যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী আবারও একটি নৌযানে হামলা চালিয়েছে, যার ফলস্বরূপ তিনজন নিহত হয়েছেন। বুধবার মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড এক বিবৃতিতে আলজাজিরাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে, তবে হামলার স্থান প্রকাশ করেনি। হামলাটি মাদক পাচারের অভিযোগে করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
এ ঘটনায় তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কোস্টগার্ডকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযানের প্রথমে নৌকাটিতে থাকা তিনজন ‘নার্কো-সন্ত্রাসী’ মারা যান। পরে হামলার পরবর্তী ঘটনায় আরো নৌকাগুলো পানিতে ডুবে যায় এবং কিছু যাত্রী পানিতে লাফ দিয়ে পালিয়ে যায়।
তবে এই হামলার প্রেক্ষিতে সামরিক বাহিনী কোনো নিশ্চিত প্রমাণ দেখাতে পারেনি যে নৌকাগুলো মাদক পাচারের সাথে যুক্ত ছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, কয়েকটি নৌকা একসঙ্গে চলছিল এবং সন্দেহ করা হচ্ছে তারা পরিচিত মাদক পাচারের রুটে চলছিল।
আরও পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ জানায়, অন্য নৌকাগুলোর আরোহীদের উদ্ধার করতে তারা একটি সি-১৩০ বিমান এবং অন্যান্য জাহাজ নিয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আটজন যাত্রী পানিতে লাফিয়ে পড়েছিলেন এবং তাদের সন্ধানে অভিযান চলছে।
এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী গত কয়েক মাসে বেশ কয়েকটি নৌযান হামলা চালিয়ে এসেছে এবং ২০২৫ সালে ১১০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এসব হামলাকে মাদক পাচারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন এবং ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগের লক্ষ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর কথা জানিয়েছিলেন।
এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং মাদক পাচারবিরোধী যুদ্ধের প্রেক্ষিতে গুরুত্ব পাচ্ছে, বিশেষ করে যখন আন্তর্জাতিক মহলে যুক্তরাষ্ট্রের মাদক নীতি এবং ভেনেজুয়েলার সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।
এএডি/