ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র, জুলাই বিপ্লবী ও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ছাত্র-জনতাকে রাজপথ দখলে রাখার আহ্বান জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেইজে এক পোস্টে এ আহ্বান জানানো হয়।
ফেসবুক পোস্টে লেখা হয়, ‘ইনকিলাব মঞ্চ শহিদ ওসমান হাদিকে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে আসবে। ছাত্রজনতা রাজপথ দখলে রাখবেন এবং বিচারের জন্য স্লোগান জারি রাখবেন।’
তিনি লেখেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চ ছাড়া কারও কোনো নির্দেশনা বা প্ররোচনায় পা দেবেন না। আমরা খুব দ্রুতই কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করব। আমরা আমাদের শহিদ ভাইয়ের বিচার নিশ্চিত করেই ঘরে ফেরব, ইনশাআল্লাহ। ইনকিলাব জিন্দাবাদ।’
এদিকে হাদির মরদেহ বহনকারী ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মসজিদে নেওয়া হবে তার মরদেহ। আগামীকাল শনিবার জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন করা হবে।
শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে সরকার। তার স্ত্রী ও সন্তানের দায়িত্ব নিয়েছে সরকার।
তার মৃত্যুর খবরে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতেই উত্তাল হয়ে ওঠে সারা দেশে। জড়ো হন নানান শ্রেণি-পেশার মানুষ। শোকার্ত মানুষগুলোর মুখ বিবর্ণ, চোখ ছলছল। একজন আরেকজনকে সান্ত্বনা দেওয়ার ছলে বলছে, ‘হাদি ভাই নেই, কিন্তু তার আদর্শ আর ভালোবাসা চিরকাল আমাদের সঙ্গে থাকবে। এখন থেকে সরাসরি হাদির কণ্ঠ আর শোনা যাবে না, কিন্তু তার কাজ, তার ব্যবহার আর ভালোবাসা থেকে জন্ম নেওয়া স্মৃতিগুলো চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে বাংলাদেশিদের মনে। তার মৃত্যুতে আজ পুরো দেশ গভীর শোকে মূহ্যমান। শোকার্ত হৃদয়গুলো বলছে, বিদায় সাহসী যোদ্ধা হাদি, স্মৃতির পাতায় তুমি চির অমলিন।
১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় হামলার শিকার হন শরিফ ওসমান হাদি। মোটরসাইকেলে আসা দুই আততায়ীর একজন চলন্ত রিকশায় থাকা হাদির মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সর্বশেষ সোমবার তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সেখানেই হাদির অস্ত্রোপচারের অনুমতি দিয়েছিল তার পরিবার। সে অনুযায়ী প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু শেষ সম্ভাবনাকেও বিফল করে চলে গেলেন তিনি।
আরআর