দক্ষ চালক গড়তে ২০০ কোটি টাকার প্রকল্প

আদিল সরকার

দেশে পরিবহন খাতের জন্য দক্ষ গাড়িচালক তৈরি, সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস ও বেকার যুবকদের জন্য পরিবহন খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রকল্প

2026-02-05T04:48:27+00:00
2026-02-05T04:48:27+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
দক্ষ চালক গড়তে ২০০ কোটি টাকার প্রকল্প
আদিল সরকার
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:৪৮ এএম 
প্রতীকী ছবি
দেশে পরিবহন খাতের জন্য দক্ষ গাড়িচালক তৈরি, সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস ও বেকার যুবকদের জন্য পরিবহন খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নেওয়া এই প্রকল্পটির দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০১ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। যার পুরোটিই আসবে সরকারের নিজস্ব কোষাগার (জিওবি) থেকে। প্রকল্পটির মাধ্যমে তিন বছর ধরে কার্যক্রম চলবে। এবার দেশের প্রতিটি জেলায় এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানা গেছে। এর আওতায় দেশের ২৭ হাজার ৩৬০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রকল্পটির মাধ্যমে দেশের যুবকদের দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে জীবনমান উন্নীত করার কথা জানিয়েছে সরকার। যুব উন্নয়ন অধিদফতর প্রকল্পটির বাস্তবায়নকারী সংস্থার দায়িত্বে রয়েছে। এ ছাড়া পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট সেক্টর হিসেবে ধর্ম, সংস্কৃতি ও বিনোদন এবং আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগ রয়েছে। প্রকল্পটির কার্যক্রম চলতি বছরের ১ জানুয়ারি শুরু হয়ে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরে শেষ করার কথা রয়েছে। 

জানা যায়, যুুব উন্নয়ন অধিদফতরের কার্যক্রম সব জেলা ও উপজেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে দেশের ৪০টি জেলায় গাড়ি চালনা প্রশিক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। প্রতিটি কেন্দ্রে ব্যাপক চাহিদার কারণে পরপর তিন ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে বাছাই করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ৪০টি কেন্দ্রের মাধ্যমে ৬৪টি জেলার প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রত্যাশী যুবকদের মাঝে গাড়ি চালনা প্রশিক্ষণের ব্যাপক চাহিদার বিষয়টি বিবেচনা করে ৬৪টি জেলাকে প্রকল্প বাস্তবায়নের কেন্দ্র হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। যানবাহন চালনা প্রশিক্ষণ গ্রহণে যুবকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হবে বলে গুরুত্বের সঙ্গে অনুমান করছে কর্তৃপক্ষ। 

সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটির জন্য ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য ৭৬ কোটি ২১ লাখ ৮২ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৪৭ কোটি ৪১ লাখ, ২০২৭-২৮ অর্থবছরের জন্য ৪৭ কোটি ৪৫ লাখ ২২ হাজার টাকা ও ৩০ কোটি ১৬ লাখ ৯৬ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে। প্রকল্পে বস্তুনিষ্ঠ যাচাই নির্দেশকে জানানো হয়Ñ পরিবহন খাতে দক্ষ গাড়িচালকের চাহিদার ন্যূনতম ৫ শতাংশ এ প্রকল্পের মাধ্যমে পূরণ করা এবং দক্ষ চালকের মাধ্যমে গাড়ি চালনার ফলে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস। 

প্রকল্পটিতে সবচেয়ে বেশি খরচ দেখানো হয়েছে প্রশিক্ষণ ব্যয়ে। এই খাতে ৭৬ কোটি ৯৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা খরচ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া লাইসেন্স ফি হিসেবে ১৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা, খুচরা যন্ত্রাংশে ১৭ কোটি ৯ লাখ ৬৪ হাজার টাকা, আউটসোর্সিংয়ে ব্যয় ২৯ কোটি ৮৪ লাখ ৯৪ হাজার, যানবাহন ক্রয়ে ১৪ কোটি ৮ লাখ, ওয়ার্কশপ ও র‌্যাম্প ১৬ কোটি ৯ লাখ টাকা, শিক্ষা উপকরণে ৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা, বিদ্যুৎ খরচ ২ কোটি ৩৭ লাখ ৬০ হাজার, প্রাইস কনটিনজেন্সি ১ কোটি ৫৬ লাখ ও অন্যান্য খরচে ২৪ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার টাকা ধরা হয়েছে। 

এ দিকে প্রকল্পটিকে বেশ যৌক্তিকভাবে বিবেচনায় নিয়েছেন সংশ্লিষ্টজনরা। কেন না দক্ষ চালকের অভাবে দেশে প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন মানুষজন। যা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। দেশে সড়কপথে গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে ৬ হাজার ৪২০ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪৮ শতাংশই নারী-শিশু ও পথচারী। সড়কে নারী, শিশু, পথচারী ও চালক-সহকারীরা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন এবং তাদের মৃত্যুর হারও বেশি। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের গত ১২ মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন চিত্র প্রমাণ করে যে দেশের সড়কে বিদ্যমান নিরাপত্তাকাঠামো সমাজের দুর্বলতম অংশকে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ। দেশে সড়ক দুর্ঘটনা এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয় বরং এটি একটি ভয়াবহ জাতীয় সংকট।

এ ছাড়া ২০১৪ থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গত এক যুগে দেশে ৬৭ হাজার ৮৯০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১ লাখ ১৬ হাজার ৭২৬ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ২১ জন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। ইসরাইল-ফিলিস্তিন বা ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে যত মানুষ মারা গেছে, তারচেয়েও এই দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। দেশের এমন পরিস্থিতিতে চালকদের প্রশিক্ষণ শেখাতে নেওয়া দ্বিতীয় পর্যায়ের এই প্রকল্প আশানুরূপ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে প্রকল্পটির যথাযথ অর্থ ব্যবহার ও টেকসই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নিয়েও কমতি নেই প্রশ্নের। আর্থিক তছরুপ থেকে বের হতে না পারলে এসব প্রকল্পে সফলতার ঘ্রাণ পাওয়া অসম্ভব বলে মনে করছেন তারা। 

অন্যদিকে প্রকল্পটির আউটপুট হিসেবে দেশের ৬৪ জেলায় যানবাহন চলনা প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া প্রশিক্ষণ শেষে যুবকরা বৈধ লাইসেন্স পাবে এবং দক্ষ যুবকদের জন্য পরিবহন খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রকল্পটিতে। প্রকল্পের বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা 

মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) ড. কাইয়ুম আরা বেগম সময়ের আলোকে বলেন, বাংলাদেশে এমন প্রকল্পের অনেক দরকার। আগের মতো বাসার লোক ছিল পরে সে ড্রাইভার হয়ে গেছে, তারপর লাইসেন্সও পেয়ে গেছে; সেই অবস্থা হলে তো হবে না। আমাদের রাস্তা অনেক ভালো হয়েছে, গাড়িও বেড়েছে। অনেক দ্রুতগামী গাড়ি যাবে। সুতরাং ট্রেনিংয়ের দরকার আছে। তবে যারা দায়িত্বে থাকবে তারা সঠিকভাবে ট্রেইন করছে কি না সেটা তো আর আমরা এখান থেকে লুকআফটার করতে পারি না, এটাই সমস্যা।

সময়ের আলো/আআ


  বিষয়:   দক্ষ  চালক  প্রকল্প  দুর্ঘটনা 


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: