চ আদালতের বিচারকদের নিয়োগের মতই আইনটি করা হয়েছে। বাছাই কমিটি সাক্ষাৎকার নিয়ে নিয়োগ প্রদান করবে। আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সীমাবদ্ধতা ছিল। শৃঙ্খলা বাহিনীসহ আরও কিছু কিছু ক্ষেত্রে কমিশনের তদন্তের এখতিয়ারের ঘাটতি ছিল। আমরা বলেছি, শৃঙ্খলাবাহিনীসহ রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় সংঘটিত সব ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় কমিশনকে তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার এবং গুমের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা আইনসহ মানবাধিকার সংরক্ষণমূলক যে কোনো আইনের মূল দায়িত্ব মানবাধিকার কমিশনকে প্রদানের সুযোগ রাখা হয়েছে।’ 

আইন উপদেষ্টা জানান, অধ্যাদেশের কয়েকটা উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে– মানবাধিকারের সংজ্ঞা সম্প্রসারিত করে বাংলাদেশ কর্তৃক অনুসমর্থিত প্রচলিত আইন দ্বারা বলবতযোগ্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দলিলে ঘোষিত বা প্রথাগত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন দ্বারা স্বীকৃত মানবাধিকারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ, আমাদের সংবিধানে যে মৌলিক অধিকার আছে, তার বাইরেও বাংলাদেশ যেসব আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তি অনুসমর্থন করেছে বা পক্ষভুক্ত হয়েছে, এমনকি আন্তর্জাতিক আইনে মানবাধিকারের যেসব ধারণা আছে, সেগুলো বলবৎ করার ক্ষেত্রেও মানবাধিকার কমিশন ভূমিকা রাখতে পারবে। আর মানবাধিকার কমিশন গঠিত হবে একজন চেয়ারম্যান ও চারজন সার্বক্ষণিক সদস্য দ্বারা। 


প্রথমে বলা হয়েছে সাতজনের, কিন্তু আজকে সিদ্ধান্ত হয়েছে পাঁচজনের হবে। পাঁচজনই সার্বক্ষণিক থাকবেন। আর চেয়ারপারসন ও কমিশনারদের শূন্য পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ প্রদান করার জন্য আপিল বিভাগের একজন বিচারকের নেতৃত্বে সাত সদস্য বিশিষ্ট একটা বাছাই কমিটি করার বিধান করা হয়েছে। 

তিনি আরও জানান, গুম সংক্রান্ত আইন আজকে চূড়ান্ত করা যায়নি। সামনের সপ্তাহে আশা করি হয়ে যাবে। আমরা আসলে আলাদা করে গুম কমিশন করবো না, মানবাধিকার কমিশন ওই দায়িত্ব পালন করবে, সেই বিধান আইনে রাখা হয়েছে। 


সময়ের আলো/এনএ 


  বিষয়:   জাতীয় মানবাধিকার কমিশন  গুম কমিশন  উপদেষ্টা পরিষদ  চূড়ান্ত অনুমোদন 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: