আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চ বসতে যাচ্ছে আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে ভারতের মাটিতে। বৈশ্বিক এই আসরে ‘সি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো পরাশক্তির পাশাপাশি ইতালি ও নেপাল। চ্যালেঞ্জটা কঠিন হলেও আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছে না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বোর্ডের ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিম মনে করছেন, বাস্তবসম্মত লক্ষ্য ঠিক রেখে এগোতে পারলে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে টাইগারদের।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বিএসজেএ মিডিয়া কাপের ফাইনালে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফাহিম। সেখানেই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রত্যাশা ও প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলেন তিনি। ভারতীয় কন্ডিশন বাংলাদেশের জন্য বড় সুবিধা হতে পারে বলে মনে করেন বিসিবির এই কর্তা, ‘আমার মনে হয় এটা বলা খুব কঠিন। কারণ শুধু আমরাই খেলব না, অন্য দলগুলো খেলবে। তবে একটা বোধহয় ভালো দিক যে, খেলাটা যেখানে হচ্ছে সেই কন্ডিশনগুলো আমাদের জন্য খুব অপরিচিত না। আমরা ওখানে খেলেছি সবসময়। তা না হলেও আমরা মোটামুটি অনুমান করতে পারি কী ধরনের কন্ডিশনে খেলা হবে। সেটা আমাদের জন্য কিছুটা ইতিবাচক।’
তবে এখনই বড় প্রত্যাশার ভার চাপাতে রাজি নন ফাহিম। তার মতে, ‘ধাপে ধাপে এগোনোটাই হবে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ, ‘আশা করছি যে, প্রথম টার্গেট হবে পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়া। সেটা আমরা পারব, আমি খুবই আশাবাদী। এরপর ধীরে ধীরে টুর্নামেন্টে আমরা কীভাবে নিজেদের অ্যাডজাস্ট করি আমাদের মানসিকতা কেমন থাকে, এটার ওপর অনেকটা নির্ভর করবে।’
বর্তমান দলের গভীরতা ও ম্যাচ জেতানোর সক্ষমতা নিয়েও আশার কথা শোনান তিনি। ফাহিমের বিশ্বাস, ‘স্কিলফুল খেলোয়াড়ের সংখ্যা আগের চেয়ে বেড়েছে, যা বিশ্বকাপে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, ‘আমাদের এখন দলে বেশ কিছু খেলোয়াড় আছে, যারা ম্যাচ জেতাতে পারে। স্কিলফুল খেলোয়াড়ের সংখ্যা এখন অনেক বেড়েছে এবং সেটা একটা আশার কথা। যদি ওরা ঠিক ফর্মে থাকে মোমেন্টামটা ধরতে পারে, শুরুটা ভালো করতে পারে আমার মনে হয় আমরা যথেষ্ট আশাবাদী হতে পারি।’
সূচি অনুযায়ী, গ্রুপপর্বে বাংলাদেশের চার ম্যাচের মধ্যে তিনটি হবে কলকাতায়, বাকি একটি ম্যাচ মুম্বাইয়ে। এই দুই ভেন্যুর উইকেটের ধরন বিবেচনায় রেখে বিপিএলে কিউরেটরদের বিশেষ কোনো নির্দেশনা দেওয়া হবে কি না- এমন প্রশ্নও উঠেছে। তবে এ ক্ষেত্রে বিশ্বকাপকে আলাদা করে দেখছেন না বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স প্রধান, ‘না, আমার মনে হয় যেখানেই খেলা হোক না কেন, টি-টোয়েন্টি সবখানেই বোধহয় ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি উইকেটই হয়। আমরা বিশ্বকাপ না থাকলেও কিন্তু উদ্দেশ্য থাকত যে, যতটা সম্ভব ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি উইকেট করতে চাই এবং সেখানে যেন সুযোগ থাকে ১৮০ কিংবা ২০০ রান করার সুযোগ থাকে।’
ফাহিমের মতে, ‘রান করার সুযোগ থাকলেই খেলোয়াড়রা নিজেদের সেরাটা দিতে পারে, ‘করতে পারল কি না, সেটা অন্য ব্যাপার। কিন্তু উইকেটে যেন সেই সুযোগটা থাকে। সেরকমই করার চেষ্টা ডেফিনেটলি হবে।’
সব মিলিয়ে, বাস্তববাদী লক্ষ্য, পরিচিত কন্ডিশন এবং ক্রমবর্ধমান স্কিল- এই তিন ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে দেখছেন নাজমুল আবেদীন ফাহিম। এখন দেখার বিষয়, সেই পরিকল্পনা ও আশাবাদ মাঠের পারফরম্যান্সে কতটা রূপ নেয়।
সময়ের আলো/এনএ