অবৈধ ও অনিয়মিত স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে আগ্রহী আরও ৩১০ জন বাংলাদেশিকে দেশে পাঠালো লিবিয়ার সরকার। এর মধ্যে কয়েকজন অসুস্থ ও অপহরণের শিকার হয়ে উদ্ধার পরবর্তীতে দেশে ফিরলেন। শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৮টায় তাদের বহনকারী বিমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
এ নিয়ে একই প্রক্রিয়ায় চলতি মাসে তিনটি ফ্লাইটে ৯২৮ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন।
দূতাবাস জানায়, চার্টার ফ্লাইটে দু’জন নারীসহ দেশটির মিসরাতা শহরের ২১১ জন ও ত্রিপলির ৯৯জন অভিবাসী দেশে ফিরেন। বর্তমানে ত্রিপলী ও বেনগাজীতে আরও কিছু বাংলাদেশি আটক রয়েছেন। তাদেরও দ্রুত দেশে পাঠাতে কাজ করছে দূতাবাস।
দূতাবাস জানায়, লিবিয়া সরকারের সহযোগিতা ও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে মিসরাতা থেকে প্রত্যাবাসিত অভিবাসীদের গত ২৯ অক্টোবর ত্রিপলীর সরকারী অভ্যর্থনা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়।
এ সময় দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাদের প্রয়োজনীয় সবধরনের সহায়তা দেওয়া হয়। প্রত্যাবাসিত অভিবাসীরা শুক্রবার ফ্লাই ওইয়া এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এটি লিবিয়া সরকারের সহযোগিতায় পরিচালিত তৃতীয় বিশেষ চার্টার ফ্লাইট।
লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মুহাম্মদ খায়রুল বাশার ত্রিপলীর অভ্যর্থনা কেন্দ্রে উপস্থিত থেকে প্রত্যাবাসিত অভিবাসীদের বিদায় জানান। এ সময় দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মো. রাসেল মিয়া এবং অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রদূত অভিবাসীদের উদ্দেশে বলেন, ‘লিবিয়ায় বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় বাংলাদেশ দূতাবাস নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিপদগ্রস্ত ও অনিয়মিত অবস্থায় থাকা অভিবাসীদের মধ্য থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে যেতে ইচ্ছুকদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে দূতাবাস সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও সহানুভূতির সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।’
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ‘স্বেচ্ছা প্রত্যাবর্তনে আগ্রহী অভিবাসীদের দেশে পাঠানোর কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে দূতাবাস প্রথমবারের মতো লিবিয়া সরকারের সহযোগিতায় তিনটি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৯ অক্টোবর প্রথম ফ্লাইটে ৩০৯ জন, ২৩ অক্টোবর দ্বিতীয় ফ্লাইটে আরও ৩০৯ জন, এবং ৩০ অক্টোবর তৃতীয় ফ্লাইটে ৩১০ জনসহ মোট ৯২৮ জন বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়েছে। দূতাবাসের সক্রিয় উদ্যোগের ফলে এই অভিবাসীদের জেল ও জরিমানা মওকুফ করে নিরাপদে দেশে পাঠানো সম্ভব হয়েছে।’
এ ছাড়াও, অভিবাসীদের দেশে ফিরে দালাল চক্রের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণেরও আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মুহাম্মদ খায়রুল বাশার। বিদায়কালে রাষ্ট্রদূত লিবিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।
এ সময় তিনি লিবিয়ার জাতীয় ঐকমত্যের সরকার বিশেষ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মিসরাতা ও ত্রিপলীর স্থানীয় প্রশাসন, নিরাপত্তা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের আন্তরিক সহযোগিতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৭ হাজার ১৭১ জন বাংলাদেশিকে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে দেশে প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা করেছে।
সময়ের আলো/এনএ