আনিসউদদৌলা বাংলাদেশের একজন শীর্ষ ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা। একই সঙ্গে তিনি দেশের করপোরেট জগতের নেতা, যিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের ব্যবসায় ও শিল্প খাতে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। আনিসউদদৌলার জন্ম ১৯৩৪ সালে ফরিদপুরে। ১৯৫২ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানে ভর্তি হন এবং ১৯৫৯ সালে করাচিতে লোকপ্রশাসনে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে ব্যবসায়িক নেতৃত্ব ও আধুনিক করপোরেট সংস্কৃতি গড়ে তোলায় অনন্য দৃষ্টান্ত প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি ১৯৯২ সালে এসিআই গড়ে তুলে দেশের শীর্ষ ও আধুনিক করপোরেট হিসেবে প্রতিষ্ঠান দেন এবং এটিকে দেশের প্রথম আইএসও-সনদপ্রাপ্ত কোম্পানিতে উন্নীত করেন। তার নেতৃত্বে এসিআই ওষুধ, কৃষি, ভোগ্যপণ্য ও খুচরা বিপণনসহ বিভিন্ন খাতে বিস্তৃত হয়ে বাংলাদেশের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তার নেতৃত্বে গড়া দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এসিআই গ্রুপ খাদ্যপণ্য, পানীয়, সিমেন্ট, ইস্পাত, টেক্সটাইল, রিয়েল এস্টেট এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বাংলাদেশের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে তিনি যে ভূমিকা রেখেছেন, তা দেশের ব্যবসায়িক ইতিহাসে অনন্য। তার নেতৃত্বে এসিআই একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠেছে, যেখানে গুণগতমান, উৎপাদনশীলতা এবং গ্রাহকসেবাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। এসিআই লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানও তিনি।
ব্যবসায়িক নেতৃত্বের পাশাপাশি আনিসউদদৌলা দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি ১৯৭৭, ১৯৭৮, ১৯৯৫ এবং ২০১০ সালে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এমসিসিআই), ঢাকার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ১৯৭৫-৭৬, ১৯৭৬-৭৭, ১৯৯১-৯২, ১৯৯২-৯৩, ২০০৩-০৪ এবং ২০০৪-০৫ মেয়াদে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ সিড অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি অব বাংলাদেশের পরিচালক। পাশাপাশি তিনি ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আনিসউদদৌলার জন্ম ১৯৩৪ সালে ফরিদপুরে। তার পিতার নাম খান বাহাদুর মোহাম্মদ ইসমাইল। সাত ভাইবোনের মধ্যে তিনি ষষ্ঠ। সম্ভ্রান্ত এ পরিবারের সবাই বেশ সুপরিচিত। এর মধ্যে বড় বোন ফিরোজা বেগম উপমহাদেশের বিখ্যাত নজরুল সংগীতশিল্পী। ছোটভাই আসাফউদৌলাও একজন সংগীতশিল্পী ও সাবেক সচিব।
আনিসউদদৌলা ১৯৫২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্দাথবিদ্যায় ভর্তি হন। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায়ও তার মনোযোগ ছিল। খেলাধুলায় তিনবার সেরা হয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনাকালে এশিয়া ফাউন্ডেশনের একটি বৃত্তি নিয়ে তিনি করাচিতে লোকপ্রশাসনে ভর্তি হন। ১৯৫৯ সালে তিনি স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
