ইসলামে ন্যায় বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব অপরিসীম। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা, আল্লাহর উদ্দেশে ন্যায় সাক্ষ্যদানে তোমরা অবিচল থেকো। কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন তোমাদের সুবিচার বর্জনে প্ররোচিত না করে। তোমরা ন্যায়বিচার করো, এটি আল্লাহভীতির নিকটতর। আল্লাহকে ভয় করো। তোমরা যা করো নিশ্চয়ই আল্লাহ সে সম্পর্কে খবর রাখেন।’ (সুরা মায়েদা, আয়াত : ৮)
মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ইনসাফ, সদাচার ও নিকটাত্মীয়দের দান করার আদেশ দেন এবং তিনি অশ্লীলতা, মন্দ কাজ ও সীমা লঙ্ঘন থেকে নিষেধ করেন। তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দেন, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ করো।’ (সুরা নাহাল, আয়াত : ৯০)
এই আয়াতে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের যেসব বিষয়ে আদেশ করেছেন, তার মধ্যে অন্যতম হলো, ন্যায়পরায়ণতা অবলম্বন করা। সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা।
ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা নবী-রাসুলদের গুণ। আল্লাহ তাঁদেরকে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন।আল্লাহ বলেন, ‘আমি ন্যায়বিচারের কিতাব এবং তা কার্যকর করার দায়িত্ব দিয়ে দুনিয়ায় সব রাসুল প্রেরণ করেছি।’ (সুরা হাদিদ, আয়াত : ২৫)
রাসুলুল্লাহ (সা.) ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে খুব সতর্ক ছিলেন। সাহাবিদেরও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে সর্বদা সতর্ক করতেন। এমনকি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টার প্রতি উদ্বুদ্ধ করতেন। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘স্বৈরাচারী শাসকের সামনে ন্যায়সংগত কথা বলাও উত্তম জিহাদ।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৩৪৪)
রাসুলুল্লাহ (সা.) ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে মুসলিম-অমুসলিম, অনুসারী বা বিরোধীর মাঝেও কোনো ধরনের প্রীতির আচরণ বরদাস্ত করতেন না। সমাজের উঁচু-নীচু সবার মাঝেও ন্যায় বিচার করতেন। বৈষম্যমূলক বিচারকে ধ্বংসের কারণ সাব্যস্ত করে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী যুগের মানুষ ধ্বংস হওয়ার একটি কারণ ছিল, তাদের সম্মানিত ব্যক্তিরা চুরি করলে ছাড় দেওয়া হতো। আর দুর্বল শ্রেণির কেউ চুরি করলে সাজা দেওয়া হতো।...এক ঘটনার প্রেক্ষিতে নবীজি ঘোষণা করেন, যদি আমার মেয়ে ফাতেমাও চুরি করত, তবু আমি তার হাত কেটে ফেলার নির্দেশ দিতাম। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৩০৪)
পরকালে ন্যায়পরায়ণ শাসককে জান্নাত দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নবী (সা.) বলেছেন, ‘বিচারক তিন প্রকার। এক প্রকার বিচারক জান্নাতি এবং অপর দুই প্রকার বিচারক জাহান্নামি। জান্নাতি বিচারক হলো, যে সত্যকে বুঝে তদানুযায়ী ফয়সালা দেয়। আর যে বিচারক সত্যকে জানার পর স্বীয় বিচারে জুলুম করে সে জাহান্নামি এবং যে বিচারক অজ্ঞতাপ্রসূত ফয়সালা দেয় সেও জাহান্নামি।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৫৭৩)
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) খেবে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যেদিন আল্লাহর রহমতের ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না, সেদিন (কিয়ামতের দিন) মহান আল্লাহতায়ালা সাত ব্যক্তিকে আরশের ছায়ায় আশ্রয় দেবেন। সে সাত ব্যক্তির মধ্যে এক ব্যক্তি হলেন ন্যায়পরায়ণ শাসক।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৪২৩)
আরআর