আশা নিয়ে শুরু হলো নতুন বছর

মো. তাহমিদ রহমান

পৌষের ধূসর কুয়াশার হালকা চাদর ছড়িয়ে রক্তিম সূর্য জানান দিচ্ছে ইংরেজি নববর্ষের আবির্ভাব। পুরোনো বছর পেরিয়ে নতুন বছরের শুরুতে হাজারো

2026-01-01T04:07:13+00:00
2026-01-01T04:07:13+00:00
 
  বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আশা নিয়ে শুরু হলো নতুন বছর
মো. তাহমিদ রহমান
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:০৭ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
পৌষের ধূসর কুয়াশার হালকা চাদর ছড়িয়ে রক্তিম সূর্য জানান দিচ্ছে ইংরেজি নববর্ষের আবির্ভাব। পুরোনো বছর পেরিয়ে  নতুন বছরের শুরুতে হাজারো নবপ্রত্যাশায় স্বপ্ন দেখছে মানুষ। অত্যন্ত ঘটনাবহুল এবং ব্যাপকভাবে আলোচিত ২০২৫ সাল ব্যাপক অর্জন ও অনেক শঙ্কা পেরিয়ে  বিদায় নিল। ২০২৫ সালে বছরের শেষলগ্নে এসে দেশবাসীকে শোকের সাগরে নিমজ্জিত করে মহাকালের অসীম মহাকাশে পাড়ি জমান বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। 

বেশ কিছু প্রকাশ্য খুনের ঘটনায় বছরের শেষ দিকে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সারা দেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে বছরজুড়ে আলোচনার শীর্ষে ছিল ‘মব জাস্টিস’। এসব মবের ঘটনা লক্ষ্যবস্তু ছিল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, নারী, সংখ্যালঘু, বাউলশিল্পী, মাজার ও খানকা শরিফ, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যম। মাজার ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, বাউলশিল্পীকে হেনস্থা, নারী ফুটবলে বাধা প্রদান, মরদেহ উত্তোলন করে পুড়িয়ে ফেলা, হিন্দু যুবককে পুড়িয়ে ফেলার মতো নৃশংস ঘটনাও ঘটেছে। সর্বশেষ ডিসেম্বরে দৈনিক প্রথম আলো, ডেইলি স্টার ভবন, ছায়ানট ও উদীচী ভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

Advertisement
এসব ঘটনার নেপথ্যে নানা চক্র জড়িত থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘তৌহিদী’ বা ‘বিক্ষুব্ধ’ জনতার ব্যানার ব্যবহার করতে দেখা গেছে। ২০২৫ সাল বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার বছর হিসেবে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লব ও সরকার উৎখাতের পরবর্তী পরিস্থিতি ২০২৫ সালে সহিংসতা, সংস্কার, রাজনৈতিক হত্যা, পেশাজীবীদের আন্দোলন ও রাজনৈতিক পরিবর্তনকে সামলে একটি নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যেতে অন্তর্বর্তী সরকারকে বেশ বেগ পোহাতে হয়েছে। 

বিগত সরকারের অগণতান্ত্রিক ও দীর্ঘমেয়াদি অপশাসন, রাজনৈতিক বিভাজন, জনমত ও বিরোধীদলীয় দমন-পীড়নের কারণে জনগণের  অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ লাভ করেছে বছরের বিভিন্ন ঘটনাবলিতে। যার ফলশ্রুতিতে বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংসের মাধ্যমে একদিকে ইতিহাস ও রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রতীক চিহ্ন ভেঙে দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক উত্তাপ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উত্থান-পতন, হত্যা, দুর্ঘটনা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ- সব মিলিয়ে বিদায়ি বছরটি রেখে গিয়েছে গভীর ছাপ। বছরজুড়েই প্রাকৃতিক ও ভূরাজনৈতিক কারণে দুর্যোগের ধারা অব্যাহত ছিল। সীমান্ত সুরক্ষায় দুর্বলতা স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়েছে। তবে পূর্বের তুলনায় বিগত বছরটিতে মূল্যস্ফীতি ছিল কিছুটা সহনীয় এবং নিম্নগামী। যা দেশের মানুষের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব করেছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে সাধারণ (পয়েন্ট টু পয়েন্ট) মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮.২৯ শতাংশে। এক বছর আগের নভেম্বরের তুলনায় মূল্যস্ফীতি কমেছে, তখন এটি ছিল ১১.৩৮ শতাংশ। খাদ্য এবং খাদ্যবহির্ভূত উভয় পণ্যে দাম কমায় নিম্নআয়ের মানুষ কিছুটা স্বস্তিতে ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অসংখ্য প্রাণহানি ঘটেছে বহুমানুষ পঙ্গুত্ববরণ করেছে। রাজনীতিতে মানুষের ভোটাধিকার সংরক্ষণের দাবি অত্যন্ত প্রবল হয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দেশের নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করে ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এটি ছিল ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ও সরকার উৎখাতের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, কারণ এর মাধ্যমে দেশে ন্যায্য ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন ফের চালু করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। 

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দল ও দলীয় গঠনে নতুন গতিশীলতা ও সমঝোতার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যদিও এখনও দেশজুড়ে উত্তেজনা ও পারস্পরিক সন্দেহ বিরাজ করছে। দীর্ঘদিন পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার পরিবেশ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে বহুমুখী ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সুষ্ঠু ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব, নেতৃত্বের বিকাশ, শিক্ষার্থী কল্যাণ, সমস্যা সমাধান এবং একটি সুস্থ ক্যাম্পাস-সংস্কৃতি গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে। যা জাতীয় রাজনীতি ও সামাজিক স্থিতির জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। 

ভোটাধিকারের প্রয়োগ বাংলাদেশের মানুষের কাছে একটি আবেগ মিশ্রিত অধিকার। এ দেশের জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চায়। কিন্তু রাজনৈতিক সহনশীল না হওয়ায় বিগত সরকার ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে ভালো কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। বড় বড় মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে অবকাঠামো আগের তুলনায় মজবুত হয়েছে, কিন্তু মানুষের মধ্যে মনুষ্যত্বগুণ সঞ্চারিত না হওয়ায় এসব চোখ ধাঁধানো অবকাঠামো দেশের কোনো কাজে আসছে না। প্রতিদিনের অপরাধচিত্র বলে দেয় মানুষের মনুষ্যত্বহীনতার কথা। রাষ্ট্র ও সমাজের বৈষম্য দূর, মৌলিক সংস্কারসহ মানুষের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা ও আকাক্সক্ষা নিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশি মনোযোগী হওয়ায় শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে আশাজাগানিয়া কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেনি।

পূর্ব পাকিস্তানে রাজনীতি ছিল শিক্ষা ও সংস্কৃতির সহযাত্রী যার ফলে স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টি সম্ভব হয়েছিল। অথচ স্বাধীনতার ৫৬ বছর পরে শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনীতি ও সমাজের সর্বত্র দীনতা প্রকাশ হচ্ছে। রাজনৈতিক ও পরমতসহিষ্ণুতার  দৈন্য আবারও প্রকাশিত হয় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে। 

যার কারণে রাষ্ট্র নতুন করে সংকটের মধ্যে পতিত হয়। সেই কারণে রাজনীতি নয় দৃশ্যমান ছিল ক্ষমতানীতি এবং তাতে জনগণ ছিল অবিবেচ্য। রাষ্ট্রীয় সংস্কার, দলীয় সংস্কার নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও তরুণ প্রজন্মের মতপার্থক্য, তরুণ প্রজন্মকে অবজ্ঞা করে প্রবীণ রাজনৈতিক নেতাদের বিদ্বেষমূলক কথাবার্তা, রাজনৈতিক অস্থিরতা, নির্বাচন দিয়ে উদ্বেগ এবং যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রচেষ্টা, সহিংসতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও গণআন্দোলনের চরম পর্যায় সব মিলিয়ে বিগত বছরটি ছিল বাংলাদেশের জন্য একটি রূপান্তরমূলক বছর। সর্বশেষ হাড় কাঁপানো শীতে নির্বাচনের আমেজ তৈরি করে বিদায় নিয়েছে ২০২৫ সাল। 

