বছরজুড়ে যে ৭ সংঘাতে নজর থাকবে বিশ্বের

সাইদুল কাদের

আন্তর্জাতিক

দ্বিতীয়বারের মতো মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষমতায় আসার পর থেকে একের পর এক সংঘাত থামানোর দাবি করে চলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গাজা যুদ্ধের

2026-01-02T22:59:11+00:00
2026-01-02T23:03:39+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
বছরজুড়ে যে ৭ সংঘাতে নজর থাকবে বিশ্বের
সাইদুল কাদের
প্রকাশ: শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম  আপডেট: ০২.০১.২০২৬ ১১:০৩ পিএম
বছরজুড়ে যে ৭ সংঘাতে নজর থাকবে বিশ্বের। গ্রাফিক : সময়ের আলো
দ্বিতীয়বারের মতো মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষমতায় আসার পর থেকে একের পর এক সংঘাত থামানোর দাবি করে চলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গাজা যুদ্ধের মতো তীব্র সংঘাত থামিয়েও দেখিয়েছেন। শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার লক্ষ্যে স্থির তিনি, দাবিও করে আসছেন বারংবার। তবে তার যাবতীয় উদ্যোগ সত্ত্বেও এক ভয়ংকর ভবিষ্যতের পূর্বাভাস নিয়ে আসছে ২০২৬ সাল। আগামী বছরে পৃথিবীর অন্তত ৭টি অঞ্চলে মারাত্মক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকরা।

এই সংঘাতগুলোর মধ্যে জড়িয়ে রয়েছে বেশ কয়েকটি পরমাণু শক্তিধর দেশ। কিছু ক্ষেত্রে আবার সংঘাত দেখা যেতে পারে অর্থনৈতিক এবং সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে। কিছু সংঘাত ইতোমধ্যেই চলছে, আর কিছু ক্ষেত্রে যুদ্ধ শুরুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এসব আলোচিত বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো এই নিবন্ধে।   

চীন-তাইওয়ান সংকট : অবরোধ নাকি সরাসরি যুদ্ধ?

দুই দেশের মধ্যে সামরিক ক্ষমতার বিশাল পার্থক্য চীনকে প্রলুব্ধ করতে পারে তাইওয়ানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে। যদিও চোখের সামনে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে বেইজিং বুঝেছে খাতায়-কলমে সামরিক ক্ষমতায় অনেক পিছিয়ে থাকা কোনো দেশ দখলেও কত সমস্যা হতে পারে।

সম্প্রতি চীন তাইওয়ানের আশেপাশে তাদের মহড়াকে  ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ডের’ জন্য ‘কঠোর শাস্তি’ বলে অভিহিত করেছে। ছবি : বিবিসি

সম্প্রতি চীন তাইওয়ানের আশেপাশে তাদের মহড়াকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ডের’ জন্য ‘কঠোর শাস্তি’ বলে অভিহিত করেছে। ছবি : বিবিসি


তারপরও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সামরিক ক্ষমতার বিশাল ফারাকই বেইজিংকে দুঃসাহসী করে তুলতে পারে। বিশেষ করে যদি তাইওয়ানের উপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো। তবে সরাসরি আক্রমণের চেয়ে আপাতত অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ : এখনও উত্তেজনা ও রেষারেষি

পারমাণবিক শক্তিধর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যের এই সংঘাত নতুন নয়, তবে এখনও কোন মীমাংসা হয়নি। আগামী কয়েক বছরেও সেই সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। ২০২৫-এর এপ্রিলে ভারতের পেহেলগাম জঙ্গি হামলার পরে দুই দেশের মধ্যে যে ১৩ দিনের সংঘাত হয়, তাতে সীমান্ত এবং নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর দুই দেশের বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

গত এপ্রিলে যুদ্ধ চলাকলীন ভারতীয় দুটি যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। ছবি : সংগৃহীত

গত এপ্রিলে যুদ্ধ চলাকলীন ভারতীয় দুটি যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। ছবি : সংগৃহীত


ভারতের দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গত কয়েক বছরে দুই দেশের মধ্যে সামরিক ক্ষমতার ব্যবধান অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের যাবতীয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করছেন ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির।

এই অবস্থায় ২০২৬-এ দুই দেশ কতটা সংযম বজায় রাখবে তা নিয়ে সন্দিহান সামরিক বিশ্লেষকরা। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে ভারত নীতি নিয়েছে, সন্ত্রাসবাদী হামলা হলেই পাকিস্তানে হামলা চালিয়ে তার জবাব দেওয়া হবে। পরাশক্তির দেশ পাকিস্তানও সেই ক্ষেত্রে বসে থাকবেন না বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ : দীর্ঘ এই যুদ্ধের পরিণতি কী?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকার যত সৈন্যের মৃত্যু হয়েছিল, ইতোমধ্যেই তাকে ছাপিয়ে গিয়েছে ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত রুশ সৈন্যের সংখ্যা। ২০২২-এ যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের ১.৩ শতাংশ অতিরিক্ত অঞ্চল দখল করেছে মস্কো।

রুশ-ইউক্রেনীয় যুদ্ধের সময়কার শীতকালীন পরিস্থিতিতে ইউক্রেনীয় সৈন্যরা একে অপরকে সাহয্য করছে। ছবি : সংগৃহীত

রুশ-ইউক্রেনীয় যুদ্ধের সময়কার শীতকালীন পরিস্থিতিতে ইউক্রেনীয় সৈন্যরা একে অপরকে সাহয্য করছে। ছবি : সংগৃহীত


যুদ্ধ থামানোর জন্য ২০২৫-এ ট্রাম্প দারুণ উৎসাহী ছিলেন। কিন্তু বছর শেষ হতে হতে যুক্তরাষ্ট্রও যেন আগ্রহ হারিয়েছে। এই যুদ্ধে যে পরিমাণ মানবসম্পদ হারিয়েছে রাশিয়া, তাতে ২০২৬-এ এই যুদ্ধের গতি অত্যন্ত ধীর হবে অথবা ক্লান্তির কারণেই এই সংঘাত থেমে যেতে পারে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

তবে যুদ্ধের শেষে দুটি ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের-  প্রথমত, ক্রেমলিনের চাপে ইউক্রেনের রাজনৈতিক পতন। দ্বিতীয়ত, আকাশপথে ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার তেল উৎপাদন শিল্পের পতন ঘটে রুশ অর্থনীতি ভেঙে পড়া।

এই দুই সম্ভাবনার যে কোনোটি সত্যি হলে, তা ইউরোপ তথা গোটা বিশ্বের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হবে।

ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ : সত্যি কি থেমেছে?

গত বছরের অক্টোবরে ট্রাম্পের উদ্যোগে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে। তবে তারপর থেকে বহুবার দুই পক্ষই একে অন্যের বিরুদ্ধে সেই চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে। টানা দুই বছরের ইসরায়েলি গোলাবর্ষণে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গাজা। এখনও গাজা ভূখণ্ডের অর্ধেকের বেশি এলাকা ইসরায়েলি বাহিনীর দখলে রয়েছে।

তবে যে উৎসাহ নিয়ে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি চুক্তির সময়ে দেখিয়েছিলেন, শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রেও যদি তিনি ও তার মিত্ররা সমান আগ্রহ দেখান— অবশ্যই আশার আলো থাকবে। তবে এখনও পর্যন্ত পরিস্থিতি যে দিকে এগোচ্ছে, তাতে গাজাবাসীর সেই তিমিরেই থেকে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসরায়েলি গোলাবর্ষণের পর গাজায় আবাসিক ভবনের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের দৃশ্য। ছবি : রয়টার্স

ইসরায়েলি গোলাবর্ষণের পর গাজায় আবাসিক ভবনের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের দৃশ্য। ছবি : রয়টার্স


ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা কাটার কোনো সম্ভাবনা আপাতত দেখা যাচ্ছে না। আপাতত দৃষ্টিতে যুদ্ধ বন্ধ, তবে একটি স্ফুলিঙ্গ পেলেই ফের শুরু হতে সময় লাগবে না।

কঙ্গো-রোয়ান্ডা সংঘাত : সোনা ও কোবাল্টের লড়াই

পূর্ব কঙ্গোর খনিজ সম্পদের নিয়ন্ত্রণ, খনিজ সম্পদের দখল এবং জাতিগত ক্ষোভ-বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে কয়েক দশক ধরে কঙ্গো আর রোয়ান্ডার মধ্যে উত্তেজনা রয়েছে। এই উত্তেজনা ২০২৬-এ পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চলতি বছরেই তার ইঙ্গিত মিলেছে। রোয়ান্ডার পাঠানো অস্ত্র ও রসদে বলীয়ান হয়ে কঙ্গোর অন্যতম প্রধান শহর গোমা দখল করে নিয়েছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী এম-২৩। অন্যদিকে কঙ্গো সরকারকে সাহায্যে এগিয়ে এসেছে উগান্ডা।

কঙ্গোর সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা স্থানীয় মিলিশিয়া এবং বিদেশী-সমর্থিত বিদ্রোহীদের সাথে লড়াই করছে। ছবি : ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস

কঙ্গোর সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা স্থানীয় মিলিশিয়া এবং বিদেশী-সমর্থিত বিদ্রোহীদের সাথে লড়াই করছে। ছবি : ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস


হোয়াইট হাউসের মধ্যস্থতায় কঙ্গো এবং রোয়ান্ডার মধ্যে একটা যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তাতে এম-২৩ কোনো ভূমিকা রাখেনি। কাজেই এই চুক্তি গুরুত্বহীন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষ করে এই সংঘাতের কেন্দ্রে রয়েছে সোনা এবং কোবাল্টের মতো মূল্যবান খনিজ। বিশ্বের মোট কোবাল্ট উৎপাদনের ৭৬ শতাংশই হয় কঙ্গোয়। বৈদ্যুতিক ব্যাটারি তৈরিতে এই ধাতু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সুদান সংঘাত : সোনার লোভে বিশ্বের সবচেয়ে বর্বর সহিংসতা

বর্তমানে তীব্র যুদ্ধ চলছে সুদানিজ আর্মড ফোর্সেস (এসএফ) এবং র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএএফ) এর মধ্যে। এই ভয়ংকর সংঘাতের জেরে প্রায় ১ কোটি ১৬ লাখ মানুষ এখন ঘরছাড়া। হতাহতের হিসাব ধারণারও বাইরে বলা চলে।

সুদানের গৃহযুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষ আদ্রেতে মাসিক ত্রাণের জন্য জড়ো হচ্ছে। ছবি : সিএনএন

সুদানের গৃহযুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষ আদ্রেতে মাসিক ত্রাণের জন্য জড়ো হচ্ছে। ছবি : সিএনএন


রাষ্ট্রপুঞ্জের মতে, সুদানের সংঘাত আফ্রিকার সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট। তবে এই সংঘাত থামাতে একজন বড় আগ্রহ দেখাতে পরেন, অবশ্য তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ছাড়া আর কেউ নন। শান্তির নোবেলের হাতছানি তো আছেই। এ ছাড়া রয়েছে সোনা, খনিজ তেল এবং লোহিত সাগরে সুদানের লম্বা উপকূল রেখা।

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন নজর : তেলের যুদ্ধ না ক্ষমতার?

গায়ানার দুই-তৃতীয়াংশ জুড়ে রয়েছে খনিজ তেল সমৃদ্ধ এসেকুইবো অঞ্চল। এই অঞ্চল তাদের বলে দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে প্রতিবেশী দেশ ভেনেজুয়েলা। ২০২৫-এ তাদের এই দাবির সপক্ষে জনমত ছড়িয়েছে ল্যাটিন আমেরিকার এই দেশ। তবে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর দেশের যে কোনো পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের পথ খুলে দিতে পারে।

কারণ অতি সম্প্রতি এই অঞ্চলে নজর পড়েছে ট্রাম্পের। ভেনেজুয়েলার উপকূলে সামরিক বাহিনী জড়ো করছে আমেরিকা। একের পর এক সম্পদ বোঝাই জাহাজ জব্দ করছে মার্কিনিরা। বোমা মেরে উড়িয়ে দিচ্ছে সেই দেশের ছোট নৌকোও। এর মধ্যে গায়ানার দিকে হাত বাড়ালে যুক্তরাষ্ট্র অবশ্যই সামরিক পদক্ষেপ করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ক্যারিবীয় অঞ্চলে গত অক্টোবরে মার্কিন সৈন্যের একটি দল পুয়ের্তো রিকোর অ্যারোইওতে প্রশিক্ষণ অনুশীলনে। ছবি : রয়টার্স

ক্যারিবীয় অঞ্চলে গত অক্টোবরে মার্কিন সৈন্যের একটি দল পুয়ের্তো রিকোর অ্যারোইওতে প্রশিক্ষণ অনুশীলনে। ছবি : রয়টার্স


সবশেষ কথা হলো, এই সংঘাতগুলোর যে কোনোটিই গোটা বিশ্বের অর্থনীতি, নিরাপত্তা এবং মানবিক পরিস্থিতির উপরে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। এই সব দেশের রাষ্ট্রনেতারা শান্তি বা স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কী পদক্ষেপ নেন, সেটাই আসন্ন বছরের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

● রয়টার্স, আলজাজিরা, সিএনএন ও ফার্স্টপোস্ট অবলম্বনে অনূদিত


সময়ের আলো/জেডআই


  বিষয়:   মার্কিন প্রেসিডেন্ট  সংঘাত  ডোনাল্ড ট্রাম্প  গাজা  শান্তিতে নোবেল  সামরিক  আলোচিত 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: