শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়া’য় ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শ্রীলঙ্কার এই দুঃসময়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। আগামী ৩ ডিসেম্বর, বুধবার বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর দুটি বিশেষ বিমানযোগে জরুরি ভিত্তিতে শ্রীলঙ্কায় মানবিক সহায়তা হিসেবে ত্রাণসামগ্রী ও উদ্ধারকারী দল পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রধান উপদেষ্টার সদয় নির্দেশক্রমে বাংলাদেশ সরকার (আবহাওয়া অনুকূল থাকলে) আগামী ৩ ডিসেম্বর মানবিক সহায়তা হিসেবে ত্রাণসামগ্রী ও উদ্ধারকারী দল বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর দুটি বিশেষ বিমানযোগে জরুরি ভিত্তিতে শ্রীলঙ্কায় প্রেরণ করবে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বিজিএমইএ, এসেনশিয়াল ড্রাগস্ কোম্পানি লিমিটেড এ বিষয়ে একযোগে কাজ করছে।
সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়া’র প্রভাবে দেশটিতে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত ৩৫৫ জন নিহত হয়েছেন এবং কমপক্ষে ৩৬৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। উক্ত বন্যায় শ্রীলঙ্কায় ২০ হাজারের অধিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার মানুষকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলের কাছে সহায়তার আবেদন জানিয়েছে দেশটির সরকার।
উল্লেখ্য, অতীতেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ অন্যান্য যে কোনও মানবিক বিপর্যয় মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকার দ্রুত সাড়া দিয়ে মানবিক সহায়তা প্রেরণ করেছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়া’য় ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। গত শুক্রবার শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে পাঠানো এক বার্তায় তিনি নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।
শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে পাঠানো এক বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শ্রীলঙ্কায় আঘাত হানা আবহাওয়াজনিত দুর্যোগগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম ভয়াবহ। বিপর্যস্ত পরিবারগুলোর দুঃখ-কষ্টে বাংলাদেশের জনগণ ও সরকার শ্রীলঙ্কার পাশে রয়েছে। এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশের জনগণ শ্রীলঙ্কার বন্ধুসুলভ মানুষের পাশে রয়েছে। প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ বন্যা ব্যবস্থাপনা, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান, চিকিৎসা সহায়তা এবং অন্যান্য মানবিক সহায়তাসহ যে কোনো ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।’
সময়ের আলো/এনএ