ইরানে চরম অর্থনৈতিক সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে। দেশটির তিনটি শহরে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২ ডিসেম্বর) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সংঘর্ষের ঘটনায় লোরেস্তান, লোর্দেগান, কুহদাশত ও ইসফাহান এলাকায় হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। আধাসরকারি ফারস নিউজ জানায়, লোরেস্তানে একটি পুলিশ সদর দপ্তরে হামলার সময় ৩ বিক্ষোভকারী নিহত ও ১৭ জন আহত হন। সেখানে বিক্ষোভকারীরা কয়েকটি পুলিশ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেন।
মানবাধিকার সংস্থা হেনগাও দাবি করেছে, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বিক্ষোভকারীরা নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ডস জানায়, কুহদাশতে বিক্ষোভকারীদের হামলায় বাসিজ বাহিনীর এক সদস্য নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে ১৩ জন পুলিশ ও বাসিজ সদস্য আহত হন।
এদিকে জনশৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সরকারি সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগে তেহরানে ৩০ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তাসনিম নিউজ।
উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক স্থবিরতার প্রতিবাদে প্রথমে তেহরানে দোকানদারদের ধর্মঘট থেকে এই বিক্ষোভের সূচনা হয়, যা পরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। কিছু বিক্ষোভে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিরুদ্ধে স্লোগানও দেওয়া হয়।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বিক্ষোভকারীদের কিছু দাবি ন্যায্য বলে স্বীকার করলেও সরকার সহিংসতার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে। দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা, রিয়ালের বড় ধরনের অবমূল্যায়ন এবং ৫২ শতাংশ মূল্যস্ফীতি দেশটির অর্থনৈতিক সংকটকে আরও গভীর করেছে।
/ইউএমএইচ