প্রাথমিকভাবে সরকারি চাকরির জন্য সিভিল সার্ভিস অব পাকিস্তানে (সিএসপি) পরীক্ষা দিলেও সেখানে আর যোগ দেননি। তিনি চাকরি নেন অক্সিজেন কোম্পানিতে আঞ্চলিক শাখা ব্যবস্থাপক পদে। তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে বিভিন্ন জায়গায় চাকরির পর ১৯৭০ সালে ঢাকায় বদলি হন। তবে সে সময় অক্সিজেন কারখানা বন্ধ হয়ে যায়।
তৎকালীন আইসিআই ব্যবসা গুটিয়ে নিলে এই ব্যবসা চালু রাখার জন্য আনিসউদদৌলা ১৯৯২ সালে বাংলাদেশে আইসিআইয়ের ব্যবসার সঙ্গে মিল রেখে প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ করেন এসিআই। এমনকি প্রতিষ্ঠানটির লোগোও নির্ধারণ করেন প্রায় একইরকম। এসিআই প্রথম বাংলাদেশি কোম্পানি হিসেবে আইএসও সনদ পায়। সেই থেকে এসিআইর যাত্রা শুরু।
আনিসউদদৌলার অ্যাডভান্সড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (এসিআই) এখন বছরে সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা লেনদেন বা টার্নওভারের ব্যবসায়ী গোষ্ঠী। এর অধীনে কোম্পানি আছে প্রায় ২৫টি। ওষুধ, কৃষি, অটোমোবাইল, ভোগ্যপণ্য, সুপারস্টোর মিলিয়ে বহু খাতে তাদের ব্যবসা। অনেক পণ্যের বাজারেই তারা শীর্ষস্থানীয়।
আনিসউদদৌলার গড়ে তোলা এসিআইয়ের কার্যক্রম ওষুধ শিল্প থেকে শুরু করে কৃষি, ভোগ্যপণ্য এবং খুচরা চেইন শপ পর্যন্ত বিস্তৃত। ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে এসিআই-এর প্রধান ব্যবসায়িক বিভাগগুলোর যত তথ্য :
এসিআই ফার্মাসিউটিক্যালস (ঔষধ শিল্প) এটি গ্রুপের মূল চালিকাশক্তি এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান।
রফতানি : বর্তমানে বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশে ওষুধ রফতানি করছে। সম্প্রতি কোম্পানিটি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও ওষুধ রফতানি শুরু করেছে, যা বাংলাদেশের ঔষধ শিল্পের জন্য একটি বড় মাইলফলক।
মান নিয়ন্ত্রণ : বাংলাদেশের প্রথম কোম্পানি হিসেবে ১৯৯৫ সালে আইএসও ৯০০১ সনদ পায়।
পণ্য : জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ছাড়াও এটি নবীন প্রযুক্তি যেমন ইনসুলিন, বায়োসিমিলার এবং হরমোন পণ্য উৎপাদনে বিশেষায়িত।
এসিআই কনজ্যুমারস ব্র্যান্ডস ( ভোগ্যপণ্য)দৈনন্দিন ব্যবহারের পণ্যে এসিআইর ব্র্যান্ডগুলো বাংলাদেশের মানুষের কাছে অত্যন্ত বিশ্বস্ত
স্বাস্থ্য সুরক্ষা : স্যাভলন, এসিআই অ্যারোসল এবং ভ্যানিশের মতো ব্র্যান্ডের মাধ্যমে এটি পরিচ্ছন্নতা খাতে বাজারের নেতৃত্ব দিচ্ছে।
খাদ্যপণ্য : ‘এসিআই পিওর’ ব্র্যান্ডের অধীনে লবণ, আটা, ময়দা, চাল এবং মসলা বাজারজাত করে।
ব্যক্তিগত যত্ন : নিম অরিজিনাল ব্র্যান্ডের মাধ্যমে
প্রাকৃতিক স্কিনকেয়ার পণ্য বাজারে এনেছে।
এসিআই এগ্রি-বিজনেস (কৃষি ব্যবসা)এটি বাংলাদেশের কৃষি খাতের বৃহত্তম সমন্বিত সমাধান দাতা প্রতিষ্ঠান।
