বরিশালে বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগ

মোফাজ্জেল হোসাইন বরিশাল

খবর

বরিশালে শীতের প্রকোপ বাড়তে না বাড়তেই বাড়ছে নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত নানা রোগে শিশুদের আক্রান্তের সংখ্যা। শয্যার তুলনায় রোগীর চাপ বাড়ায় চিকিৎসা

2025-12-28T03:37:32+00:00
2025-12-28T03:37:32+00:00
 
  মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬,
২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
খবর
বরিশালে বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগ
মোফাজ্জেল হোসাইন বরিশাল
প্রকাশ: রোববার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৩:৩৭ এএম   (ভিজিট : ১৮৫)
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ বেড়েছে। ছবি : সময়ের আলো
বরিশালে শীতের প্রকোপ বাড়তে না বাড়তেই বাড়ছে নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত নানা রোগে শিশুদের আক্রান্তের সংখ্যা। শয্যার তুলনায় রোগীর চাপ বাড়ায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে এক বেডে ৩ থেকে ৪ জন শিশুকে। অন্যদিকে বাড়তি রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম অবস্থা চিকিৎসকদের। তবে সংকট থাকলেও রোগীদের সব ধরনের সেবা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার দুটি শিশু ওয়ার্ডে রোগীদের চাপ বেড়েছে। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ৪১ শয্যার বিপরীতে ভর্তি আছে প্রায় ৩০০ শিশু। আর দুটি ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে ভর্তি হচ্ছে ১৫০-এর বেশি রোগী। একইভাবে হাসপাতালের বহির্বিভাগেও রোগীদের ভিড় বাড়ছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু। হাসপাতালের বহির্বিভাগে পাঁচজন শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শিশুদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। অনেকই গ্রাম থেকে শিশুদের নিয়ে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে কেউ কেউ শিশুর জ্বর, ঠান্ডার জন্য স্থানীয় ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে সেবন করিয়েছেন। এতে শিশু সুস্থ না হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।

রোগীদের স্বজনরা বলছেন, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেট ব্যথা, ডায়রিয়া, জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া নিয়ে তারা হাসপাতালে এসেছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তারা চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীর স্বজন আকলিমা বেগম বলেন, প্রথমে গ্রামে ডাক্তার দেখাই। জ্বর কমে-বাড়ে। পরে বরিশাল হাসপাতালে নিই। এখানে আসার পর পরীক্ষা করে দেখি বাচ্চার নিউমোনিয়া হয়েছে। হাসপাতালে বেড সংকট থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন অনেকেই। এক বেডে দুই থেকে তিনজন রোগী ভর্তি থাকায় দুর্ভোগ হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। 

আরেক রোগীর স্বজন লিমা বেগম বলেন, স্থানীয় ফার্মেসি থেকে ওষুধ খাওয়ানোর পরও জ্বর ও কাশি না কমায় বরিশাল নিয়ে আসি। পরে জানতে পারি নিউমোনিয়া। এখন চিকিৎসা চলছে। আরেক রোগীর স্বজন জানান, ২-৩ দিন ধরে জ্বর, কাশি তাই হাসপাতালে এসেছি। আগেও ডাক্তার দেখিয়েছি কিন্তু জ্বর থেমে থেমে আসে। 
হাসপাতাল সূত্র বলছে, আন্তঃওয়ার্ড ছাড়াও বহির্বিভাগে প্রতিদিন চিকিৎসা নিচ্ছে গড়ে ৫০০-এর অধিক শিশু। এদের মধ্যে এখন বেশিরভাগই জ্বর, ঠান্ডা, কাশি, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছে। অনেকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ না হয়ে পরে হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়েছে। আগের তুলনায় দেড়গুণ রোগী বেড়েছে বলছেন চিকিৎসকরা। 

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. নুরুল আলম বলেন, এখন হাসপাতালে স্বাভাবিকের তুলনায় রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ডিউটি থাকলেও এখন তিনটা পর্যন্ত রোগী দেখতে হচ্ছে। এখন ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। এ ধরনের রোগী সামনে আরও বাড়বে। এ ছাড়া মা তার সন্তানকে যে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখে তাতে ঘাম থেকেও শিশুর ঠান্ডা লাগতে পারে। তাই মায়েদের এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। 
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মসিউল মুনীর বলেন, হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে বেড সংখ্যা কম। তারপরও আমরা রোগীর চিকিৎসা প্রদান করে যাচ্ছি। চিকিৎসকদের চেয়ে বেশি বেগ পোহাতে হয় নার্সদের। চিকিৎসক সংকটের বিষয়ে আমরা কথা বলছি। বহির্বিভাগেও চিকিৎসক কম। তবে সব রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ সময়ে সব অভিভাবককে সচেতন থাকার পরামর্শ তার।

আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণেই ঠান্ডাজনিত রোগের সংক্রামণ বাড়ছে বলেও জানান চিকিৎসকরা। সচেতনতা বাড়ালে ও চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিলে ঠান্ডাজনিত রোগের সংক্রমণ কমবে বলে মনে করেন চিকিৎসাকরা।  

এদিকে গত ৩ দিন ধরে বরিশালে ঘনকুয়াশার পাশাপাশি আকাশ মেঘলা থাকায় সূর্যের স্থায়িত্ব বেশি সময় থাকছে না। এতে শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। 
বরিশালের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শনিবার বরিশালের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা গত ৩ দিন ধরে একই অবস্থায় চলছে। চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সামনে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। দিনে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা সূর্যের দেখা মিলছে। সূর্যের স্থায়িত্ব বেশিক্ষণ না থাকার কারণে শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। 

Loading...
Loading...
খবর- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: