মেকআপ করার ক্ষেত্রে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো ফাউন্ডেশন। এটিকেই মেকআপের ভিত্তি বলা চলে। একটা সময় ছিল বিয়ে বাড়িতে যাওয়া মানে, মুখভর্তি করে পাউডার মাখা। যাতে দেখতে ফর্সা মনে হয়। অনেকই আবার এই বিষয়টি নিয়ে খুব হাসাহাসির করত। সেসব এখন অতীত। ইদানীং ত্বকের যত্নের পাশাপাশি মেকআপ নিয়েও সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার সৌজন্যেই মেকআপ সচেতন তরুণীদের সংখ্যা অনেকাংশে বেড়েছে। মেকআপকে এখন আর কেউই বাড়তি বোঝা হিসেবে দেখেন না। বরং নিপুণ হাতে নিজের মেকআপ সেরে ফেলতে চান সবাই। সবাই চান ‘পারফেক্ট লুক’। সে জন্য মেকআপ সামগ্রীর বিষয়েও সঠিক জ্ঞান থাকা জরুরি।
সঠিক ফাউন্ডেশন বেছে নেওয়ার উপায় ত্বকের ধরন জেনে নিলেই ফাউন্ডেশন বাছাই করার ক্ষেত্রে আর সমস্যা থাকে না। ফাউন্ডেশনের একেবারে মূল বিষয় হলো ত্বকের আন্ডারটোন। কারণ এটি যেকোনো মেকআপকে ত্বকের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার প্রথম ধাপ। আন্ডারটোন ত্বকের নিচ থেকে আসে। মূলত তিন প্রকার আন্ডারটোন হয়Ñ ওয়ার্ম, নিউট্রাল এবং কুল। এই ভেদ অনুযায়ী বেছে নিতে হবে নিজের ফাউন্ডেশন।
ত্বকের ধরনের সঙ্গে যায়, এমন রঙের ফাউন্ডেশন চোয়ালে লাগিয়ে দেখে নিন। যে রং ত্বকের সঙ্গে বেশি মিলে যাচ্ছে, সেটিকেই বাছুন। গলা এবং ঘাড়ের কথাও মনে রাখতে হবে। হাতে লাগিয়ে ফাউন্ডেশন বাছাই করবেন না।
এরপরের ভাবনা ম্যাট নাকি ডিউই? এটা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করার সময় এসেছে। আবার সেই পুরোনো দিনের কথা ভেবে দেখা যেতে পারে। সেসময় বেশ সাদাটে ফটফট মেকআপের চলন ছিল। বিস্তর কম্প্যাক্ট পাউডারও মাখার রীতি ছিল। সেসব কায়দা এখন ভেঙে গেছে। বরং হালকা ভেজা ভেজা মেকআপ করা নরম মুখের দিকে ঝুঁকে আছেন সবাই।
আপনার ত্বক তৈলাক্ত, শুষ্ক, নাকি মিশ্র? কারও ত্বক খুব শুষ্ক, তো কারও আবার ভীষণ তেলতেলে। ফলে ত্বকের ধরন বুঝে মেকআপ কেনা দরকার। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ম্যাট ফিনিশের কথা ভাবা যেতে পারে। শুষ্ক ত্বকের জন্য হাইড্রেটিং তাতে খানিকটা আর্দ্রতা পাওয়া যায়, যা ত্বকের ঔজ্জ্বল্য ধরে রাখে। মিশ্র ত্বকের জন্য সেমি-ম্যাট ফাউন্ডেশন উপযুক্ত। তবে ঋতুর কথাও মাথায় রাখতে হবে। শীতকালে কোনোভাবেই ম্যাট বেছে নেওয়া উচিত নয়।
কেউ যদি মুখের সব দাগ, ছোপ বা হাইপারপিগমেন্টেশন সম্পূর্ণভাবে ঢেকে ফেলতে পছন্দ করেন, তা হলে ফুল কভারেজ ফাউন্ডেশন বেছে নিতে হবে।
আমরা অনেকেই জানি না ফাউন্ডেশন লাগানোর কিছুক্ষণ পরেই তা অক্সিডাইস করতে পারে। ত্বকের উষ্ণতার কারণে কয়েক মিনিট পরে অনেক সময়ই রং বদলে ফেলতে পারে। সুতরাং ফাউন্ডেশন কেনার সময় তা পরীক্ষা করার পরেই কিনে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। বরং ৫-১০ মিনিট অপেক্ষা করা দরকার, যাতে বোঝা যায় এটি কতটা গাঢ় হচ্ছে।
সঠিক তুলি বা ব্লেন্ডার ফাউন্ডেশন ব্যবহারের জন্য জরুরি। যদি একেবারে হালকা ফাউন্ডেশন চান, তা হলে আঙুল ব্যবহার করে মুখে মেখে নিন। তবে যদি চান ফাউন্ডেশনের স্তর একটু মোটা হোক, তা হলে ব্লেন্ডার বা তুলির সাহায্যে ত্বকের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।
সারা দিন মেকআপ ধরে রাখতে হলে এমন ফাউন্ডেশন কিনুন, যা দীর্ঘস্থায়ী এবং ওয়াটারপ্রুফ। এতে আপনার মেকআপ নষ্ট হবে না।
গায়ের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে ঠিক ফাউন্ডেশনটি খুঁজে বের করা মোটেই সহজ কাজ নয়। অনলাইনে কেনাকাটার সময়ে সমস্যা হয় আরও বেশি। যে ফাউন্ডেশনটি কিনবেন বলে ভাবছেন, সেটি আদৌ আপনার জন্য সঠিক তো? বুঝবেন কী করে? তাই অন্তত ফাউন্ডেশন কেনার সময়ে অনলাইনের ভরসায় না থেকে দোকানে যাওয়াই ভালো।
এএডি/