প্রকাশ: বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৪:৪৭ এএম আপডেট: ২৪.১২.২০২৫ ৪:৪৮ এএম (ভিজিট : ১৬৮)
সরকার নতুন করে আরও ৫টি গ্যাসকূপ খনন করবে। সংগৃহীত ছবি সরকার নতুন করে আরও ৫টি গ্যাসকূপ খনন করবে। এ জন্য খরচ ধরা হয়েছে ৯০৭ কোটি টাকা। গতকাল মঙ্গলবার সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় এই ৫টি গ্যাসকূপ খননের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে চাল, ভোজ্য তেল, সার আমদানিসহ মোট ২২টি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয় গতকালের বৈঠকে। এদিকে, ক্রয় কমিটির বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক খুব বেশি খারাপ হয়নি। এ সম্পর্ক আর খারাপের দিকে যাবে না। দুই দেশের সম্পর্ক এখনও খারাপ পর্যায়ে যায়নি। প্রধান উপদেষ্টা দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করছেন। তিনি নিজেও বিভিন্নজনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলছেন।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, গতকালের বৈঠকে ৪টি মূল্যায়ন কাম উন্নয়নকূপ (শাহবাজপুর-৫ ও ৭, ভোলা নর্থ-৩ ও ৪) এবং ১টি অনুসন্ধান কূপ (শাহবাজপুর নর্থ ইস্ট-১) খননে আন্তর্জাতিক ঠিকাদার নিয়োগের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ কাজটি করবে সিঙ্গাপুর ইন্টারন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম সার্ভিস করপোরেশন, পিআর চায়না। এতে ব্যয় হবে ৯০৭ কোটি ২৮ লাখ ৮৭ হাজার টাকা।
চাল, ভোজ্য তেল ও সার আমদানি এবং ৫টি গ্যাসকূপ খননসহ ২২টি ক্রয় প্রস্তাবে মোট ব্যয় হবে ৪ হাজার ৩৬৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। এর বাইরে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও বিতরণ-সংক্রান্ত প্রস্তাবে ৫৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয় বাড়ানোর একটি ভেরিয়েশন প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
ভারত ও পাকিস্তান থেকে ১ লাখ মেট্রিকটন চাল আমদানি : বৈঠক শেষে জানানো হয়, দুটি পৃথক প্রস্তাবে ভারত ও পকিস্তান থেকে মোট ১ লাখ মেট্রিকটন চাল আমদানি করা হবে। এর মধ্যে ২১৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫০ হাজার মেট্রিকটন নন-বাসমতি সেদ্ধ চাল সরবরাহ করবে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স পট্টভি এগ্রো ফুডস প্রাইভেট লিমিটেড’। আর পাকিস্তান থেকে ২৪১ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫০ হাজার মেট্রিকটন আতপ কেনা হবে জি-টু-জির আওতায়। এটি সরবরাহ করবে ‘ট্রেডিং করপোরেশন অব পাকিস্তান’।
মরক্কো থেকে কেনা হবে ১ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিকটন সার : বৈঠকে মরক্কো থেকে চারটি প্রস্তাবের বিপরীতে মোট ১ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিকটন সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি প্রস্তাবে ৯০ লাখ মেট্রিকটন টিএসপি সার এবং একটি প্রস্তাবে ৪০ হাজার মেট্রিকটন ডিএপি সার রয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে ৮৬৯ কোটি ৩১ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
কেনা হবে পৌনে ৫ কোটি লিটার ভোজ্য তেল : বৈঠকে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে তিনটি পৃথক প্রস্তাবে ৩ কোটি ৭৫ লাখ লিটার সয়াবিন তেল এবং স্থানীয় দরপত্রের মাধ্যমে ১ কোটি লিটার রাইস ব্রান অয়েল কেনার একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৬৪২ কোটি ৪৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া, আরেকটি পৃথক প্রস্তাবে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ১০ হাজার মেট্রিকটন মসুর ডাল কেনার একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৭২ কোটি ২০ লাখ টাকা।
ঢাকা-ময়মনসিংহ বিভাগের বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থা আধুনিকায়ন : বৈঠকে ঢাকা-ময়মনসিংহ বিভাগের বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও ক্ষমতাবর্ধনে একই প্রকল্পের চারটি পৃথক কাজ সম্পাদনে ঠিকাদার নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে ৬৭২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। অন্যান্যের মধ্যে বৈঠকে ২১২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ক্যানরবেরায় বাংলাদেশ চ্যান্সারি কমপ্লেক্স নির্মাণের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের আওতাধীন ৫৩১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫টি উন্নয়নমূলক পূর্তকাজ এবং ২ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে বিনামূল্যের পাঠ্যপস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও বিতরণ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আর খারাপের দিকে যাবে না, অর্থ উপদেষ্টা : সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বেশি খারাপ হয়নি। এ সম্পর্ক আর খারাপের দিকে যাবে না। এখনও খারাপ পর্যায়ে যায়নি। প্রধান উপদেষ্টা দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করছেন। তিনি নিজেও বিভিন্নজনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলছেন।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, বাণিজ্য এবং রাজনীতিকে আলাদাভাবে দেখা উচিত। কূটনৈতিক ক্ষেত্রে কিছু স্পর্শকাতর বিষয় বা বাগাড়ম্বর থাকলেও অর্থনৈতিক স্বার্থে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সুসম্পর্ক চায় বলে আজকেও ভারত থেকে ৫০ হাজার টন চাল ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এ চাল আমদানিতে বাংলাদেশও লাভবান হয়েছে। কারণ ভিয়েতনাম থেকে চাল আনলে প্রতি কেজিতে ১০ টাকা বেশি খরচ হবে।
অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, কিছুটা দেরি হলেও ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চলছে। প্রধান উপদেষ্টা ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছেন। তিনি নিজেও ভারতের হাইকমিশনের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা জানিয়েছে, সম্পর্ক উন্নয়নে তারাও কাজ করছে। বাইরে হয়তো শোনা যায়, কি না কি হয়ে যাচ্ছে। তবে পরিস্থিতি এতটা খারাপ পর্যায়ে যায়নি। তবে কিছু কিছু বক্তব্য আছে এগুলো বন্ধ করা কঠিন।
জনগণ বা বহিরাগত কিছু শক্তি ভারতবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছে এমন প্রশ্নে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এগুলো আমাদের জন্য জটিল পরিস্থিতি তৈরি করছে। এগুলো আমাদের জাতীয় অভিব্যক্তি নয়। অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, সরকার পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে কোনো ঝামেলা চায় না। বাংলাদেশ বর্তমানে আঞ্চলিকতায় বিশ্বাস করে। ভারত, ভুটান, নেপাল ও পাকিস্তানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। প্রধান উপদেষ্টা কি ভারতের সঙ্গে কথা বলেছেন, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ভারতে সঙ্গে নয় তবে এর সঙ্গে সম্পৃক্তদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
সময়ের আলো/এনএ