চাকরিজীবনে মাঝেমধ্যে কাজের গতি কমে যাওয়া বা আগ্রহের অভাব দেখা যায়। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই চাকরি বদলের কথা ভাবেন। তবে চাকরি না ছেড়েও কাজের পরিবেশ ও মানসিকতা পরিবর্তন করে একঘেয়েমি কাটিয়ে তোলা সম্ভব।
মূল কথা দেশে কর্মসংস্কৃতি পরিবর্তিত হচ্ছে, প্রত্যাশা বাড়ছে এবং সেইসঙ্গে বাড়ছে ক্লান্তিও। কেন আপনি কাজে আগ্রহ খুঁজে পান না, চলুন জেনে নেওয়া যাক তেমন কিছু কারণ..
১. একই কাজে আটকে থাকা
সবচেয়ে বড় প্রেরণা-নষ্টকারী বিষয় হলো স্থবিরতা। যদি বছরের পর বছর ধরে আপনার ভূমিকার কোনো পরিবর্তন না হয়, বেতন খুব বেশি না বাড়ে, অথবা দায়িত্বের পুনরাবৃত্তি মনে হয়, তাহলে মস্তিষ্ক স্বাভাবিকভাবেই অটোপাইলটে চলে যায়। আপনি কঠোর পরিশ্রম করেন কিন্তু চাকরির পদবি একই থেকে যাচ্ছে। অথবা পরবর্তী স্তরটি কেমন হবে সে সম্পর্কে কোনো স্পষ্টতা নেই। আপনি অনুপ্রেরণা হারাচ্ছেন কারণ আপনার মস্তিষ্কের লক্ষ্য প্রয়োজন। প্রয়োজন অর্জন, গতিবিধি। যখন আপনি অগ্রগতি দেখতে পান না, তখন অবচেতন মন সিদ্ধান্ত নেয় যে মানসিক শক্তি বিনিয়োগ করার কোনো অর্থ নেই।
২. অজান্তেই আপনি ক্লান্ত
বার্নআউট এতটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে আমরা আর এটা বুঝতেও পারি না। সপ্তাহান্তে কাজ করা? রাতের খাবারের সময় অফিসের ফোন আসা? রাত ১১ টায় ইমেলের উত্তর দেওয়া? এই সবই চুপচাপ আপনার শক্তি নষ্ট করে দেয় দিচ্ছে। বার্নআউট সবসময় নাটকীয় লক্ষণ প্রকাশ করে না। হয়তো ভালো ঘুমের পরেও আপনি ক্লান্ত হয়েই জেগে ওঠেন। অথবা নিজেকে কাজ চালিয়ে যেতে বাধ্য করেন কিন্তু মানসিকভাবে থাকেন বিচ্ছিন্ন। যখন আমাদের মস্তিষ্ক ক্রমাগত গো মোডে থাকে, তখন প্রেরণা কমে যায়। কারণ আমাদের সৃজনশীলতা বা উৎসাহের জন্য মানসিক স্থান অবশিষ্ট থাকে না।
৩. মনের মতো কাজ না পাওয়া
অধিকাংশ মানুষই তার ক্যারিয়ারের পথ বেছে নেওয়ার সুযোগ পায় না। পারিবারিক চাপ, চাকরির নিরাপত্তা, বেতনের উদ্বেগ, এগুলো মানুষকে এমন ভূমিকায় ঠেলে দেয় যা তাদের শক্তি বা আবেগের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। একটা সময়ের পর, এমনকি সেরা সুযোগ-সুবিধাও এমন কাজের ক্ষতিপূরণ দিতে পারে না যাতে আপনার আগ্রহ নেই। প্রতিটি কাজ মনের মতো হবে বলে আশা করা ঠিক নয়। কিন্তু যদি আপনার চাকরি অর্থহীন মনে হয়, দক্ষতার সঙ্গে না মেলে, অথবা ক্রমাগত আপনাকে ক্লান্ত করে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই আপনার প্রেরণা শূন্যে নেমে আসবে।
৪. কাজের পরিবেশ সহায়ক নয়
সবচেয়ে প্রতিভাবান ব্যক্তিও টক্সিক পরিবেশে প্রেরণা হারিয়ে ফেলে। যদি আপনার ম্যানেজার বিনয়ী না হয়, আপনার টিম সহযোগিতার পরিবর্তে প্রতিযোগিতামূলক হয়, অথবা অফিসের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ক্রমাগত নাটকীয়তা থাকে, তাহলে এটি সরাসরি আপনার উৎসাহকে প্রভাবিত করবে। সেখানে নিজেকে গুরুত্বহীন মনে হতে শুরু করবে। অনেক অফিস রয়েছে যেখানে জুনিয়রদের প্রশংসা করা হয় না, মতামত শোনা হয় না এবং নিরাপত্তাহীনতা উপর থেকে নিচে নেমে আসে। ফলাফল হিসেবে আপনি শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকলেও মানসিকভাবে দিনদিন তলানিতে চলে যেতে থাকেন।
৫. নিয়মিত বিরতি নিন
অনেকেই কাজের ফাঁকে বিরতি না নিয়ে ডেস্কে বসেই খাবার খান। কিন্তু নিয়মিত বিরতি নেওয়া মানসিক স্বাস্থ্য ও কাজের উৎপাদনশীলতার জন্য খুবই জরুরি। কাজের সময় প্রতিদিন একটা লাঞ্চ ব্রেক নিন এবং বাসা থেকে স্বাস্থ্যকর খাবার আনতে পারেন বা বাইরে খেতে যেতে পারেন। লাঞ্চ বা বিরতির সময় বাইরে একটু হেঁটে আসতে পারেন, কিংবা পছন্দের কাজ যেমন বই পড়া বা গান শুনতে পারেন।
এ ছাড়া প্রতিদিনের কাজের মধ্যে ছোট ছোট বিরতি নিন। অফিসের বাইরে হেঁটে আসতে বা বাইরে গিয়ে একটু দাঁড়াতে পারেন। এগুলোও উপকারী হতে পারে। একঘেয়ে বা পুনরাবৃত্তিমূলক কাজে দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন, আর ছোট বিরতি আপনাকে মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করবে।
সময়ের আলো/এআর