সঞ্চয়পত্রে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফার ওপর উৎসে করের হার ৫ শতাংশ বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একই সঙ্গে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর আগের মতোই কোনো উৎসে কর প্রযোজ্য হবে না বলে জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো চিঠির মাধ্যমে জানায় এনবিআর।
চিঠিতে বলা হয়, ২০১৯ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির সব ধরনের সঞ্চয়পত্রে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ যদি পাঁচ লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে সেই বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত মুনাফার ওপর উৎসে কর কাটার হার হবে ৫ শতাংশ। এর বেশি বিনিয়োগ হলে প্রযোজ্য হবে উচ্চ হারে কর। এনবিআরের চিঠিতে পেনশনার সঞ্চয়পত্রের বিষয়ে আলাদা করে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, কোনো ব্যক্তির কোনো একটি আয়বর্ষে শুধু পেনশনার সঞ্চয়পত্রে মোট পুঞ্জীভূত বিনিয়োগ যদি পাঁচ লাখ টাকা অতিক্রম না করে, তবে ওই বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফার ওপর উৎসে করের হার হবে শূন্য শতাংশ। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীকে কোনো কর দিতে হবে না।
দীর্ঘদিন ধরে সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগকারীরা অভিযোগ করে আসছিলেন, অনেক ক্ষেত্রে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের সুদের ওপরও ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর কেটে নেওয়া হচ্ছে। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হলে সেই বিভ্রান্তি দূর করতেই এনবিআর এই স্পষ্টীকরণ জারি করল। আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১০৫-এর বরাত দিয়ে এনবিআর জানায়, কোনো ব্যক্তির যদি কোনো একটি আয়বর্ষে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ পাঁচ লাখ টাকা অতিক্রম করে, তবে সেই বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর প্রযোজ্য হবে।
বর্তমানে জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের আওতায় চার ধরনের সঞ্চয়পত্র চালু রয়েছে- পরিবার সঞ্চয়পত্র, পেনশনার সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র ও তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র। এর মধ্যে পরিবার সঞ্চয়পত্র শুধু নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকলেও বাকি তিন ধরনের সঞ্চয়পত্রে ব্যক্তি ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করতে পারে।
সময়ের আলো/আআ