বিজিএমইএ নেতাদের ভারতস্থ মঙ্গোলিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির সঙ্গে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা হবে। ভারতস্থ মঙ্গোলিয়ার রাষ্ট্রদূত গানবোল্ড দামবাজাভ শুক্রবার বাংলাদেশের পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
ঢাকার উত্তরাস্থ বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার এবং বিশেষত বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। মঙ্গোলিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন মঙ্গোলিয়ায় বাংলাদেশের অনারারি কনস্যুল জেনারেল নাসরিন ফাতেমা আউয়াল।
বিজিএমইএর পক্ষে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমানের নেতৃত্বে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, পরিচালক নাফিস-উদ-দৌলা, পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম, কাজী মিজানুর রহমান, পরিচালক আসেফ কামাল পাশা, পরিচালক রুমানা রশীদ এবং পরিচালক সামিহা আজিম।
বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মঙ্গোলিয়ার রাষ্ট্রদূতকে বিজিএমইএ দফতরে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, বিজিএমইএ রফতানি বাজার বৈচিত্র্যকরণের উদ্যোগ নিয়েছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে মঙ্গোলিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে শুক্রবারের বৈঠক শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ।
বৈঠকে মঙ্গোলিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের একাধিক সম্ভাবনাময় খাত নিয়ে আলোচনা হয়, যা বাংলাদেশের পোশাক ও অন্যান্য শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মঙ্গোলিয়ার রাষ্ট্রদূত গানবোল্ড দামবাজাভ বলেন, মঙ্গোলিয়া তার কাশ্মিরি (কাশ্মিরি উল দিয়ে তৈরি পোশাক) ও চামড়া রফতানি সম্প্রসারণে অংশীদার খুঁজছে এবং এই পণ্যগুলোতে মূল্য সংযোজন কর , সেসঙ্গে টেক্সটাইল উৎপাদন এবং যৌথ প্রক্রিয়াকরণের জন্য বাংলাদেশকে একটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক অংশীদার হিসেবে দেখছে। তিনি বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের মঙ্গোলিয়ায় কৌশলগত খনিজদ্রব্য, মূল্য সংযোজন কর এবং লজিস্টিক প্রভৃতি খাতে সরাসরি বিনিয়োগে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানান।
তিনি জানান, মঙ্গোলিয়ার সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশের ইপিএ করা আছে। এর ফলে, বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা মঙ্গোলিয়ায় বিনিয়োগের মাধ্যমে ইউরোপীয় এবং জাপানের বাজারে শুল্ক সংক্রান্ত সুবিধা নিয়ে প্রবেশ করার সুযোগ পাবেন।
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত মঙ্গোলিয়ায় নির্মাণশিল্প, সড়ক ও মহাসড়ক উন্নয়ন, রেল উন্নয়ন, কৃষি, মাইনিং প্রভৃতি খাতে দক্ষক্ষ শ্রমিকের বিপুল চাহিদা তুলে ধরে বলেন যে বাংলাদেশ এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারে। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণে বিজিএমইএ এবং মঙ্গোলিয়ান চেম্বার অব কমার্সের মধ্যে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরত্ব আরোপ করা হয়।
সময়ের আলো/জেডআই