কমছে পোশাক রফতানি

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

দেশের মোট রফতানির ৮০ শতাংশ তৈরি পোশাক। টানা চার মাস ধরে তৈরি পোশাকের রফতানি কমলেও অর্থবছরের শুরুটা হয়েছিল দুর্দান্ত। গত

2025-12-05T23:02:56+00:00
2025-12-05T23:02:56+00:00
 
  শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬,
২০ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
অর্থনীতি
কমছে পোশাক রফতানি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:০২ পিএম 
কমছে পোশাক রফতানি। ছবি : সংগৃহীত
দেশের মোট রফতানির ৮০ শতাংশ তৈরি পোশাক। টানা চার মাস ধরে তৈরি পোশাকের রফতানি কমলেও অর্থবছরের শুরুটা হয়েছিল দুর্দান্ত। গত জুলাইয়ে ৩৯৬ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল সাড়ে ২৪ শতাংশ। পরের মাসে রফতানি কমে পৌনে ৫ শতাংশ। আর সেপ্টেম্বরে কমেছিল প্রায় সাড়ে ৫ শতাংশ। অক্টোবরে রফতানি হয় ৩০২ কোটি ডলার এবং সবশেষ নভেম্বরে রফতানি হয়েছে ৩১৪ কোটি ডলার, যা গত বছরের নভেম্বরের তুলনায় ৫ শতাংশ কম। 

ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত নভেম্বরে নিটওয়্যার ও ওভেন উভয় ধরনের তৈরি পোশাক, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, হিমায়িত চিংড়ি, প্লাস্টিক ও হোম টেক্সটাইল পণ্যের রফতানি কমেছে। তবে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, চামড়াবিহীন জুতা, ওষুধ ও প্রকৌশল পণ্যের রফতানি বেড়েছে। মূলত তৈরি পোশাকের রফতানি ৫ শতাংশ কমে যাওয়ায় সামগ্রিক পণ্য রফতানি নেতিবাচক ধারায় চলে গেছে।

ইপিবির তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে ১ হাজার ৬১৩ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছে। এই রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দশমিক ০৯ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে রফতানি হয়েছিল ১ হাজার ৬১২ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক।

দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পণ্য রফতানি খাত বর্তমানে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য। চলতি অর্থবছর এখন পর্যন্ত ইতিবাচক ধারায় আছে এই খাতের রফতানি। গত জুলাই-নভেম্বরে রফতানি হয়েছে ৫১ কোটি ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য। এই রফতানি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি।

পণ্য রফতানিতে তৃতীয় শীর্ষ খাত কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে ৪৬ কোটি ডলারের কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য রফতানি হয়েছে। এই রফতানি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় পৌনে ৬ দশমিক ৮১ শতাংশ কম।

দেশের পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি এখনও ইতিবাচক ধারায় আছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে ৩৪ কোটি ৬৩ লাখ ডলারের পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি হয়েছে। এই রফতানি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেশি। শুধু গত মাসে ৬ কোটি ৮৯ লাখের ডলারের পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি হয়েছে। 

এদিকে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস রফতানি খাতের মোট আয়েও এখন স্বস্তি নেই। টানা ৪ মাস ধরে পণ্য রফতানি কমেছে। সদ্য সমাপ্ত নভেম্বর মাসে রফতানি হয়েছে ৩৮৯ কোটি ডলারের পণ্য। এই রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ কম। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে প্রায় ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। তারপর তিন মাস, অর্থাৎ আগস্টে ২ দশমিক ৯৩ শতাংশ, সেপ্টেম্বরে ৪ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং অক্টোবরে পণ্য রফতানি কমেছে ৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এতে করে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) সামগ্রিক পণ্য রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র দশমিক ৬২ শতাংশ। যদিও গত অর্থবছর পণ্য রফতানি বেড়েছিল সাড়ে ৮ শতাংশ।


রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে ২ হাজার ৩ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। এই রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি। গত বছর প্রথম পাঁচ মাসে রফতানি হয়েছিল এক হাজার ৯৯১ কোটি ডলার।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৪ সালের জুলাইজুড়েই চলেছে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলন। আগস্টে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিলেও বেশ কয়েক মাস ধরেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কার্যত ভঙ্গুর ছিল। স্বাভাবিকভাবেই সে সময় রফতানিতে কিছুটা ভাটা পড়েছিল। কিন্তু চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে। দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমও তুলনামূলক বেড়েছে। এর পরও ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরে রফতানি আয় না বেড়ে উল্টো কমে যাওয়াটা উদ্বেগজনক।

এ প্রসঙ্গে এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএবি) ও বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘রফতানি খাতে আগামী দুই-তিন মাস নেতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে। কারণ এখনও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। সবচেয়ে বেশি সমস্যার কারণ ব্যাংক খাত, এ ছাড়া রয়েছে কাস্টমসের নানা সমস্যা।’

সময়ের আলো/জেডআই


  বিষয়:   রফতানি  পোশাক  জুলাই  পোশাক রফতানি 


Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: