প্রকাশ: সোমবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১:৫৯ এএম আপডেট: ২২.১২.২০২৫ ২:৩৬ এএম (ভিজিট : ২৮৬)
গ্রাফিক : সময়ের আলোসবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ফেব্রুয়ারি শেষে বিদায় নেবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু এর আগেই আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের কাজ এগিয়ে যাবে অনেকটা। প্রাথমিক প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সূত্র আরও জানায়, আজ সোমবার প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় বৈঠকে বসবেন অর্থ উপদেষ্টার নেতৃত্বে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠেয় এই বৈঠকে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট, সংশোধিত এডিপি ও আগামী নতুন অর্থবছরের জন্য বাজেটের একটি রূপরেখা অনুমোদন দেওয়া হবে।
বৈঠকে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, পরিকল্পনামন্ত্রী ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর, এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান, অর্থ সচিব ড. খায়েররুজ্জামান মজুমদার ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারকসহ অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
সূত্র মতে, প্রাথমিক এ রূপরেখায় আগামী বাজেটের একটি পূর্ণ খসড়া কাঠামো দাঁড় করিয়ে দেওয়া হবে। তবে পরবর্তীতে নতুন নির্বাচিত সরকার প্রয়োজনে এ রূপরেখা সংযোজন-বিয়োজন ও পরিমার্জন করতে পারবে।
সূত্র মতে, আগামী অর্থবছরের জন্য বাজেটের প্রাথমিক আকার ৮ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে এডিপি আকার ধরা হয়েছে আড়াই লাখ কোটি টাকা। তবে বৈঠকে আলোচনা সাপেক্ষে আকার বাড়তে বা কমতে পারে। উল্লেখ্য, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার হচ্ছে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা।
সূত্র মতে, প্রথমে চিন্তা করা হয়েছিল বাজেটের এ আকার কাটছাঁট করে ৭ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হবে। কিন্তু পাঁচ ইসলামী ব্যাংককে একীভূতকরণে আর্থিক সহায়তা এবং সরকারি চাকুরেদের কিছু সুবিধা দেওয়ার কারণে সংশোধিত বাজেটে তেমন কোনো কাটছাঁট করা না-ও হতে পারে। কিংবা শেষ পর্যন্ত বাজেটের আকার খুব সামান্য (২/১ হাজার কোটি টাকা) কমতে পারে। সে ক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটের আকার হতে পারে ৭ লাখ ৮৮ হাজার বা ৮৯ হাজার কোটি টাকা।
অন্যদিকে মূল বাজেটের আকার তেমন না কমলেও সংশোধিত বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার কমতে পারে ২৫ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা। ফলে সংশোধিত এডিপির আকার ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা থেকে কমে ২ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা হতে পারে।
সূত্র মতে, এ ছাড়া সংশোধিত বাজেটে এবার প্রথমবারের মতো রাজস্ব বাজেটের আকার বাড়ছে। এর আকার বাজেটে ঘোষিত ৫ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ ৮৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হতে পারে।
সূত্র জানায়, অন্যান্যের মধ্যে বৈঠকে আগামী অর্থবছরের শুরুতে সরকারি চাকুরেদের জন্য আর্থিক সুবিধার প্রদানের বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হতে পারে। এটি হতে পারে ২০ শতাংশ। বৈঠকে এ বিষয়ে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবে নতুন সরকার।
আজকের বৈঠকের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা গতকাল রোববার সময়ের আলোকে বলেন, ‘সোমবার বেলা ১১টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকের এজেন্ডায় ঠিক কি কি বিষয় রয়েছে তার বিস্তারিত আমার জানা না থাকলেও এই বৈঠকে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট, সংশোধিত এডিপি ও আগামী নতুন অর্থবছরের জন্য বাজেটের একটি রূপরেখা অনুমোদন দেওয়া হতে পারে বলে আমরা ধারণা করছি।
একনজরে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট:
চলতি বছরের ২ জুন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, বিপর্যস্ত আর্থিক খাত সংস্কার ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের মতো চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট ঘোষণা করেন। বাজেটে মোট ব্যয়ের পরিমাণ বা আকার ধরা হয় ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। এটি জিডিপির ১২ দশমিক ৭ শতাংশ। যা গত অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় টাকার অঙ্কে বাজেটের আকার কমছে ৭ হাজার কোটি টাকা। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার ছিল ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা।
এই বাজেটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অর্থায়ন তথা রাজস্ব আদায়। প্রস্তাবিত বাজেটে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে মোট প্রাপ্তি প্রাক্কলন করা হয় ৫ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা। এটি জিডিপির ৯ শতাংশ। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নিয়ন্ত্রিত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা। এটি গত অর্থবছরের মূল বাজেটের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৯ হাজার কোটি টাকা বেশি। এ ছাড়া এনবিআরবহির্ভূত কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১৯ হাজার কোটি টাকা এবং কর ব্যতীত প্রাপ্তির (এনটিআর) লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৪৬ হাজার কোটি টাকা। এর বাইরে বৈদেশিক অনুদানের প্রত্যাশা করা হয় ৫ হাজার কোটি টাকা।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছিল ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা। এটি জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। বাজেট ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে ১ লাখ ১ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। গত অর্থবছরের মূল বাজেটে ঘাটতির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা। এটি ছিল জিডিপির ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।
গত অর্থবছরে যা ছিল ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ। বাজেটের আকার কমলেও পরিচালন বা অনুন্নয়ন খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছিল। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ খাতের ব্যয় ধরা হয় ৫ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা। গত অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৫ লাখ ৬ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের বাজেটে মূল এডিপির আকার ছিল ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা।
সময়ের আলো/কেএইচও