ইসলামে রোজা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা মুসলমানদের জন্য আত্মবিশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের অন্যতম মাধ্যম। আল্লাহ রোজাদারের জন্য এক বিশেষ প্রতিদান রেখেছেন, জান্নাতে তাদের জন্য রয়েছে একটি বিশেষ প্রবেশপথ- রাইয়ান দরজা, যার মাধ্যমে কিয়ামতের দিন শুধুমাত্র রোজাদাররা প্রবেশ করতে পারবেন। মহানবী (সা.) বলেন, ‘জান্নাতে রাইয়ান নামক একটি দরজা রয়েছে, যা রোজাদারদের জন্য রাখা হয়েছে, তাদের ছাড়া অন্য কেউ এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না।’ (সহিহ বুখারি: ১৮৯৬)
এছাড়া, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রোজা রেখে ইন্তেকাল করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে’ (সহিহ আল-জামে: ৬২২৪)। এসব হাদিস রোজার গুরুত্ব এবং এর আত্মিক ফায়দা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
মহানবী (সা.) নিজের জীবনে নফল রোজা রাখার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন এবং সাহাবায়ে কেরামকেও এসব রোজা রাখার উৎসাহিত করতেন। তাঁর মধ্যে অন্যতম ছিল সোমবারের রোজা। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) সোম ও বৃহস্পতিবারে রোজা রাখাকে বিশেষভাবে প্রাধান্য দিতেন’ (সুনানে তিরমিজি: ১০২৭)।
আবু কাতাদাহ আনসারি (রা.) বলেন- একদিন রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে সোমবার রোজা রাখার কারণ জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেছিলেন, ‘এই দিনেই আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং এই দিনেই আমাকে নবুওয়াত দেওয়া হয়েছিল, অথবা এই দিনেই আমার ওপর কোরআন নাজিল হয়েছিল’ (সহিহ মুসলিম: ১১৬২)।
এছাড়া, হাফসা (রা.)-এর বর্ণনায় বলা হয়েছে, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতি মাসে তিন দিন নফল রোজা রাখতেন। এর মধ্যে ছিল সোমবার, যা তিনি নিয়মিত রাখতেন’ (সুনানে আবু দাউদ: ২৪৫১)।
আরও পড়ুন
রোজা শুধু শারীরিক তৃপ্তির মাধ্যম নয়, বরং এটি একজন মুসলমানের আত্মিক উন্নতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেছেন, ‘রোজা তোমাদের তাকওয়া অর্জনের জন্য’ (বাকারা: ১৮৩)। সোমবারের রোজা আমাদের জন্য একটি বড় সুযোগ হতে পারে তাকওয়া অর্জন ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের।
এএডি/