মেলবোর্নে অ্যাশেজের বক্সিং ডে টেস্টের প্রথম দিনটি ছিল পুরোপুরি পেসারদের দখলে। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এমসিজি) গ্যালারিতে ৯৪ হাজার ১৯৯ জন দর্শকের সামনে দুই দলের বোলাররা আগুন ঝরিয়েছেন।
এমসিজিতে দর্শকদের এই উপস্থিতি রেকর্ড গড়ে। মেলবোর্নের এই মাঠে কোনো ক্রিকেট ম্যাচে এটাই সর্বোচ্চ উপস্থিতি। ভেঙে গেছে ২০১৫ বিশ্বকাপ ফাইনালে ৯৩ হাজার ১৩ জন দর্শকের আগের রেকর্ড। মেলবোর্ন টেস্টের প্রথম দিনে ২০ উইকেট পড়ে, যেটা অ্যাশেজের ইতিহাসে চতুর্থ ঘটনা। তবে ১৯০১-০২ মৌসুমের পর গত ১২৩ বছরে অ্যাশেজে এই মাঠে প্রথম দিনে এত উইকেট আর কখনো পড়েনি। ব্যাটারদের জন্য দিনটি ছিল রীতিমতো দুঃস্বপ্নের মতো।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা ভালো ছিল, বিনা উইকেটে তারা ২৭ রান করে। এরপরই গাস অ্যাটকিনসনের বলে ট্রাভিস হেড বোল্ড হন। জশ টংয়ের তোপে একে একে বিদায় নেন জেইক ওয়েদেরল্ড, মার্নাস লাবুশেন ও স্টিভেন স্মিথ। এতে বিনা উইকেটে ২৭ রান থেকে দ্রুতই অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ৪ উইকেটে ৫১ হয়ে যায়।
পঞ্চম উইকেটে উসমান খাজা ও অ্যালেক্স ক্যারি ৩৮ রান যোগ করেন। তবে বিরতির পর অ্যাটকিনসনের বলে ২৯ রানে ফেরেন খাজা। এরপর কেয়ারিও ২০ রান করে স্টোকসের শিকার হন। ৯১ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর ক্যামেরন গ্রিন ও মাইকেল নিসার ইনিংস সর্বোচ্চ ৫২ রানের জুটি গড়েন। কিন্তু ব্রাইডন কার্সের থ্রোতে গ্রিন রান আউট হলে এই প্রতিরোধ ভেঙে যায়। শেষ পর্যন্ত ১৫২ রানেই অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া। ইংলিশ বোলার জশ টং দুর্দান্ত বোলিং করে ৫ উইকেট নিয়ে একবিংশ শতাব্দীতে ইংল্যান্ডের প্রথম বোলার হিসেবে এমসিজিতে ৫ উইকেট নেওয়ার অনন্য কৃতিত্ব গড়েন।
জবাবে প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ১৬ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে ইংল্যান্ডও। বেন ডাকেট ও জ্যাক ক্রলিকে আউট করেন মিচেল স্টার্ক। ক্রলির ক্যাচ নিয়ে স্টিভেন স্মিথ টেস্ট ইতিহাসে রাহুল দ্রাবিড়কে টপকে সর্বোচ্চ ক্যাচ সংগ্রাহকের তালিকায় এককভাবে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসেন। জো রুট ফেরেন শূন্য রানে।
চাপের মুখে হ্যারি ব্রুক ও বেন স্টোকস ৫০ রানের জুটি গড়েন। ব্রুক ৩৪ বলে ৪১ রান করার পথে টেস্টে দ্রুততম ৩ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এরপর স্কট বোল্যান্ড (৩ উইকেট) ও মাইকেল নিসারের (৪ উইকেট) বোলিং তোপে ১১০ রানেই গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ২০০০ সালের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটি ইংল্যান্ডের তৃতীয় সর্বনিম্ন টেস্ট স্কোর। ৪২ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে বিনা উইকেটে ৪ রান নিয়ে দিন শেষ করে করে অস্ট্রেলিয়া। ট্রাভিস হেডের (০*) সঙ্গে ‘নাইটওয়াচম্যান’ হিসেবে ওপেন করতে নামেন পেসার স্কট বোল্যান্ড (৪*)।
সময়ের আলো/এআর