দিল্লি সফররত জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বুধবার (১৯ নভেম্বর) দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তারা কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভ (সিএসসি) এবং গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। উপদেষ্টা খলিলুর রহমান মূলত সিএসসি’র সপ্তম জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পর্যায়ের বৈঠক অংশ নিতে গত মঙ্গলবার দিল্লি গেছেন।
ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশের হাইকমিশন বুধবার এক বার্তায় জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভের (সিএসসি) সপ্তম জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পর্যায়ের বৈঠকে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল আজ দিল্লিতে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং তার দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তারা সিএসসির কর্মকাণ্ড এবং গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। বার্তায় আরও বলা হয়, ড. রহমান মি. দোভালকে তার সুবিধামত সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, দিল্লি সফররত জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান ও ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের এই বৈঠকটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দুইপক্ষের মধ্যে সম্পর্কে যে টানাপোড়েন চলছে তা মেরামতের বিষয়ে এই বৈঠকে দুইজনের মধ্যে আলাপ হওয়ার কথা। পাশাপাশি ভারতের আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রদানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং অন্যান্যদের বিষয়েও দুইজনের মধ্যে আলাপ হওয়া স্বাভাবিক।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালকে দোষী সাব্যস্ত করে গত সোমবার রায় ঘোষণা করা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত এই দুইজনই বর্তমানে ভারতের অবস্থান করছেন। রায়ের পরপরই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বার্তায় জানিয়েছে, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আজকের (গত সোমবার) রায়ে পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল জুলাই হত্যাকান্ডের জন্য অপরাধী সাব্যস্ত হয়েছেন এবং দন্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত এই ব্যক্তিদের দ্বিতীয় কোনো দেশ আশ্রয় দিলে তা হবে অত্যন্ত অবন্ধুসুলভ আচরণ এবং ন্যায়বিচারের প্রতি অবজ্ঞার সামিল। আমরা ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই তারা যেন অনতিবিলম্বে দণ্ডপ্রাপ্ত এই দুই ব্যক্তিকে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন। দুই দেশের মধ্যে বিরাজমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে এটি ভারতের জন্য অবশ্য পালনীয় দায়িত্বও বটে।’
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরাতে ভারতের কাছে চিঠি দেওয়া হচ্ছে। খুব দ্রুতই এই চিঠি যাবে। এর আগে শেখ হাসিনাকে ফেরাতে যে চিঠি দেওয়া হয়েছিল, সেই চিঠির জবাব আসেনি। তবে, এখন তো পরিস্থিতি আরেক রকম। এখন শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তাদের (ভারত) সঙ্গে আমাদের চুক্তিও আছে। তাকে ফেরত আনতে অফিসিয়ালি আমরা চিঠি দেব।
সময়ের আলো/এনএ