নবায়নের দায়িত্ব প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর ছাড়া হলো

নিজস্ব প্রতিবেদক

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির শেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো গতকাল মঙ্গলবার। এ বৈঠকে চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি

2026-02-11T03:50:14+00:00
2026-02-11T03:50:14+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
নবায়নের দায়িত্ব প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর ছাড়া হলো
গ্রামীণফোনের সঙ্গে ১১ চুক্তি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:৫০ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির শেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো গতকাল মঙ্গলবার। এ বৈঠকে চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) প্রকল্পের আওতায় ৪০ হাজার ৫৮৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগের জন্য গ্রামীণফোন লিমিটেডের সঙ্গে সম্পাদিত ১১টি চুক্তি নবায়ন বা পুনঃনবায়ন সংক্রান্ত প্রস্তাবটি কমিটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব ক্ষমতায় অনুমোদনের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। 

মঙ্গলবার অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত চলতি বছরের সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ষষ্ঠ সভায় বিষয়টি ছেড়ে দেওয়া হয়।

৫৫ হাজার মেট্রিকটন সার ক্রয় করবে সরকার : এদিকে ক্রয় কমিটির বৈঠকে দেশে কৃষি উপকরণের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি মোট ৫৫ হাজার মেট্রিকটন সার সংগ্রহের পৃথক প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়। সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, তিউনিসিয়ার গ্রুপ কেমিক টুনিসিয়েন (জিসিটি) এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) মধ্যে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির মাধ্যমে চতুর্থ লটে ২৫ হাজার মেট্রিকটন টিএসপি সার আমদানি করা হবে। এ আমদানির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। প্রতি টনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৩০ মার্কিন ডলার।

অন্য এক সিদ্ধান্তে, শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) থেকে ৩০ হাজার মেট্রিকটন ব্যাগজাত দানাদার ইউরিয়া সার ক্রয়ের অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১৫৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। ব্যাগিং চার্জসহ প্রতি মেট্রিকটনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৩১ মার্কিন ডলার।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আসন্ন আবাদ মৌসুমে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ এবং খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখতে এসব সার আমদানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আজকের ক্রয়-সংক্রান্ত কমিটির সভায় সার সংরক্ষণ ও বিতরণব্যবস্থা শক্তিশালী করতে মেহেরপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলায় সার বাফার গোডাউন নির্মাণের দুটি প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়।

‘সার সংরক্ষণ ও বিতরণের জন্য দেশব্যাপী ৩৪টি বাফার গোডাউন নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় মেহেরপুর জেলায় ১০ হাজার মেট্রিকটন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি গোডাউন নির্মাণ করা হবে, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়ন করবে মেসার্স এস এস রহমান ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড। 

এ ছাড়া ঠাকুরগাঁও জেলায় ২০ হাজার মেট্রিকটন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন আরেকটি গোডাউন নির্মাণ করা হবে, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৯ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এ কাজের ঠিকাদার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে মেসার্স মাজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। কর্মকর্তারা জানান, এসব বাফার গোডাউন কৃষকদের কাছে সময়মতো সার পৌঁছে দিতে সহায়ক হবে এবং সংগ্রহ-পরবর্তী অপচয় কমাতে ভূমিকা রাখবে।

৩১৪ কোটি টাকার ওষুধ-চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়ের অনুমোদন : এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে ৩১৪ কোটি ৬৮ লাখ ৫৬ হাজার টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। বৈঠকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের প্রস্তাবে ডিপিএম পদ্ধতিতে ‘জিনএক্সপার্ট কার্টিজ’ ক্রয় ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের অনুমোদন দেওয়া হয়। এ প্রস্তাবের আওতায় ১৪ লাখ ৮২ হাজার সংখ্যক জিনএক্সপার্ট কার্টিজ সংগ্রহ করা হবে, যার মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩৭ কোটি ১২ লাখ টাকা। এ ক্ষেত্রে সুপারিশ করা দরদাতা হিসেবে জাতিসংঘের প্রকল্প সেবা দফতরকে (ইউএনওপিএস) নির্বাচন করা হয়েছে।

অন্যদিকে যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ‘অ্যান্টি-টিবি ড্রাগ’ সংগ্রহ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব বৈঠকে উপস্থাপন করা হলে সেটিও অনুমোন করেছে ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। এ ক্ষেত্রে ৫ কোটি ৩৮ লাখ ৬৫ হাজার অ্যান্টি-টিবি ড্রাগ (৪ঋউঈ) কিনতে ৭৭ কোটি ৫৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রেনেটা পিএলসি থেকে এই অ্যান্টি-টিবি ড্রাগ কেনা হবে।

আগামী সরকারকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে : অন্যদিকে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল ও টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে নিতে আগামী সরকারকে শিল্প ও ব্যবসা সচল করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংকিং খাত সংস্কার এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। এসব চ্যালেঞ্জ সঠিকভাবে মোকাবিলা করা গেলে অর্থনীতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার পথে ফিরবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অর্থ উপদেষ্টার বলেন, আগামী সরকারের প্রতি মূল পরামর্শ হলো নতুন করে সবকিছু শুরু না করে চলমান সংস্কারগুলোকে সংহত করা। ভালো কাজগুলো ধরে রাখুন, সমন্বয় বাড়ান এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা শক্ত করতে হবে। তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অর্থনীতিকে কার্যকরভাবে ‘অ্যাক্টিভেট’ করা। ব্যবসা ও শিল্প খাত সচল না হলে কর্মসংস্থান হবে না। আর কর্মসংস্থান না হলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে না।

এ ছাড়া একীভূত করা পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের ক্ষতিগ্রস্ত শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, কীভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে তার মডেল তৈরি করতে একটু সময় লাগবে। ওটা একটু হিসাব-নিকাশ করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করতে হবে।

পাঁচ ইসলামী ব্যাংক একীভূত করার সময় আপনি বলেছিলেন ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা ক্ষতিপূরণ পাবেন এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমি বলেছি। এখন আমরা এটি কনসিডার করব। গভর্নর তার মতো করে বলেছেন। তবে আমরা বলেছি অবশ্যই যারা ডিপোজিটর, যাদের টাকা আছে সবাই পাবেন। ৪২ হাজার কোটি টাকা কেন দেওয়া হলো? দ্বিতীয় বিষয়টি হলো শেয়ারহোল্ডার।

সময়ের আলো/কেএইচও


  বিষয়:   গ্রামীণফোন  চুক্তি  নবায়ন  প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয় 


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: