ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আজ (সোমবার) মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এ রায় সরাসরি সম্প্রচার করা হবে গণমাধ্যমে।
বিটিভির মাধ্যমে রায়ের কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করবে দেশের সব গণমাধ্যম। দেখানো হবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সেও। এ ছাড়া ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বড় পর্দাতেও দেখানো হবে রায়ের কার্যক্রম।
চব্বিশের জুলাই গণহত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলার বিচারকাজ সরাসরি দেখাতে এরই মধ্যে ট্রাইব্যুনালে পৌঁছেছে সরকারি গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিশেষ টিম। সকাল ৮টার পর লাইভ সম্প্রচারের একটি টিম এসে পৌঁছায় ট্রাইব্যুনাল গেটে।
এ ছাড়া মূল ফটকের বাইরে অপেক্ষমান রয়েছেন দেশি-বিদেশি সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকরা
সোমবার (১৭ নভেম্বর) বেলা ১১টার পর ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ রায় ঘোষণা করা হবে।
যুক্তিতর্কে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছে প্রসিকিউশন। তবে রাজসাক্ষী হওয়ায় মামলার অন্যতম আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের ব্যাপারে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। যদিও তার খালাস চেয়েছেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ। হাসিনা-কামালও খালাস পাবেন বলে দৃঢ় বিশ্বাস রাষ্ট্রনিযুক্ত আমির হোসেনের।
এ মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। এর মধ্যে রয়েছে উসকানি, মারণাস্ত্র ব্যবহার, আবু সাঈদ হত্যা, চানখারপুলে হত্যা ও আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ মোট আট হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার। এর মধ্যে তথ্যসূত্র দুই হাজার ১৮ পৃষ্ঠার, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি চার হাজার পাঁচ পৃষ্ঠার ও শহীদদের তালিকার বিবরণ দুই হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠার। সাক্ষী করা হয়েছে ৮৪ জনকে। গত ১২ মে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এ মামলার প্রতিবেদন জমা দেয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
সময়ের আলো/জেডআই