মার্কিন বাজারে পোশাক রফতানির প্রবৃদ্ধিতে শীর্ষে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। চলতি বছরের ৯ মাসে দেশটিতে পোশাক রফতানির প্রবৃদ্ধিতে সবার

2025-12-14T22:53:30+00:00
2025-12-14T22:53:30+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬,
১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
অর্থনীতি
মার্কিন বাজারে পোশাক রফতানির প্রবৃদ্ধিতে শীর্ষে বাংলাদেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:৫৩ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। চলতি বছরের ৯ মাসে দেশটিতে পোশাক রফতানির প্রবৃদ্ধিতে সবার ওপরে রয়েছে বাংলাদেশ। এ সময় দেশটিতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি বেড়েছে ১৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এই প্রবৃদ্ধি প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, চীন, পাকিস্তান এবং ভারতের চেয়ে অনেক বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের অধীন ইউএস অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (ওটেক্সা) প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক চাপ এড়িয়ে ২০২৫ সালের প্রথম ৯ মাসে দ্বিশতক বা ডাবল ডিজিটে ১৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ বৃদ্ধি দেখিয়েছে বাংলাদেশ। এটি প্রধান প্রতিযোগীদের মধ্যে সর্বোচ্চ। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি হিসাব অনুযায়ী চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়কালে রফতানি মান এবং পরিমাণ দুটোই বৃদ্ধি পেয়েছে।

ওটেক্সার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী এই সময়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি আয় করেছে ৬ দশমিক ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২০২৪ সালের একই সময়ে ৫ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ১৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেশি।

প্রতিবেদনকালে বাংলাদেশের রফতানির বৃদ্ধি বিশ্ব গড়ের ১ দশমিক ৭৪ শতাংশকে ছাড়িয়ে গেছে এবং প্রধান প্রতিযোগীদের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এগিয়ে আছে; তবে ভিয়েতনাম শীর্ষ রফতানিকারকের অবস্থান ধরে রেখেছে।

অন্যদিকে রফতানিকারীরা জানাচ্ছেন, ওটেক্সা সেপ্টেম্বরের তথ্য প্রকাশ করেছে যা আগের দুই মাসের চালানকে প্রতিফলিত করে। মার্কিন শুল্ক ব্যবস্থা ৭ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়ায় আসল প্রভাব দেখার জন্য আরও দুই মাস অপেক্ষা করতে হবে।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট ২০২৫ থেকে সামগ্রিক তৈরি পোশাক রফতানি চার মাস ধরে ধীরগতিতে কমতে শুরু করেছে। জানুয়ারি-সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ ২ দশমিক শূন্য ৭ বিলিয়ন বর্গমিটার তৈরি পোশাক যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়েছে, যা ২০২৪ সালের একই সময়ে পাঠানো ১ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন বর্গমিটারের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক তৈরি পোশাক আমদানি একই সময়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের ৫৯ দশমিক ৩১ বিলিয়নের তুলনায় বৃদ্ধি। ভিয়েতনাম প্রথম ৯ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানিতে শীর্ষে থেকে ১২ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার রফতানি করেছে, যা ১৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ বৃদ্ধি। চীনের অবস্থান দ্বিতীয় স্থানে নেমে ৮ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ২৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ হ্রাস, প্রধানত শুল্ক বৃদ্ধি ও ভূরাজনৈতিক চাপের কারণে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের শীর্ষ বাজার। প্রতিযোগী দেশগুলোর চেয়ে এ বাজারে পোশাক রফতানিতে আমরা বেশ ভালো অবস্থানে আছি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বৃদ্ধি আরও বেশি করা সম্ভব। যদি রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকে তা হলে রফতানি বড় মাত্রায় বাড়তে পারে। বিশেষ করে চীনের কাজ বাংলাদেশে স্থানান্তরিত হলে আরও সুযোগ থাকবে।


অন্যদিকে ভারতের তৈরি পোশাক রফতানি জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর ২০২৫ এ ১২ দশমিক ৮১ শতাংশ বেড়ে ৪ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। ইন্দোনেশিয়া রফতানি ১৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। কম্বোডিয়া ২৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ বৃদ্ধি নিয়ে ৩ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। পাকিস্তানও ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার রফতানি করেছে।

এদিকে মার্কিন ক্রেতাদের কেউ কেউ বাড়তি পাল্টা শুল্কের একটি অংশ দাবি করছেন বলে জানান রফতানিকারকরা। শুধু তাই নয়, মিসর, হাইতির যেসব দেশে পাল্টা শুল্ক কম সেসব দেশে বাংলাদেশের উৎপাদন ইউনিট স্থাপনের পরামর্শ দিচ্ছে ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো।

একাধিক তৈরি পোশাক রফতানিকারক বলেন, চীনের হারানো ক্রয়াদেশের একটা অংশ বাংলাদেশে আসছে। চলতি বছরের ৯ মাসে তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। পাল্টা শুল্কের কারণে সামনের মৌসুম থেকে আরও বাড়তি ক্রয়াদেশ আসতে পারে। যদিও কোনো কোনো ক্রেতা প্রতিষ্ঠান বাড়তি শুল্কের একটি অংশ বহন করতে রফতানিকারকদের চাপ দিচ্ছে।

বাংলাদেশের রফতানিকারকরা জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে চীনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধে জড়ায়। তখন থেকেই চীন থেকে অল্প অল্প ক্রয়াদেশ সরছে। গত বছর নির্বাচনি প্রচারণায় চীনের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তখন থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের অনেকে বাংলাদেশে বাড়তি ক্রয়াদেশ দেওয়া শুরু করে। সে জন্য দেশটিতে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি বাড়তে থাকে।

আরআর



  বিষয়:   বাংলাদেশ  আমেরিকা  রফতানি  পোশাক  প্রবৃদ্ধি 


Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: