আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে চূড়ান্ত করা ভোটকেন্দ্রগুলোর মধ্যে এখনও ৩২৫টিতে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। এসব কেন্দ্রে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
রোববার (৪ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের উপসচিব মো. হুমায়ুন কবিরের সই করা চিঠিতে বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিবকে এই নির্দেশনা পাঠানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে স্থাপিত কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ৩২৫টি কেন্দ্রে বিদ্যুৎ সুবিধা নেই। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ ও কার্যক্রম নিশ্চিতে এসব কেন্দ্রে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎহীন ভোটকেন্দ্রের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে রাঙামাটি জেলা। সেখানে ৫১টি ভোটকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। এর পরই রয়েছে বান্দরবান ৫০টি, কুড়িগ্রাম ৩৩টি, ভোলা ৩১টি, খাগড়াছড়ি ২২টি এবং সিরাজগঞ্জে ১৮টি ভোটকেন্দ্র।
এ ছাড়া গাইবান্ধায় ১১টি, টাঙ্গাইল ও মানিকগঞ্জে ৯টি করে, ফরিদপুরে ৮টি, রাজশাহী, ঢাকা, শরীয়তপুর ও নোয়াখালীতে ৭টি করে, লালমনিরহাট ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৬টি করে এবং খুলনা ও কক্সবাজারে ৫টি করে ভোটকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। কিশোরগঞ্জে ৪টি, জামালপুর, ময়মনসিংহ, সুনামগঞ্জ ও চট্টগ্রামে ৩টি করে, ঠাকুরগাঁও, রংপুর, বরগুনা, গাজীপুর, মৌলভীবাজার ও লক্ষ্মীপুরে ২টি করে এবং বাগেরহাট, বরিশাল, নরসিংদী, মাদারীপুর ও চাঁদপুরে একটি করে ভোটকেন্দ্র বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে। ইসির চিঠিতে বলা হয়েছে, ৩২৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে যেসব কেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব, সেখানে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার সংস্কার ও মেরামত, সিসি ক্যামেরা স্থাপন বা সংস্কার এবং ভোটকেন্দ্রে যাতায়াতের ভাঙা ও সংকীর্ণ সড়ক মেরামতের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবকেও চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে সারাদেশে মোট ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষদের জন্য ১ লাখ ১৫ হাজার ১৩৭টি এবং নারীদের জন্য ১ লাখ ২৯ হাজার ৬০২টি ভোট কক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বমোট ২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৯টি ভোট কক্ষের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে। তবে একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটারদের সুবিধার্থে প্রতিটি কেন্দ্রে গোপন বুথের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।
তফসিল অনুযায়ী, রোববার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি থেকে। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। ভোট গ্রহণ করা হবে ১২ ফেব্রুয়ারি। একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জাতীয় গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।
আরআর