নিয়মের পরিক্রমায় এসেছে নতুন বর্ষ ২০২৬ সাল। নতুন বর্ষে আমরা যেন বুদ্ধিহীন, বিবেকহীন, সুচিন্তাহীন হয়ে না পড়ি। তার জন্যই বছরের শুরুতে আমাদের প্রত্যাশা স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, জবাবদিহিমূলক, দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার উপযোগী রাষ্ট্রকাঠামো ও পরিবেশ যেন সৃষ্টি হয়। শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কার করতে হবে। বিশ্ব নেতৃত্বের উপযোগী হয়ে যেন আমাদের সন্তানরা বেড়ে উঠতে পারে সেই লক্ষ্যে ধর্ম ও নৈতিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে সম্পূর্ণরূপে ঢেলে সাজাতে হবে। 

শিক্ষা নাগরিকের মৌলিক অধিকার তাই অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বার্থে দেশের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতা থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়ে আসতে হবে। শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে শিক্ষক সমাজের জীবন মানের উন্নয়নের দিকে লক্ষ দিতে হবে। দেশের শিক্ষার আমূল পরিবর্তনের জন্য পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে জাতীয়করণের আওতায় নিয়ে আসা অত্যাবশ্যক। 

২০২৬ সালে ভারতের সঙ্গে আমাদের দেনা-পাওনার হিসাবও সঠিকভাবে করতে হবে। অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা লাভের জন্য বাংলাদেশকে অনেক বেশি তৎপর হতে হবে। ইংরেজি নতুন বর্ষটি শুরু হচ্ছে অনেক প্রত্যাশা ও স্বপ্ন নিয়ে। দীর্ঘ সময়ের আন্দোলন সংগ্রামের পর আওয়ামী লীগ  সরকারের পতন ও রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটেছে। ব্যাপক সহিংসতা ও অস্থিরতার মধ্য দিয়ে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে পুনরায় গণতন্ত্রের অভিযাত্রা শুরু হচ্ছে। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে ঠিক তেমনি দেশের মানুষ একটি অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দ্রুত ফিরতে চায়। 

বাংলাদেশের সমাজ নানা সমস্যাক্রান্ত এবং নানা জটিলতায় ভারাক্রান্ত। আমরা লক্ষ করি বহু মানুষ এখন কথা বলছে, সেটা ভালো বিষয়, কিন্তু এর মধ্যে বেশিরভাগের কথাতে অসহিষ্ণুতা, ক্রোধ এবং হিংসার প্রকাশই প্রাধান্য পাচ্ছে। কথা হলো- এসবই হলো মানুষের নেতিবাচক প্রবৃত্তি, কিন্তু অভ্যুত্থানের মূল চেতনা তো ইতিবাচক, এতে যে দায় এবং দরদের কথা উচ্চারিত হয়েছে তাতে মানুষের মানবিক গুণাবলি যেমন- ঔদার্য, পরোপকার, মহত্ত্ব, সহিষ্ণুতা ইত্যাদির প্রতি ইঙ্গিত করে। 

ফলে অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতি ও মাঠের বিভিন্ন শক্তির উচিত-অনুচিত চাপের মুখে নিজেদেরও এক প্রবল শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে গিয়ে প্রতিহিংসা বা অসহিষ্ণুতার ভাষা যেন প্রাধান্য না পায়, তা বিবেচনায় রাখতে হবে নতুনভাবে জাগ্রত ছাত্র-তরুণদের। জনগণের সঙ্গে আমরাও আশা করতে চাই- ২০২৬ সাল হবে বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্নপূরণের বছর। 

তাই নতুন বর্ষের শুরুতেই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি প্রত্যাশা দেশের মানুষ যেন ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার উপহার লাভ করে। বাংলাদেশের মানুষ একটি সবুজ-সতেজ জীবনীশক্তি নিয়ে স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরে আসুক। বাঙালি-অবাঙালি, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী-বৃহৎ নৃগোষ্ঠী, হিন্দু-মুসলিম, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান, ইহুদি-নাসারা, জৈন-শিখ, মুচি-মেথর, চামার-চণ্ডাল, পৌত্তলিক-নিরাকারবাদী, নিরীশ্বরবাদী-বহু ঈশ্বরবাদী, আস্তিক-নাস্তিক নির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক কল্যাণরাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক আমাদের সোনার বাংলা।  


লেখক : প্রভাষক, নূরুল আমিন মজুমদার ডিগ্রি কলেজ, লাকসাম, কুমিল্লা

সময়ের আলো/কেএইচও
  বিষয়:   নতুন বছর  দেশবাসী  শোক  নারী প্রধানমন্ত্রী  খালেদা জিয়া 


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: