২১ নভেম্বর ২০২৫ -দেশে ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে ওইদিন। যার উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকার কাছের নরসিংদীর মাধবদী। রিখটার স্কেলে ৫.৭ মাত্রার এ ভূমিকম্পে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এই ভূমিকম্পের পরপরই ঢাকার বেশ কয়েকটি স্থানে একের পর এক ছোটো ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা এ সব কম্পনকে ‘আফটারশক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কবির জানান, ২১ নভেম্বরের শক্তিশালী ভূমিকম্পের পরপরই ছোট ছোট মৃদু ভূমিকম্পগুলো ঘটছে, যা সাধারণত আফটারশক হিসেবে দেখা যায়। তিনি আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা এসব কম্পনকে আফটারশক হিসেবে গণ্য করছি, তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও ভূমিকম্প হতে পারে।’
ভূমিকম্পের সিরিজ:২১ নভেম্বরসকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প
উৎপত্তিস্থল: নরসিংদীর মাধবদী
২২ নভেম্বরসকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে ৩.৩ মাত্রার ভূমিকম্প
উৎপত্তিস্থল: নরসিংদী
সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে ৪.৩ মাত্রার ভূমিকম্প
উৎপত্তিস্থল: নরসিংদী (১১ কিমি পশ্চিম)
সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিটে ৩.৭ মাত্রার ভূমিকম্প
উৎপত্তিস্থল: নরসিংদী
২৭ নভেম্বর
বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে ৩.৬ মাত্রার ভূমিকম্প
উৎপত্তিস্থল: নরসিংদীর ঘোড়াশাল
৪ ডিসেম্বর
ভোর ৬টা ১৪ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডে ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্প
উৎপত্তিস্থল: নরসিংদীর শিবপুর
আরও পড়ুন
এই ধরণের ভূমিকম্পের পুনরাবৃত্তি বিশেষজ্ঞদের মতে একটি বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস হতে পারে। বাংলাদেশের ভূতাত্ত্বিক অবস্থা ও সক্রিয় প্লেট সীমান্তের কারণে যে কোনো সময় বড় ধরনের ভূমিকম্প হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, বাংলাদেশের ভূমিকম্পের প্রধান উৎস দুটি-১. ডাউকি ফল্ট: যা ময়মনসিংহ থেকে জামালগঞ্জ, সিলেট অঞ্চলে বিস্তৃত এবং প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ।
২. সিলেট থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত প্লেট সীমান্ত: এটি ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা পর্যন্ত বিস্তৃত এবং বিশেষজ্ঞরা একে খুব ভয়ংকর মনে করেন।
বাংলাদেশের ভূমিকম্প ঝুঁকি সম্পর্কে জরিপে দেখা গেছে, ঢাকার দক্ষিণাঞ্চলে ভূমিকম্পের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। বিশেষত, কাঠামোগত দুর্বলতা ও উদ্ধারকাজের সীমাবদ্ধতার কারণে দক্ষিণাঞ্চলের এলাকায় বিপর্যয়ের আশঙ্কা বেশি। ঢাকা উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি এলাকা যেমন- কাফরুল, ইব্রাহিমপুর, কল্যাণপুর, মানিকদী, গাবতলীও উচ্চ ঝুঁকির আওতায় রয়েছে।
ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকা ভূমিকম্পের ঝুঁকির মুখে রয়েছে। জরিপ অনুযায়ী- সবুজবাগ, কামরাঙ্গীরচর, হাজারীবাগ, কাফরুল, কল্যাণপুর, গাবতলী, উত্তরা, শ্যামপুর, পল্লবী, খিলগাঁও, বাড্ডাসহ ১৫টি এলাকার বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জরুরি। ঢাকার শহরতলির বিভিন্ন অঞ্চলে দুর্বল কাঠামো এবং উদ্ধারকাজের সীমাবদ্ধতা এই এলাকায় বিপদের মাত্রা বাড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ঢাকার আশপাশের এলাকায় এই আফটারশকগুলো চলতে থাকতে পারে এবং ভবিষ্যতে বড় ধরনের ভূমিকম্পেরও সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে জরুরি প্রস্তুতি গ্রহণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা উচিত।
এএডি/