এসিআই মটরস : জাপানি ব্র্যান্ড ইয়ামাহার একমাত্র ডিস্ট্রিবিউটার ও টেকনিক্যাল পার্টনার। ২০২৫ সালের মে মাসে কোম্পানিটি মাসিক সর্বোচ্চ ৪৩৭.৫ কোটি টাকার বিক্রয় রেকর্ড গড়েছে।
কৃষি প্রযুক্তি : ট্রাক্টর, হারভেস্টার এবং আধুনিক সেচ যন্ত্রপাতির মাধ্যমে দেশের কৃষি যান্ত্রিকীকরণে প্রধান ভূমিকা রাখছে।
বীজ ও সার : উন্নত মানের হাইব্রিড বীজ এবং অনুখাদ্য সারের বড় সরবরাহকারী।
এসিআই লজিস্টিকস (স্বপ্ন সুপারশপ)‘স্বপ্ন’ বাংলাদেশের বৃহত্তম রিটেইল চেইন শপ। দেশজুড়ে ৬৮০টিরও বেশি আউটলেটের মাধ্যমে এটি প্রায় ৪৩ লাখ পরিবারের কাছে পৌঁছাচ্ছে। খুচরা বিক্রয়ের পাশাপাশি এটি স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি পণ্য সংগ্রহ করে তাদের নায্যমূল্য নিশ্চিত করছে।
অন্যান্য সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও জয়েন্ট ভেঞ্চারএসিআই ফরমুলেশন : কীটনাশক এবং ঘরের পরিচ্ছন্নতাসামগ্রী উৎপাদন করে।
এসিআই হেলথকেয়ার : যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রফতানির জন্য বিশেষায়িত কারখানা পরিচালনা করে।
এসিআই গোদরেজ এগ্রোভেট : গবাদিপশু এবং মাছের খাদ্যের জন্য একটি যৌথ উদ্যোগ।
এসিআই কো-রো : ডেনমার্কের কোম্পানির সঙ্গে ফ্রুট ড্রিঙ্ক তৈরির অংশীদারত্ব।
কোম্পানির সর্বশেষ কার্যক্রম বা আর্থিক অবস্থার বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে তাদের অফিসিয়াল নিউজ সেকশন ভিজিট করতে পারেন।
গত সোমবার সময়ের আলোর পক্ষ থেকে আনিসউদদৌলার এক সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। সাক্ষাৎকার নেন সময়ের আলোর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক।
সাক্ষাৎকারে নিজে শিক্ষা ও কর্মজীবন এবং দেশের অনন্য শিল্পোদ্যক্তা হয়ে ওঠার পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনের খুঁটিনাটি নিয়েও কথা বলেন, যা পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো
সময়ের আলো : আপনার ছোট বেলার কিছু গল্প শুনতে চাই।
আনিসউদদৌলা : আমি ছোটবেলায় খুব যে ডানপিটে ছিলাম তা নয়। তবে আমরা সবাই পিঠাপিঠি ভাইবোন। তাই মাঝেমধ্যে একটু তো মারামারি হতোই। আমি আবার সে বিষয়ে তেমন পারদশী ছিলাম না। তবে একবার ছোটভাই আসাফউদদৌলাকে ঘায়েল করেছিলাম। আমাদের পরিবারের সব সদস্যের জন্য আব্বার বেশ কড়া নজরদারি ছিল। সন্ধ্যার পর বাসা থেকে বের হওয়া যেত না। আর পড়াশোনায় কোনো ফাঁকি দেওয়া চলত না।
আপনার ছোটভাই আসাফউদদৌলা তো সাঁতারে বেশ পারদর্শী ছিলেন, আপনি কি সাঁতার শিখেছিলেন?সাঁতার শিখেছি। তবে ওর মতো এত পারদর্শী ছিলাম না। সে তো সাঁতারে চ্যাম্পিয়ন হতো।
আপনার বোন একজন বিখ্যাত সংগীতশিল্পী, আপনি কেন গানের জগতে এলেন না? না, আমার দ্বারা গান কখনোই হবে না জেনে গানের জগতে যাইনি। আমি ওদের গান শুনি।
আপনি কেন সিএসপি পরীক্ষা দিয়ে অক্সিজেন কোম্পানিতে যোগদান করলেন?সে সময় সিএসপিদের বেতন ছিল নেহায়েত কম। যদিও সরকারি চাকরি, এরপরও আমি দেখলাম অক্সিজেনে বেতন তুলনামূলকভাবে বেশ ভালো, তাই ভেবেচিন্তে যোগদান করলাম।
আপনার এসিআইর জন্ম হলো কীভাবে? এটা তো একটা কোম্পানি ছিল। ওই কোম্পানি যখন তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিল তখন আমাকে অফার দিল আমি নেব কি না, আমি ভেবে-চিন্তে কোম্পানিটি হাতে তুলে নিই।
ওই কোম্পানির বৈশিষ্ট্য কি ছিল যে আপনি তাদের কোম্পানি হাতে তুলে নিলেন? ওদের প্রধান ও অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল গুণগতমান। ভোক্তারা যেন কোনোভাবেই কোনো ধরনের অভিযোগ করতে না পারে। আমি ওদের কোম্পানির লোগোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে লোগো ব্যবহার করি। এ ছাড়া প্রতিটি পণ্যের মান যেন বিশুদ্ধতায় পরিপূর্ণ থাকে সে বিষয়ে নজরদারি করি।
আপনি কোম্পানি কেনার জন্য এত টাকা পেলেন কোথায়?আমাকে টাকা দিতে হয়েছে একসঙ্গে নয়। আস্তে আস্তে পরিশোধ করা হয়েছে। সে সময়কার টাকার পরিমাণ ছিল ৬০ লাখ। তবে এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না সে কোম্পানির বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য ছিল। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে. কাস্টমার ফোকাস। আর গুণগতমান তো ছিলই।
আপনার এসিআই এত দূর এলো কীভাবে? আমরা প্রথমে ওষুধ থেকে শুরু করে এগ্রোকেমিক্যাল ব্যবসা সম্প্রসারণ করি। আমরাই প্রথম এগ্রোকেমিক্যালে আসি। মোটকথা এগ্রো বিজনেস যত আছে- তা মোটামুটি আস্তে আস্তে সম্প্রসারণ করতে শুরু করি। কি নেই এগ্রো বিজনেসে? কীটনাশক থেকে শুরু করে- সার, পাওয়ার টিলার সব কিছুতেই আমরা এগিয়ে যাই। মোটকথা ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে একজন কৃষকের যা যা প্রয়োজন সবকিছু নিজেরা শুরু করি। এরপর ফিশিং থেকে শুরু করে প্রাণিসম্পদের গবাদিপশুর ব্যবসায় চলে আসি। কুরবানির সময়ে দেশে যত গরু কুরবানি হয়- তার বেশিরভাগ আমরা সরবরাহ করি। তবে যেন-তেন প্রাণিসম্পদ সরবরাহ করি না। প্রত্যেকটির গুণগতমান বজায় রেখে সরবরাহ করি।
আপনারা তো প্লাস্টিকের মোড়ক কভার তৈরি করেন? হ্যাঁ, আমরা প্লাস্টিক মোড়ক থেকে শুরু করে চানাচুরের প্যাকেট, বিভিন্ন ধরনের কভার উৎপাদন করি। তবে প্রত্যেকটির মান বজায় রেখে। আর পরিবেশসম্মতভাবে উৎপাদন করা হয়।
আপনারা কি বাচ্চাদের খেলনা তৈরি করেন? কথাটি মিথ্যা নয়। বাচ্চাদের আইটেমের মধ্যে খেলনা উৎপাদন করি তাদের মতো করে।
আপনারা তো লবণ বাজারজাত করছেন, এটি কতটা স্বাস্থ্যসম্মত? আমরা তো বলবই স্বাস্থ্যসম্মত। কিন্তু যারা ব্যবহার করছেন তাদের কাছ থেকেই মতামত পেলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। এসিআইয়ের লবণ আয়োডিনযুক্ত। যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকার হয়।
আপনাদের এসিআই অ্যারোসল নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। আর সেই অভিযোগটি হচ্ছে মশা মরে না? প্রশ্নটি আমার কাছে ভালো লেগেছে। আমি প্রথমে বলতে চাই, অ্যারোসেল দিয়ে মশা মরবে না। আমরা যে পরিমাণ কেমিক্যাল ডোজ দিই তাতে মশা বেহুঁশ হয়ে পড়বে। দুর্বল হয়ে পড়বে। কামড়ানোর আর শক্তি পাবে না। আপনারা খেয়াল করে দেখলে টের পাবেন- অ্যারোসেল দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মশা আস্তে করে মিইয়ে মাটিতে পড়ে যায়। সেই বেহুঁশ হয়ে যাওয়া মশা ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করলেই চলবে। আর যদি বেশি ডোজ দেওয়া হয় তা হলে তো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এবার আসি আপনাদের চালের কথায়? আমি চাল নিয়ে এতটুকু বলব, এসিআইয়ের চাল গুণগত মানসম্পন্ন। এই চাল ধুতে হবে না। শুধু পানির মধ্যে ছেড়ে দিলেই চলবে। এই চাল ভিটামিনসমৃদ্ধ। অন্য চালের মতো কোনো ধরনের খুদ নেই। যখন চাল তৈরি করা হয় সে সময় আর্দ্রতা চেক করে প্যাকেট করা হয়।
আপনাদের প্রত্যেকটি পণ্য কি গুণগতমান ধরে রাখতে পেরেছে? আমরা চেষ্টা করি গুণগতমান ধরে রাখার। তবে কোনো কাস্টমার যদি কোনো ধরনের অভিযোগ করেন- তা হলে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পদক্ষেপ নিই।
এবার আসি স্বপ্ন নিয়ে। কখন স্বপ্ন দেখলেন এই স্বপ্নের? যেকোনো ব্যবসায়ী নিত্যনতুন ব্যবসার স্বপ্ন দেখতে পারেন। বলা যেতে পারে স্বপ্ন দেখেছে আমার ছেলে আরিফউদদৌলা। তারই পরিকল্পনা অনুযায়ী স্বপ্ন লে আউট হয়েছে। স্বপ্ন নিয়ে বলতে গেলে আমরা এমন একটা বিষয় চিন্তাভাবনা করছিলাম যেখানে ভোক্তারা একসঙ্গে সব পণ্য কিনতে পারবে। আর বৃষ্টি- বাদলে কিংবা সময়ের অভাবে অনেকে কাঁচা বাজারে যেতে পারেন না। স্বপ্ন এমন এক স্থান, কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই একজন ভোক্তা বা ক্রেতা তার পছন্দসই পণ্য কিনতে পারছেন। আবার দেখবেন একজন ক্রেতা হয়তো নির্দিষ্ট কিছু পণ্য কিনতে এসেছেন; কিন্তু দেখা যায় সেই ক্রেতার চোখ খুলে যায় তার অন্য কিছু পণ্য কেনার জন্যও।
বর্তমানে আপনাদের লে আউট রয়েছে কয়টি? আমাদের আপতত সারা দেশে সাড়ে ৩ হাজার লে আউট রয়েছে। আগামীতে আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এআই নিয়ে আপনার মন্তব্য কী? আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি আগামীতে এআই বিজনেসে বেশি ব্যবহার হওয়া উচিত। তবে অনেক ক্ষেত্রে এর অপব্যবহার নিয়ে চিন্তিত।
এবার রাজনীতি প্রসঙ্গে আসি। আপনি রাজনীতিতে এলেন না কেন?আসলে ওটা আমার জায়গা নয়। যারা দেশের সেবা করবেন- তারাই রাজনীতি করবেন সেটাই স্বাভাবিক। তবে রাজনীতিবিদদের ব্যবসায়ীরা অবশ্যই সহযোগিতা করবে। দেশের উন্নয়নে যারা চিন্তাভাবনা করেন বা করবেন, তাদের জন্যই তো রাজনীতির মাঠ।
বর্তমান রাজনীতি বা রাজনৈতিক দল সম্পর্কে কি কোনো ধরনের মন্তব্য আছে? আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের নিজস্ব আদর্শ রয়েছে। সেই আদর্শের মূল ফোকাস দেশের উন্নয়ন। দেশের মানুষের উন্নয়ন। তবে ইতিপূর্বের সরকার দেশের উন্নয়নের নামে যে লুটপাট করেছে তা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।
আপনি কি মনে করেন দেশে যারা ইতিপূর্বে ব্যাংকের টাকা লুটপাট করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত? অবশ্যই। কারণ দেশের ব্যাংকের টাকা, সাধারণ মানুষের টাকা লুট করে নিজেদের আখের গুছিয়েছে তাদের জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
ব্যবসায়ীদের কি সরাসরি রাজনীতি করা উচিত? ব্যবসায়ীরা রাজনীতি করবে কি করবে না, তা তাদের নিজেদের ব্যাপার। তবে রাজনীতি যেহেতু দেশের সেবা করা, দেশের মানুষের সেবা করার বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত, তাই যারা ব্যবসায়ী তাদের চিন্তা করা প্রয়োজন দেশের প্রয়োজনে, মানুষের প্রয়োজনে তারা কতটুকু সময় দিতে পারবেন। এটি আমার একান্ত ব্যক্তিগত মতামত। তবে ব্যবসায়ীরা রাজনীতিতে এলে যে একেবারে খারাপ করবে তাও নয়। তার অনেক উদাহরণ রয়ে গেছে।
সামনে তো নির্বাচন- আপনার এ বিষয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য আছে কি না? অনেক দিন পর দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকারের সুযোগ পাচ্ছে, তাই আগামী নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি প্রতিটি রাজনৈতিক দলের বিশেষ করে যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন তাদের ইশতেহারে আগামীদিনের অর্থনীতি ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পর্কে বেশ কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। কারণ আমি একজন ব্যবসায়ী হিসেবে আমার জানার আগ্রহ- রাজনৈতিক দলগুলো দেশের অর্থনীতি নিয়ে কতটা কনসাস। বিশেষ করে ব্যাংকিং ব্যবস্থা, শেয়ারবাজার ও দ্রব্যমূল্য জীবনযাপনে কতটা প্রশান্তি দেবে। প্রত্যাশা থাকা ভালো। পরিকল্পনা রাখা উত্তম।
দুর্নীতি নিয়ে আপনার কোনো বক্তব্য আছে? বিশেষ করে দেশে দুর্নীতি কমানোর উপায় নিয়ে? দুর্নীতি কমানোর একমাত্র উপায় হচ্ছে ডিজিটাল পদ্ধতি পুরোপুরি চালু রাখা।
নতুন বছরে প্রত্যাশা কী? নতুন বছরের প্রত্যাশা হচ্ছে- দেশে একটা সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও ভালো নির্বাচন হোক। অতীতের সব অনিয়ম দূর হয়ে যাক।
এবার আপনার ব্যক্তিগত প্রসঙ্গে আসি। আপনি অবসরে কী করেন? আমি অবসর নিই খুব কম। এরপরেও অবসরে পিয়ানো বাজানো শিখি। আর দাবা খেলি।
আপনার কখনো ক্লান্তি আসে না? বা মনে হয় না আপনি বড় ক্লান্ত? আমার কাছে ক্লান্তি বলে কোনো শব্দ নেই। আবার বিশ্রাম বলেও কিছু নেই। আবার রাত কিংবা দিনের কোনো পার্থক্য নেই। রাত-দিন আমার কাছে সমান। সবসময় এক ধরনের অতৃপ্তিবোধ তাড়া করে বেড়ায়। যে কারণে বিশ্রামের কথা চিন্তাই করি না।
পিয়ানো বাজানো এখন কেন শিখছেন? ব্রেন চালু রাখার জন্য একদিকে পিয়ানো বাজানো শিখছি। আবার দাবা খেলছি মনোযোগ ঠিক রাখার জন্য। মনোযোগ থাকলে যেকোনো কাজে সাফল্য আসে। সুতরাং দাবা খেলার মধ্য দিয়ে মনোযোগটা ঠিক রাখতে চাই।
আপনাকে সময়ের আলোর পক্ষ থেকে অনেক ধন্যবাদ
আপনাকে এবং সময়ের আলোকেও ধন্যবাদ।
সময়ের আলো/এনএ