রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শিক্ষকের ব্যক্তিগত গাড়ির ধাক্কায় মোসা. লিজা আক্তার নামে এক ছাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় তার একটি পা ভেঙে গেছে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের তাপসী রাবেয়া হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা গেছে।
আহত লিজা আক্তার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী এবং রহমতুন্নেসা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। আর দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়িটির চালক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল আনুমানিক তিনটার দিকে লিজা আক্তার ক্যাম্পাস থেকে নিজ হলে ফিরছিলেন। তাপসী রাবেয়া হলের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ব্যক্তিগত গাড়ি তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি রাস্তায় পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখান থেকে তার অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।
রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, আহত শিক্ষার্থীকে অর্থোপেডিক্স বিভাগের ১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তার পায়ের একটি অংশে ফ্র্যাকচার ধরা পড়েছে এবং বৃহস্পতিবার রাতেই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দীন আম্মার।
আরও পড়ুন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করে লেখেন, ‘গুরুতর আহত শিক্ষার্থীকে ওইভাবে ফেলেই অমানুষের বাচ্চার পরিচয় দিয়ে চলে গিয়েছে গাড়িটা। আমি কিছু বললে মব হয়ে যাবে। প্রশাসন সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে বিচারের আওতায় নিয়ে আসবেন এবং পূর্ণ খরচ বহনসহ শিক্ষার্থীর কোনো কথা থাকলে সেটা পালন করবেন। তা না হলে দেখাটা একটু বাজেভাবে হবে মিস্টার প্রফেসর। রাতের মধ্যেই যেনো শুনি আহত শিক্ষার্থী আপনাকে ক্ষমা করে দিয়েছে।’
পোস্টে সালাউদ্দীন আম্মার আরও লেখেন, ‘এবার এটারে শিক্ষকদের প্রতি সালাহউদ্দিন আম্মার মব করতেছে বলে বিবৃতি চালাইতে চাইলে এমন গালি দেবো যেটা সহ্য করার ক্ষমতা সুশীলদের থাকবেনা।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে ভুল হতেই পারে, কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে মানবিক দায়িত্ব হলো সঙ্গে সঙ্গে আহত শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া। যেহেতু তিনি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং আহত ব্যক্তি আমাদেরই শিক্ষার্থী, তাই দায়িত্ব আরও বেশি ছিল। সে জায়গা থেকে তিনি দায়িত্ব পালন করেননি, এতে আমরাও বিব্রত।
তিনি আরও বলেন, আমি সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, চিকিৎসা ঢাকায় হোক কিংবা প্রয়োজনে দেশের বাইরেও নিতে হলে, সম্পূর্ণ খরচ তাকেই বহন করতে হবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গাড়িচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এফআর