বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেছেন, রোগীদের সেবার সঙ্গে জড়িত নার্সদের যে করেই হোক রোগীদের মন জয় করতেই হবে। সঠিক ও উন্নত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় নার্সদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাসপাতালের নার্সিং ডেস্ক এমন একটি ডেস্ক যেখানে রোগী বা রোগীর আত্মীয়স্বজনরা সবাই প্রশ্ন করতে পারবেন। এই ডেস্ক থেকে কোনো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখানো যাবে না। রোগীর অসন্তুষ্টি দূর করার মূল দায়িত্বই নার্সদের।
বুধবার (১২ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘প্রশিক্ষণে বৃদ্ধি পাক সেবার মান’-এই স্লোগানকে ধারণ করে সেবার মানোন্নয়ন, রোগীর যত্ন ও হাসপাতাল শিষ্টাচার বিষয়ক দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএমইউর মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স অংশগ্রহণ করেন।
উপাচার্য বলেন, একজন যোগ্য ও গুণী নার্স সারা বিশ্বের সম্পদ। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পুরো পৃথিবীটাই তার জন্য উন্মুক্ত। দেশের নার্সদের স্বপ্নকে অনেক বিস্তৃত করতে হবে। তারা চাইলে পিএইচডি পর্যন্ত করতে পারেন। সে লক্ষ্যেই এগিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশের নার্সদের এমন গুণ ও যোগ্যতা অর্জন করতে হবে বা নিজেকে এমনভাবে তৈরি করতে হবে যে দেশের নার্স শুনলেই বিদেশে যেন তাদের আর ইন্টারভিউ দেওয়ার প্রয়োজন না হয়। এমন সুনাম অর্জন করতে হবে। নার্সদের সাফল্য ও সফলতার ওপরই নির্ভর করে রোগীর সন্তুষ্টি, উন্নত চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সাফল্য।
মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক মো. মাসুদ রানা বলেন, রোগীদের সেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে বিএমইউর বর্তমান প্রশাসন অত্যন্ত আন্তরিক ও নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা তারই অংশ। এর আগে বিএমইউর বহির্বিভাগে কর্মরত ১২০ জন সহায়ক কর্মচারীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এখন চলছে নার্সদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ‘টিম ওয়ার্ক অ্যান্ড স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট’ বিষয়ে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. দীপক কুমার মিত্র, ‘মোটিভেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন স্কিলস’ বিষয়ে বিএমইউর পরিচালক (হাসাপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইরতেকা রহমান, ‘হসপিটাল এটিকেয়েট’ বিষয়ে অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসিমুল ইসলাম, ‘রোলস অ্যান্ড রেসপনসিবিলিটিস ইন ওপিডি ইনফেকশন প্রিভেনশন অ্যান্ড হসপিটাল ক্লিননেস’ বিষয়ে গ্র্যাজুয়েট নার্সিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. হারুন অর রশিদ বিস্তারিত প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
এসকে/