প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানদের ওপর নামাজ পড়া ফরজ। নামাজ ইসলামের মূল স্তম্ভের একটি। আল্লাহ বলেন, ‘নামাজ কায়েম করো, জাকাত দাও এবং নামাজে অবনত হও তাদের সঙ্গে, যারা অবনত হয়।’ (সুরা বাকারা, হাদিস: ৪৩)। আল্লাহতায়ালা আরও বলেন, ‘সব নামাজের প্রতি যত্নবান হও; বিশেষ করে, মধ্যবর্তী নামাজের ব্যাপারে। আর আল্লাহর সামনে একান্ত আদবের সঙ্গে দাঁড়াও।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৩৮)
নিজে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নামাজ আদায় করতে হবে। সেই সঙ্গে আত্মীয়স্বজন এবং পরিবার-পরিজনকেও নামাজ আদায় করার নির্দেশ দিতে হবে। আল্লাহতায়ালা মহানবী (সা.)-কে সম্বোধন করে বলেন, ‘আপনি আপনার পরিবারের লোকদের নামাজের আদেশ দিন এবং নিজেও এর ওপর অবিচল থাকুন।’ (সুরা তহা, আয়াত : ১৩২)
নামাজের জন্য আজানের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতিদিন পাঁচবার আজানের মাধ্যমে মুসল্লিদের নামাজের জন্য ডাকা হয়। আজানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং ভালবাসা স্থাপন প্রতিটি মুসলমানের ঈমানি দায়িত্ব। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন মুয়াজ্জিনের ঘাড় সবার উঁচুতে থাকবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৩৮৭)
নামাজ ওয়াক্তমতো আদায় করা জরুরি। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘নির্ধারিত সময়ে সালাত আদায় করা মুমিনদের জন্য অবশ্যকর্তব্য।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ১০৩)। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নির্ধারিত সময়ে আদায় করতে হবে। এর আগে আদায় করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
নামাজের ওয়াক্ত হয়ে গেলে আজানের আগে নামাজ পড়তে কোনো সমস্যা নেই। নামাজ হবে। মূলত আজানের সম্পর্ক ফরজের জামাতের সঙ্গে। ফরজ নামাজ জামাতে পড়ার আহ্বানই হলো আজান। একাকী নামাজ পড়ার ক্ষেত্রে আজান হওয়া জরুরি নয়। ওয়াক্ত শুরু হওয়াটা জরুরি।
সময়মতো নামাজ আদায়কে সর্বোত্তম আমল বলে অভিহিত করা হয়েছে। হজরত উম্মু ফারওয়া (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে সর্বোত্তম আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘নামাজের সময় ওয়াক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নামাজ আদায় করা।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৪২৬)
আরআর