দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’ উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আরও শক্তি সঞ্চয় করছে।
এর প্রভাবে দেশের চারটি প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রাকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর বর্তমানে খুবই উত্তাল রয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে (নং-৯) এই জরুরি তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর।
আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হকের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন শ্রীলঙ্কা উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’ উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।
আবহাওয়া অধিদফতরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’ দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৮৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৮১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৭৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৭৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি আরও উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিমির মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিমি। যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিমি পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর (পুন.) ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
সংস্থাটি জানায়, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে বিচরণ না করতে কঠোরভাবে বলা হয়েছে। এ ছাড়া সব নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
এফআর