একটি
দেশের কূটনীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ কূটনীতির মাধ্যমে একটি দেশের
সঙ্গে অন্য যেকোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করা সম্ভব। এ কথা আর নতুন
করে বলার অপেক্ষা রাখে না, প্রতিটি দেশে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত থাকে।
সেই রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে অন্য দেশের সম্পর্ককে একদিকে শীতল করা যায়। আবার
সম্পর্ক উচ্চতায় আনা যায়। কূটনীতিক সম্পর্ক শুধু একটি দেশের সঙ্গে
অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক সম্পর্ক নয়। সে সম্পর্ক হতে পারে কখনো
কখনো বন্ধুত্বসুলভ সম্পর্ক।
গত ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশের প্রথম নারী ও
তিনবার প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন জটিল রোগে
শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। পরদিন অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর জানাজার মধ্য দিয়ে
ভালোবাসায় সিক্ততায় শেষ বিদায় দেওয়া হয়। কোটি মানুষকে কাঁদিয়ে অনন্তলোকে
যাওয়ার দৃশ্য ছিল অভাবনীয়। শেষ যাত্রায় পেলেন রাষ্ট্রীয় সম্মান আর লাখো
মানুষের শ্রদ্ধা। খালেদা জিয়ার জানাজায় শরিক হয়েছিলেন সার্কভুক্ত দেশের
পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। খালেদা জিয়ার স্বামী শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান
সার্কভুক্ত দেশ নিয়ে সার্ক গঠনের উদ্যোগ নেন।
গতকাল সময়ের আলোতে
একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। যার শিরোনাম হচ্ছে- কেমন ছিল খালেদার
কূটনীতি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক
প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সরকারের পররাষ্ট্রনীতিকে প্রভাবিত করেছিল তার
সরকারের অর্থনীতি উদারীকরণ কর্মসূচি। এর ফলে প্রতিবেশী ভারতসহ বিভিন্ন
দেশের সঙ্গে যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়তে শুরু করেছিল। আর খালেদা জিয়া
তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েও দুবার তিনি তার মেয়াদ পূর্ণ করতে
পেরেছিলেন। ওই দুই মেয়াদের বিভিন্ন পর্যায়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ আরব দেশগুলোর
সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়,
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো ও ভারতের সঙ্গে সাম্যতা
বজায় রেখে কানেক্টিভিটি বাড়ানোর ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
ভারতের
সঙ্গে বিএনপি সরকারের সুসম্পর্ক কেমন ছিল সে ব্যাপারে সাবেক কূটনীতিক ও
বিশ্লেষকরা বলেছেন, মুক্তবাজার অর্থনীতির ব্যাপারে তিনি ছিলেন উদার। তবে
একতরফা কোনো সুবিধা যেন না পায় সে ব্যাপারটি লক্ষ রেখেছেন। জাহাঙ্গীরনগর
বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক সাহাব এনাম খান
বলেছেন, খালেদা জিয়া সরকারের পররাষ্ট্রনীতির মৌলিক জায়গা তিনটি। লুক ইস্ট
পলিসির মাধ্যমে চীন থেকে শুরু করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে
সম্পর্ক বাড়ানো, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা। এ ছাড়া
সার্ক ও বিমসটেকের মতো আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা। সে
সময় পুশইন কম হয়েছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের তিনবিঘা করিডোর নিয়ে
বেশ সংকট তৈরি হয়েছিল। পরে ১৯৯২ সালে এ বিষয়ে বেশ কিছুটা সমাধানে আসা হয়।
অর্থাৎ সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া সবসময় বিশ্বাস করতেন যেকোনো
ধরনের সমস্যা আলোচনার ভিত্তিতে সমাধান করা সম্ভব।
তিনি সেই পথে
হেঁটেছেন। যে কারণে দেখা যায়, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদে সার্কভুক্ত
দেশগুলো শুধু গভীর শোক প্রকাশ করেই ক্ষান্ত হয়নি, ভারতের প্রধানমন্ত্রী
নরেন্দ্র মোদির এক শোক বার্তা নিয়ে ঢাকায় জানাজায় শরিক হয়েছেন ভারতের
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শংকর। এ ছাড়া পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ
সার্কভুক্ত অন্যান্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও ঢাকায় আসেন। এ আগমনের
বার্তা যেন খালেদা জিয়ার সার্থক কূটনীতিক সম্পর্ককে উন্মোচন করে।
সময়ের আলো/এসকে/