টেক্সটাইল খাত ‘আইসিইউতে’

নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্যবসা বাণিজ্য

দেশের টেক্সটাইল খাত আইসিইউতে চলে গেছে। এই সেক্টরকে এই মুহূর্তে অক্সিজেন দিয়ে বাঁচানোর সময় কিন্তু এখন আর নেই। এই সেক্টরটাকে

2025-12-29T04:19:20+00:00
2025-12-29T04:19:20+00:00
 
  মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬,
২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
ব্যবসা বাণিজ্য
টেক্সটাইল খাত ‘আইসিইউতে’
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৪:১৯ এএম   (ভিজিট : ১১৩)
গ্রাফিক : সময়ের আলো
দেশের টেক্সটাইল খাত আইসিইউতে চলে গেছে। এই সেক্টরকে এই মুহূর্তে অক্সিজেন দিয়ে বাঁচানোর সময় কিন্তু এখন আর নেই। এই সেক্টরটাকে বাঁচাতে হলে সরকারকে বিশাল বড় পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রায় ২২ বিলিয়ন ডলারের এই খাতটিতে বর্তমানের আইসিইউ থেকে বের করার জন্য, সরকারকে অচিরেই পদক্ষেপ নিতে হবে।

গতকাল রোববার রাজধানীর গুলশান ক্লাবে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ খাতের শিল্প মালিকরা এসব কথা বলেন। 

‘স্পিনিং সেক্টরে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান বহুবিধ সমস্যা ও তা থেকে উত্তরণে সরকারের করণীয় সম্পর্কে সুপারিশ প্রণয়নের নিমিত্তে’ এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে বিটিএমএ।

এতে বক্তব্য রাখেন বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, সাবেক সভাপতি এ মতিন চৌধুরী, সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন, সাবেক পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার রাজীব হায়দার প্রমুখ। 

মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, ‘আমরা মনে করি, এই সেক্টরকে এই মুহূর্তে অক্সিজেন দিয়ে বাঁচানোর সময় কিন্তু এখন আর নেই। এই সেক্টরটি অনেকটা আইসিওতে চলে গেছে। এই সেক্টরটাকে বাঁচাতে হলে আপনাকে বিশাল বড় পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রথম হলো বাংলাদেশ ব্যাংককে আলাদাভাবে টেক্সটাইলের জন্য আলাদা উইন্ডো করতে হবে। 

এই সেক্টরকে বাঁচানোর জন্য তার সুদ হার সেভাবে নিয়ে আসতে হবে। গত বাজেটে আমরা দেখতে পারলাম টেক্সটাইল সেক্টর সারা বছর সাড়ে ১২ থেকে ১৫ শতাংশ ট্যাক্স দিয়েছে। কিন্তু চলতি বাজেটে আমাদের ট্যাক্স হয়ে গেছে ২৭ শতাংশ। এটি মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা।’

তিনি বলেন, ‘এখন যে সুতা বিক্রি হয় সে টাকা দিয়ে শ্রমিক ও গ্যাসের বিলের টাকা হচ্ছে। বাধ্য হয়ে মালিকরা মিল বন্ধ করে দিচ্ছেন। এই সেক্টরকে বাঁচাতে হলে ব্যাংক সুদের হার ও জ্বালানির দাম কমাতে হবে। গ্যাস বিদ্যুতের দাম কমাতে হবে।’

মোহাম্মদ আলী খোকন আরও বলেন, ‘টেক্সটাইল সেক্টর বাঁচানোর জন্য তথা বিটিএমএর এ সদস্যকে যদি আমরা বাঁচাতে না পারি, এক দিন গার্মেন্ট শিল্পের তুলা, সুতা ও কাপড় রফতানি বন্ধ করে দেবে ভারত। সে দিন পোশাক শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ বন্ধ হয়ে যাবে। 

প্রায় ২২ বিলিয়ন ডলারের এই খাতটিতে বর্তমানের আইসিইউ থেকে বের করার জন্য সরকারকে অচিরেই পদক্ষেপ নিতে হবে। আগামী দিনে রাজনৈতিক সরকার আসবে। আমরা বিশ্বাস করি ও প্রত্যাশা রাখি, আগামী দিনে যারা নেতৃত্বে আসবেন তারা এই খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেবেন।’

এ সময় বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, নানা সংকটে দেশের ৫০টি টেক্সটাইল মিল বন্ধ হয়ে গেছে। নিজের একটি কটন মিলও বন্ধ হয়ে গেছে উল্লেখ করে নিজেকেও টেক্সটাইলবিহীন সভাপতি হয়ে যেতে পারেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। এই খাতকে বাঁচাতে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সরকারের সিদ্ধান্ত চেয়েছেন বিটিএমএ সভাপতি।

বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল জানান, এখন ব্যবসায় সংকট। অর্থনীতিতে সংকট। রাজনীতিতে সংকট। ভারতের সুতা বাংলাদেশে ডাম্পিং হচ্ছে ৩০ সেন্ট কম মূল্য হ্রাস করে। এরই মধ্যে ৫০টি মিল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ২ লাখ কর্মসংস্থান হারিয়েছে দেশ। চাইলেই বন্ধ হওয়া মিলগুলো চালু করা যাবে না। এ খাত নিয়ে বিগত ২০ মাসে সরকারের কোনো আলোকপাত দেখতে পাইনি।

শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ভারতের সুতা বাংলাদেশে ডাম্পিং হচ্ছে ৩০ সেন্ট মূল্য হ্রাসে। ক্রমশই আমাদের মিলগুলো রুগ্ন হয়ে গেছে। এই পর্যন্ত ৫০টা মিল বন্ধ হয়ে গেছে। এই কারখানাগুলোতে বিনিয়োগের পরিমাণ ৫০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকার কম নয়। মিলগুলো বন্ধ হওয়ায় দুই লাখ কর্মসংস্থান হারিয়ে গেছে। মিলগুলো আমরা পুনরায় চালু করব, এটাও খুব কঠিন। সরকারের এখানে কোনো আলোকপাত আমরা দেখতে পাইনি গত ১৫ থেকে ২০ মাসে। এ সময়ে ভারত থেকে সুতা আমদানি বেড়েছে ১৩৭ শতাংশ। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।

বিটিএমএ সভাপতি বলেন, আমার পাঁচটি ফ্যাক্টরির মধ্যে একটি বন্ধ হয়ে গেছে। এখন আমার নেক্সট প্ল্যান হচ্ছে পরেরটা কীভাবে বন্ধ করব? কারণ বন্ধ করাও অনেক কঠিন। ব্যাংকের টাকা পয়সা বুঝিয়ে দিয়ে তারপর বন্ধ করতে হয়। যদি বিটিএমএর সভাপতি হিসেবে আমার ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়, তা হলে আপনাদের একটু আলোকপাত করা উচিত। আর এভাবে যদি ছয় মাস চলতে থাকে দেখা যাবে যে টেক্সটাইলবিহীন একটা সভাপতি বিটিএমএর সভাপতি। এটাই আপনারা দেখবেন হয়তো আগামী দিনে।

স্পিনিং মিলকে বাঁচাতে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নীতি সহায়তা চেয়ে বিটিএমএ সভাপতি বলেন, ভারত একটি পলিসি করে মাত্র তিন ঘণ্টায়। আমাদের বছর পার হয়ে যায়। আমাদের দাবি, অতি শিগগির, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে একটা সিদ্ধান্ত আসা উচিত এই সেক্টরকে বাঁচানোর জন্য।

এক প্রশ্নের জবাবে বিটিএমএর সভাপতি বলেন, ‘ভারতের ব্যবসায়ীরা যে দামে সুতা রফতানি করছে, সেই হিসাবে দেশের স্পিনিং মিলগুলোতে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার সুতা অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে আছে। যদিও মজুদ থাকা এই সুতার প্রকৃত দাম প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে বিটিএমএর সভাপতি বলেন, ‘ভারত থেকে সুতা আমদানি বন্ধ হোক, সেটি আমরা চাই না। আমরা চাই, বাণিজ্যঘাটতি কমাতে হবে। নির্ভরশীলতা বাড়ানো উচিত হবে না। সেটি হলে প্রথমে তৈরি পোশাকের সংযোগ শিল্প এবং পরবর্তীকালে তৈরি পোশাকশিল্পের বড় ক্ষতি হবে।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিটিএমএর সভাপতি বলেন, বর্তমান সরকার কারখানার জন্ম দিতে না পারলেও বন্ধ করেছে। ২৫০-এর অধিক তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ। ৫০-এর অধিক বস্ত্রকল বন্ধ হয়েছে। বন্ধ অবস্থায় আছে অর্ধেকের বেশি কারখানা। তার প্রশ্ন, কী সফলতা গত এক বছরে। তিনি মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের পুরোটাই ব্যর্থতা।

বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণে সুতার প্রচ্ছন্ন ও সরাসরি রফতানিতে ১০ শতাংশ নগদ সহায়তা দাবি করেন বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ। এ ছাড়া রফতানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) আকার বাড়ানো ও সুদহার কমানো, ব্যাংকঋণের সুদের হার কমানো, ঋণ পরিশোধে গ্রেস পিরিয়ড দেওয়ার দাবি করেন তিনি।

সময়ের আলো/এআর

  বিষয়:   টেক্সটাইল  খাত  আইসিইউ 


Loading...
Loading...
ব্যবসা বাণিজ্য- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: