মানসিক প্রশান্তি পেতে ছাদবাগান

কন্যা জায়া জননী ডেস্ক

কন্যা জয়া জননী

কৃষিকাজে সেই আদিকাল থেকেই যুক্ত নারীরা। সেই ভূমিকা এখনও চলমান। সভ্যতার শুরুতে পুরুষরা যখন শিকারে যেত, নারী তখন গৃহস্থের কাজে

2025-12-24T04:19:51+00:00
2025-12-24T04:19:51+00:00
 
  বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬,
৩ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
কন্যা জয়া জননী
মানসিক প্রশান্তি পেতে ছাদবাগান
কন্যা জায়া জননী ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৪:১৯ এএম   (ভিজিট : ১৭১)
কৃষিকাজে সেই আদিকাল থেকেই যুক্ত নারীরা। ছবি : সময়ের আলো
কৃষিকাজে সেই আদিকাল থেকেই যুক্ত নারীরা। সেই ভূমিকা এখনও চলমান। সভ্যতার শুরুতে পুরুষরা যখন শিকারে যেত, নারী তখন গৃহস্থের কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন। বীজ বপন করে চারা গাছ গজানো দেখে আনন্দে উচ্ছ্বসিত হতেন। ধান চাষ করতেন, জমি আবাদ করতেন, শাকসবজি ফলাতেন। এমন অনেক কৃষক নারী আছেন যারা তাদের শ্রম আর নিষ্ঠা দিয়ে ফসল ফলান। হালচাষ, ক্ষেতে পানি দেওয়া, বীজতলা তৈরি, চারা রোপণ, ধান কাটা, ধান মাড়াই, ধান শুকানো, ধান ঝাড়া- সব কাজেই নারীর শ্রম যুক্ত থাকত। বর্তমানে দেখা যায় অনেকে ছাদবাগান করে সফল হয়েছেন। অনেকে শখের বশে ছাদবাগান করলেও এখন তার নিত্যদিনের অনেক চাহিদা সেখান থেকে মেটানো সম্ভব। ঢাকা শহরের অনেক বাড়ির ছাদে বাগান এখন একটা ট্রেন্ড। এটি দেখতে যেমন চমৎকার লাগে তেমন পরিবেশের জন্য যথেষ্ট উপযোগী। বাড়ির দুই পাশে গাছপালা, তৃণলতা গুল্মগুলো ঘরের সৌন্দর্য দ্বিগুণ বাড়িয়ে তোলে। 

যেহেতু এই কাজের কোনো পারিশ্রমিক নেই, তাই এই শ্রমশক্তিও মূল্যহীন। নারীর এই কর্মক্ষমতা এবং সক্ষমতাকে সবসময় তার প্রাত্যহিক কাজের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ রেখেই এর অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। যেহেতু পারিশ্রমিক নেই, তাই এই শ্রমের মূল্যও নেই। অথচ একটু গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যায়, কী অপরিসীম এর মূল্য। আমাদের দেশের এক বিশাল নারীগোষ্ঠী অনানুষ্ঠানিক কাজ করে থাকে। অথচ তাদের কোনো স্বীকৃতি নেই। 

এ বিষয়ে কথা হয় গৃহিণী পারভীন আহমেদের সঙ্গে। তিনি বলেন, পড়ালেখা শেষ করার পরও কোনো চাকরি বা ব্যবসা করিনি শুধু সংসার সামলাতে গিয়ে। আমার ছোট থেকে গাছ লাগানোর শখ। তাই যখন ভাড়া বাসায় থাকতাম বারান্দায় বিভিন্ন ফুলের গাছ লাগাতাম। আর ভাবতাম যদি কখনো নিজের বাসা হয় তবে ছাদে একটা বাগান করব। যেখানে নিজের পছন্দমতো ফুল, ফল আর শাকসবজির গাছ লাগাব। আল্লাহর দোয়ায় আমার সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। এখন আমার ছাদে অনেক ধরনের গাছ। এটি শুধু আমার শখ পূরণ হয়েছে তা না। আমার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় যে খাবারগুলো থাকে তার বেশিরভাগ এখান থেকে নিয়ে রান্না করা হয়। 

আমি আম, লাউ, ফুলকপি, শজনে, টমেটো, ঢ্যাঁড়শ, শসা, কলা, লেবু, ধনেপাতা, বিভিন্ন ধরনের শাক, মরিচ, ক্যাপসিকাম, পানও লাগিয়ে থাকি। সেই সঙ্গে রয়েছে বিভিন্ন ফুলের গাছ। এটা থেকে আমার এক ধরনের মানসিক প্রশান্তি আসে। অনেকেই বলেন, বিক্রি করবেন নাকি? মাঝে মাঝে মনে হয় বিক্রি করা যায়। কিন্তু বাজারে শাকসবজিতে যে পরিমাণ ফরমালিন থাকে তার থেকে নিজে খাওয়া ভালো। নিজে কষ্ট করে লাগানো সবজি ও ফল খাওয়ার মধ্যে এক ধরনের আনন্দ আছে। মাঝে মাঝে কিছু আত্মীয়ের বাসায় পাঠাই। এতদিন যারা আমার ছাদ বাগান নিয়ে বিভিন্ন কথা বলত তারাই এখন আমার দেখাদেখি একই কাজ করে আর বলেন, ভালোই নিজেদের চাহিদা পূরণ করা যায়। 

আরেক গৃহিণী ঈশিতা চৌধুরী বলেছেন, আমি ছাদে প্রথমে ফুল লাগিয়েছিলাম। এখন সবার দেখাদেখি আমিও বিভিন্ন ফল ও সবজি লাগিয়েছি। এটা একটা শখের মতো। যেহেতু বাইরে গিয়ে রোজগার করতে পারছি না। তাই বাগান করে সময় কাটাই। প্রথমে অনেক গাছ লাগানোর পরও দেখা যেত ভালো ফলন হতো না। এরপর ইউটিউবে নানা ভিডিও দেখে গাছ পরির্চযা করার পর ভালোই ফলন হয়। বাগান করার বিষয়টি মূলত নেশার মতো। এটা থেকে আয়-রোজগার হয় না ঠিকই, মানসিক একটা শান্তি অনুভব করা যায়।
আমাদের সমাজের অনেক নারী অনানুষ্ঠানিক কাজে যুক্ত। যে সব কাজে তাদের কোনো স্বীকৃতি নেই, নেই কোনো পারিশ্রমিক। শুধু মানসিক প্রশান্তির জন্য তারা এই কাজ করে থাকেন। বাগান করা তেমনি একটা নেশা। এই নেশা থেকে অনেকেই এটিকে পেশা হিসেবে নিচ্ছেন। 

সময়ের আলো/এনএ 

  বিষয়:   মানসিক প্রশান্তি  ছাদবাগান 


Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: