চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) তেপান্তর সাহিত্য সভার প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি অডিটোরিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এসময় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান। বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি, গবেষক ও সম্পাদক ইমরান মাহফুজ এবং ইতিহাসবিদ, গবেষক ও শিক্ষক প্রফেসর ড. আনন্দ বিকাশ চাকমা। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লেখক, গবেষক ও শিক্ষক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শেখ সাদী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি বিভাগের শিক্ষক মীম মিজান, মেহরান নাজাফি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা।
প্রোগ্রামে স্বাগত বক্তব্য রাখেন তেপান্তরের প্রশিক্ষণ সম্পাদক জান্নাতুল আদন নুসরাত। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন চাকসুর সহ সাহিত্য সম্পাদক জিহাদ আহনাফ। সঞ্চালনা করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী ফাহমিদা ফাহা এবং সমাপনী বক্তব্য রাখেন তেপান্তরের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ রিয়াদ উদ্দিন।
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, সাহিত্যে অগ্রসর হতে হলে আমাদের বেশি বেশি পড়তে হবে। দুনিয়ায় কোথাও না পড়ে কেউ বা কোনো দেশ উন্নতি করতে পারেনি। আমরা বেসিক্যালি ভালো পাঠক হওয়া থেকে দূরে আছি এবং এটাই আমাদের লেখালেখি ও সাহিত্যে পিছিয়ে রাখছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের সংস্কৃতি ছেড়ে ভিনদেশী সংস্কৃতি চর্চা করছি, যা আদৌ প্রগতিশীলতা নয়। নিজেদের সংস্কৃতি আঁকড়ে ধরে চর্চার মাধ্যমেই বরং আমাদের প্রগতিশীলতা প্রকাশিত হবে। কোনো কিছু বলা বা লেখার আগে উক্ত বিষয়ে পড়া ও জানা দরকার এবং সত্যতা যাচাই করে বলা উচিত। কেবল অন্যের বলা কথার ওপর ভর করেই কথা বলা বা লেখা উচিত নয়।
বিশেষ আলোচকের বক্তব্যে ইমরান মাহফুজ বলেন, লেখক হওয়ার প্রথম শর্ত হলো একজন ভালো পাঠক হওয়া। আর শুধু পাঠ করলেই হবে না, সেগুলোর যাপন করাও উচিত।
‘কলমের আচঁড়ে প্রগতির পাঠ’ এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে ২০২২ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন সৃষ্টিশীল তরুণ লেখকের হাত ধরে গড়ে উঠে ‘তেপান্তর সাহিত্য সভা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়’ (তেসাস)। প্রতিষ্ঠালগ্নের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে তেপান্তর। মানিবক উন্নত বোধ ও শিল্পিত বিশ্বের বিনির্মাণে সমাজ ও সভ্যতার বৈষম্য, সমস্যা ও বিবিধ অসঙ্গতির নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত সম্পৃক্ততার মাধ্যমে নিয়মিত লেখালেখি, পাঠচক্র, আড্ডা, আলোচনা সভা, সেমিনার ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করে আসছে তেপান্তর। ২৪শের জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও তেপান্তর সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে। জুলাই গণঅভ্যুথান নিয়ে আয়োজন করেছে কয়েকটি সেমিনার ও আলোচনা সভাও। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাহাড় ও প্রাণ-প্রকৃতির মাঝে বুদ্ধিবৃত্তির রসায়ন বিকাশে তেপান্তর এক প্রাণবন্ত ক্লাব।
সময়ের আলো/ এসকে/