কামরুল হাসান নাসিম রাজনীতিতে নানা কারণে আলোচনায় এসেছেন বারবার। তিনি গড়বো বাংলাদেশ নামক সংগঠনের স্থপতি ও মুখপাত্র ছিলেন। কিন্তু তিনি বিএনপি পুনর্গঠন চেয়ে ‘আসল বিএনপি’ নামে প্লাটফর্ম করে ২০১৫ সালে আলোচনায় আসেন। নানা সময় এই ব্যানারে কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের তীব্র বিরোধিতার মুখেও পড়তে হয়েছে তাকে।
এমন অবস্থায় ঢাকা-১৭ অাসনে নির্বাচন করার জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন তিনি। বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিপরীতে এই আসনে তার প্রার্থী হওয়ার খবরে রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল দেখা দিয়েছে। কারণ বেশকয়েক বছর নীরব থাকার পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন কামরুল হাসান নাসিম।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসনের পাশাপাশি ঢাকা-১৭ আসন থেকেও ভোটে লড়বেন। শুরুতে এই আসনে বিএনপির মিত্র বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) আন্দালিব রহমান পার্থ নির্বাচন করবেন এমনটা আলোচনায় থাকলেও শেষ সময়ে তারেক রহমান প্রার্থী হন। পার্থ তার নিজের আসন ভোলা-১ আসনে প্রার্থী হয়েছেন। এই আসনে আরেক প্রার্থী সামনে এসেছেন। বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপির) ডা. মতিনের অংশ থেকে কাঁঠাল প্রতীকে নির্বাচন করবেন কামরুল হাসান নাসিম।
ঢাকার অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত (গুলশান-বনানী-বারিধারা-ক্যান্টনমেন্ট) ঢাকা-১৭ থেকে তিনি মনোনয়ন জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের তালিকায় বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি- ২৮ নম্বর ক্রমিকে আছে। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এ. এন. এম সিরাজুল ইসলাম ও মহাসচিবের দায়িত্বে আছেন জাফর আহমেদ জয়।
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির হাল ধরতে হবে তারেক রহমানকে। তিনি ঢাকা-১৭ আসন থেকে নির্বাচন করছেন। এই আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামান। তিনিও জনসংযোগ করছেন বেশ আগে থেকে। এবার নতুন প্রার্থী হিসেবে নাম এসেছে কামরুল হাসান নাসিমের।
জানা গেছে, এ পর্যন্ত ঢাকা-১৭ আসন থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ৩৪ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও জমা দিয়েছেন ১৭ জন। বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের বাইরে উল্লেখযোগ্য হিসেবে আছেন- জাতীয় পার্টি (আনিসুল-মঞ্জু) নেতৃত্বাধীন জোটের জহির রায়হানের ছেলে তপু রায়হান, কামরুল হাসান নাসিম ও আরও ১৩জন। তবে তারা খুব একটা পরিচিত নন রাজনৈতিক অঙ্গনে।
এই আসনে আরেকজন পরিচিত মুখ ছিলেন তাজনূভা জাবীন। জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) ভাঙনের খবরের শুরুর দিকে দল থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। তিনিও নির্বাচনেও লড়ছেন না।
প্রার্থী হওয়ার বিষয় নিয়ে নাসিম বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের মৃত্যুর কারণে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মনোনয়ন জমা দেওয়ার বিষয়টি ইচ্ছাকৃতভাবে সামনে আনা হয়নি। কারণ তার মৃত্যুতে আমরা সবাই শোকাহত। তবে ঢাকা-১৭ আসন আমার পরিচিত জায়গা। এখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত যোগাযোগ আছে। আশা করি নির্বাচনে ভালো করতে সক্ষম হবো। যে কারণেই নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি।
সময়ের আলো/জেডআই