বিদ্যমান
‘মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২’ সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী
সরকার। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ সংক্রান্ত
জাতীয় সমন্বয় কমিটির ৩০তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকের
বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মানি লন্ডারিং
ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা এবং নীতি প্রণয়ন ও
বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ও
সম্পদ উদ্ধার কার্যক্রম অধিকতর দক্ষ ও কার্যকর করার লক্ষ্যে বিদ্যমান মানি
লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর কতিপয় ধারা যুগোপযোগী করে আইনটি সংশোধনের
সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে বিদেশে পাচারকৃত অর্থ
ও সম্পদ উদ্ধারের লক্ষ্যে অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত ১১টি কেইসের জন্য
গঠিত যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দলের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সভায় বিস্তারিত
আলোচনা হয়।
চিহ্নিত অগ্রাধিকার কেইসের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে ১০৪টি
মামলা করা হয়েছে, ১৪টি মামলায় চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে এবং আদালত কর্তৃক
৪টি মামলায় রায় প্রদান করা হয়েছে।
পাশাপাশি ১১টি অগ্রাধিকার কেইসের
জন্য ২১টি এমএলএআর সংশ্লিষ্ট দেশে প্রেরণ করা হয়েছে। সভায় অগ্রাধিকার
কেইসগুলো যত দ্রুত সম্ভব চার্জশিট দাখিল, সংশ্লিষ্ট দেশে গখঅজ প্রেরণ এবং
মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে কার্যকরি উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বৈঠকে সংশ্লিষ্টদের
নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দেশে মোট ৫৫ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকা মূল্যের
স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি, বিদেশে মোট ১০ হাজার ৫০৮ কোটি টাকা মূল্যের
স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি অর্থাৎ সর্বমোট ৬৬ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা মূল্যের
স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ সংযুক্ত এবং অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
বৈঠকে
জানানো হয় যে, মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে বিদ্যমান
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পরিপালনে বাংলাদেশের অবস্থান মূল্যায়নের জন্য এশিয়া
প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানি লন্ডারিং (এপিজি) কর্তৃক আগামী ২০২৭-২৮ মেয়াদে
চতুর্থ পর্বের মিউচুয়াল ইভ্যালুয়েশন সম্পন্ন হবে। সভায় মিউচুয়াল
ইভ্যালুয়েশনকে সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হিসেবে বিবেচনাপূর্বক
মিউচুয়াল ইভ্যালুয়েশন মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থাকে
প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
অর্থ
উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুর্নীতি দমন
কমিশনের চেয়ারম্যান, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, বাংলাদেশ
ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ সচিব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, জাতীয় রাজস্ব
বোর্ডের চেয়ারম্যান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক
বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান,
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয়), অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল,
সিআইডি প্রধান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশ ও বিএফআইইউর
প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/এসকে/