দেশে এখনো ৩৫ লাখ শিশু শ্রমে নিয়োজিত এবং তাদের মধ্যে লক্ষাধিক শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছে। শ্রম আইন সংশোধনের পরেও ওই শিশুদের ৯৯ শতাংশই আইনি বিধি-নিষেধের বাইরে রয়েছে। কারণ তারা অনানুষ্ঠানিক খাতে শ্রম দিচ্ছে। শিশুশ্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে আবারও আইন সংশোধন করা প্রয়োজন।
রোববার (৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশে শিশুশ্রম সর্ম্পকিত আইন ও নীতিমালা শক্তিশালীকরণে প্রস্তাবিত নীতি শেয়ারিং অনুষ্ঠানে এ তথ্য তুলে ধরেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নাজমুজ্জামান ভুইয়া। এডুকো বাংলাদেশ ও চাইল্ড লেবার ইলিমিনেশন প্ল্যাটফর্ম (ক্ল্যাপ) আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এডুকো বাংলাদেশের ব্যবস্থাপক আফজাল কবির খান।
বাংলাদেশ লেবার ফাউন্ডেশনের (বিএলএফ) নির্বাহী পরিচালক এ কে এম আশরাফ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেন শ্রম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, চাইল্ড লেবার মনিটরিং কাউন্সিলের কো-চেয়ার অ্যাডভোকেট সালমা আলী, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির (বিএনডব্লিউএলএ) সভাপতি অ্যাডভোকেট সীমা জহুর, এডুকো বাংলাদেশের প্রোগ্রাম পরিচালক আব্দুর রহিম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে মূল উপস্থাপনায় বাংলাদেশের শিশুশ্রম পরিস্থিতি এবং শিশুশ্রম নিরসনে সরকারের নীতিমালা ও যেসব নীতিমালা হাতে নিলে এই সমস্যা থেকে উত্তরণ সম্ভব, সে বিষয়গুলো তুলে ধরে ড. মো. নাজমুজ্জামান ভুইয়া বলেন, সংশোধিত শ্রম আইনে অনুষ্ঠানিক খাতে এমন কোনো ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়নি, যেখানে ৯৯ শতাংশ শিশু অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করে। অতএব, অনানুষ্ঠানিক খাতে শিশুশ্রমের মজুরি নির্ধারণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক উভয় খাতেই নিযুক্ত শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের জন্য জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করার সুপারিশ করেন।
তিনি বলেন, জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (এনপিএ) ইতিমধ্যেই ২০১৬ সালে তার মেয়াদ শেষ করলেও লক্ষ্যর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। সর্বশেষ জাতীয় শিক্ষানীতিতে বাধ্যতামূলক শিক্ষার বয়স পঞ্চম শ্রেণী (বয়স ১০) থেকে অষ্টম শ্রেণি (বয়স ১৪) পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে নতুন বাধ্যতামূলক শিক্ষার বয়স কার্যকর করতে আইন সংশোধন করা প্রয়োজন। সংশোধন না করা পর্যন্ত এই নীতিটি কার্যকর করা যাবে না। অথচ ১১ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুরা সবচেয়ে খারাপ ধরনের শিশুশ্রমের ঝুঁকিতে রয়েছে। এমনকি তারা স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাকে বিপন্ন করে এমন কার্যকলাপে জড়িত হতে পারে। শিশুশ্রম নির্মূলে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি এবং শিশুশ্রমের প্রতি সকলের মনোভাব ও আচরণগত পরিবর্তন করার আহ্বান জানান তিনি।
যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, দেশের একটি অন্যতম সামাজিক সমস্যা হচ্ছে শিশুশ্রম। শিশুশ্রমের মূল কারণ দারিদ্রতা। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কর্মতৎপরতার পরেও আমাদের দেশে এখনো অনেক শিশু বেঁচে থাকার তাগিদে এ শ্রমে নিযুক্ত হয়। বর্তমান সরকার শিশুশ্রম নিরসনের ব্যাপারে খুবই ইতিবাচক। কিন্তু সরকারের একার পক্ষে এই কাজে সফলতা অর্জন সম্ভব নয়। তাই সম্মিলতি প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। এজন্য শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়নে সব প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আরআর