ভারতে যুবাদের জন্য সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় বাল পুরস্কারে (পিএমআরবিপি) ভূষিত হয়েছেন বৈভব সূর্যবংশী। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছ থেকে এই পুরস্কার নিয়েছেন তিনি।
২০২৫ সালের পারফরম্যান্সের কারণে এই পুরস্কার পেয়েছেন সূর্যবংশী। আইপিএলের গত বছরের মেগা নিলামে জায়গা পেয়েছিলেন মাত্র ১৩ বছর বয়সে। পরে দল পেয়েও রেকর্ড গড়েছিলেন। আইপিএল ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন ছক্কা মেরে, দ্বিতীয় ম্যাচেই করেছিলেন সেঞ্চুরি।
সূর্যবংশীর ব্যাটে এরপর থেকেই রানের ফোয়ারা ছুটছে, ভাঙছে একের পর এক রেকর্ড। তিনি যুব ওয়ানডের ইতিহাসে দ্রুততম সেঞ্চুরিয়ান। গত জুলাইয়ে ইংল্যান্ড যুব দলের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছিলেন মাত্র ৫২ বলে। আগের রেকর্ডটি পাকিস্তানের কামরান গুলামের। সূর্যবংশী সেদিন ৭৮ বলে করেছিলেন ১৪৩ রান।
ওই ইনিংস দিয়ে আরেকটি বিশ্ব রেকর্ড দখলে নেন। যুব ওয়ানডের ইতিহাসে তিনি কনিষ্ঠতম সেঞ্চুরিয়ান। রেকর্ডটি হয়েছিল সূর্যবংশীর বয়স যখন ১৪ বছর ১০০ দিন। আগের বিশ্ব রেকর্ডটি ছিল বাংলাদেশের নাজমুল হোসেন শান্তর। ১৪ বছর ২৪১ দিন বয়সে যুব ওয়ানডেতে শতক হাঁকিয়েছিলেন তিনি।
দুদিন আগে বিহারের হয়ে সূর্যবংশী বিজয় হাজারে ট্রফিতে ৮৪ বলে করেন ১৯০ রান। এর মাধ্যমে মাত্র ১৪ বছর ২৭২ দিন বয়সে পুরুষদের লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান বনে যান। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মধ্যপ্রদেশের বিপক্ষে অভিষেকের পর এটি ছিল তার লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারের মাত্র সপ্তম ম্যাচ।
১৯০ রান করার ম্যাচে সূর্যবংশী মাত্র ৩৬ বলে সেঞ্চুরি হাঁকান। সিনিয়র ক্রিকেটে (টি-টোয়েন্টি বাদে) এটি তার প্রথম শতক। এরপর মাত্র ৫৯ বলে ১৫০ রান পূর্ণ করেন, যা পুরুষদের লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দ্রুততম ১৫০ রান।
সূর্যবংশীর রেকর্ডগড়া ইনিংসে রেকর্ড হয় লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দলীয় সংগ্রহেও। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এর আগে একবারই ৫০০ পেরিয়েছিল। ২০২২ সালে বিজয় হাজারে ট্রফিতে ৫০৬ রান করেছিল তামিল নাডু ক্রিকেট দল। বৈভব সূর্যবংশী ও সাকিবুল গনির তাণ্ডবে বিহার করে রেকর্ড ৫৭৪ রান।
সময়ের আলো/এআর