নিস্তব্ধ শোকাচ্ছন্ন ‘ফিরোজা’

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজনীতি

বাড়ির অভিভাবককে হারিয়ে শোকাচ্ছন্ন হয়ে আছে ‘ফিরোজা’। যে বাড়িতেই দীর্ঘ সময় থেকেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। ফিরোজার নিরাপত্তা কর্মীরা এখনো

2026-01-01T21:27:36+00:00
2026-01-01T21:27:36+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬,
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
রাজনীতি
নিস্তব্ধ শোকাচ্ছন্ন ‘ফিরোজা’
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:২৭ পিএম 
বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবন ‘ফিরোজা’। ছবি : সংগৃহীত
বাড়ির অভিভাবককে হারিয়ে শোকাচ্ছন্ন হয়ে আছে ‘ফিরোজা’। যে বাড়িতেই দীর্ঘ সময় থেকেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। ফিরোজার নিরাপত্তা কর্মীরা এখনো পাহারা দিচ্ছেন বাড়িটি। প্রহরী ছাউনিসহ সবকিছুই সাজানো গোছানো আছে ঠিক আগের মতই। শুধু নেই বাড়ির মুরুব্বি খালেদা জিয়া। ঢাকা সেনানিবাসে শহিদ মইনুল সড়কের যে বাসাটিতে জিয়াউর রহমান সেনা প্রধান হিসেবে ছিলেন, যে বাসাটিতে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ছিলেন তার মৃত্যুর পর ওই বাসাটি একমাত্র ঠিকানা ছিল খালেদা জিয়ার। কিন্তু এক এগারোর পরে শেখ হাসিনা ক্ষমতা আসার পর এই বাসা থেকে উচ্ছেদ হন খালেদা জিয়া। এরপর গুলশানের এই বাসাটি ‘ফিরোজা’ করা হয় বিএনপি চেয়ারপার্সনের জন্য।

২০১৮ সালে এই বাসা থেকে পুরোনো ঢাকার আদালতে গিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলা রায়ে সরাসরি কারাগারে যান খালেদা জিয়া। করোনা প্রাদুর্ভাবের সময়ে শেখ হাসিনার সরকার বিশেষ শর্তে সাময়িক মুক্তি দিলে হাসপাতাল থেকে ফিরোজাতেই উঠেন বিএনপি চেয়ারপার্সন।

বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের অনেক স্মতি এই বাসায় লেগে আছে, যারা বাড়ির সাথে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত তাদের আবেগ-অনুভূতিও রয়েছে উনাকে ঘিরে। বিএনপি চেয়ারপার্সনের সিকিউরিটি ফোর্স(সিএসএফ) এর একজন সদস্য বলেন, ম্যাডামের ডিউটি করতাম। আজকে ম্যাডাম নেই, পুরো বাড়িটাই খালি। বাড়ির ভেতরে ঢুকলে কেমন জানি একটা শূন্যতা, কেমন জানি একটা নিস্তব্ধতা কানে আসে। দোয়া করি, আল্লাহ যেন ম্যাডামকে ভালো রাখেন পরপারে। আরেক নিরাপত্তা কর্মী বলেন, ম্যাডাম সব সময় আমাদের খোঁজ-খবর রাখতেন। বিকাল অথবা দুপুরে খবর নিতেন আমরা ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করছি কিনা। উনি ছিলেন আমাদের প্রাণের মা।

ফিরোজায় দায়িত্বপালনরত নিরাপত্তার কর্মীরা বুকে কালো ব্যাজ ধারণ করেছে। তাদের চোখে-মুখে শোকের ছায়া ফুটে উঠেছে।

ফিরোজার পাশের লাগোয়া বাসাটি হচ্ছে ১৯৬ নং বাসা। এটি খালেদা জিয়ার নামে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট বিচারপতি আবদুস সাত্তারের সরকার বরাদ্দ দিয়েছিল। ১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পরে তার পরিবারকে। এই বাড়িটির দলিলসহ কাগজপত্র বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকারের গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান ফিরোজায় এসে বিএনপি চেয়ারপার্সনের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন কয়েক মাস আগে। সেই বাসাটিতে উঠেছেন তারেক রহমান।

সেই বাসার সামনে নিরাপত্তা কর্মীরা যারা দায়িত্বরত তাদের মধ্যেও শোকের ছায়া দেখা গেছে। গুলশান অ্যাভিনিউ ডিপ্লোমেটিক জোনের মধ্য পড়ায় সেখানে নেতা-কর্মীদের ভিড় সেভাবে নেই।

‘বাসায় দোয়া-দরুদে তারেক রহমান’

মায়ের চলে যাওয়ার শোকে আচ্ছন্ন তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সারাটি সময় তার করেছেন দোয়া-দরুদ ও নামাজে। বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বাসায় ম্যাডামের আত্মার মাগফেরাত কামনায় ইবাদত বন্দেগিতে ছিলেন। দোয়া-দরুদ, কোরআন তেলোয়াত করেছেন। আত্মীয় স্বজনরা অনেক বাসায় আসছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে সান্ত্বনা জানাতে।

‘গুলশানে চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে শোকের ছায়া’

দলীয় সাত দিনের শোকের অংশ হিসেবে গুলশানের অফিসে কালো পতাকা উড়ুছে। বিএনপির পতাকা এবং জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করা হয়েছে। এখানে শোক বই খোলা হয়েছে। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, রাজনীতিবিদরা আসছেন তাদের শোক জানাতে।

বৃহস্পতিবার সমাজ কল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুর্শিদ, যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জেকবসন, ইরানের রাষ্ট্রদূত মনসুর চাভুশি, জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান, ছারছীনা দরবার শরীফের পীর মাওলানা মুফতি শাহ আবু নছর নেছার উদ্দিন আহমেদ, জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারি, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি-বিএসপির চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী এবং ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি সভাপতি মাহবুবুর রহমানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

জানাজায় বিপুলসংখ্যক মানুষ গভীর ভালোবাসারই প্রতিফলন : ফখরুল

বৃহস্পতিবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়ার জানাজায় বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ তার প্রতি মানুষের গভীর ভালোবাসারই প্রতিফলন।


খালেদা জিয়ার জানাজায় মানুষ বাড়ির ছাদ থেকেও অংশ নিয়েছে— এত বিপুল ভালোবাসার কারণ কী? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, এই ভালোবাসার কারণ হলো, বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি ছিলেন এক বিরল ব্যক্তিত্ব। যিনি তার নীতির প্রশ্নে কখনো আপোস করেননি। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কখনো আপোস করেননি। যিনি তার সমগ্র জীবন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে লড়াই করেছেন, কারাভোগ করেছেন। শেষদিন পর্যন্ত তিনি অসুস্থ ছিলেন। কিন্তু কখনো দেশ ছেড়ে চলে যাননি। 

সময়ের আলো/জেডআই


  বিষয়:   ফিরোজা  বিএনপি  খালেদা জিয়া  ঢাকা সেনানিবাস 


Loading...
Loading...
রাজনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: