শীতার্ত মানুষের পাশে থাকুন

সম্পাদকীয়

ঋতুবৈচিত্র্যের নিয়মে বাংলাদেশে শীত আসে। কিন্তু এই শীত সবার জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসে না। কারও জন্য শীত মানে পশমি চাদর

2026-01-07T06:28:00+00:00
2026-01-07T06:28:00+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
শীতার্ত মানুষের পাশে থাকুন
ঠান্ডায় জমে যাচ্ছে হাত-পা
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:২৮ এএম   (ভিজিট : ২০৮)
গ্রাফিক : সময়ের আলো
ঋতুবৈচিত্র্যের নিয়মে বাংলাদেশে শীত আসে। কিন্তু এই শীত সবার জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসে না। কারও জন্য শীত মানে পশমি চাদর আর গরম কফির আয়েশ, আবার কারও জন্য এটি জীবন-মরণের যুদ্ধ। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশের উত্তর জনপদসহ সারা দেশে শীতের যে ভয়ংকর রূপ আমরা প্রত্যক্ষ করছি, তা শুধু জলবায়ু পরিবর্তনেরই ফল নয়, বরং এটি আমাদের মানবিকতার এক কঠিন পরীক্ষা। কনকনে ঠান্ডা বাতাসে যখন ছিন্নমূল মানুষের হাড় কাঁপে, তখন সেই কাঁপন যেন আমাদের বিবেককেও নাড়া দিয়ে যায়। 

এই মুহূর্তে বাংলাদেশে শীতের তীব্র দাপট চলছে। কনকনে ঠান্ডা, ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে জীবনযাত্রা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ১২ জেলাতে শৈত্যপ্রবাহ বইছে, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পৌঁছেছে ঈশ্বরদীতে ৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। রাজধানীর তাপমাত্রা কমে ১৩.৮ ডিগ্রিতে এসে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মানুষের দৈনন্দিন জীবন, কৃষি, পরিবহন ও স্বাস্থ্যব্যবস্থায়ও গভীর প্রভাব ফেলেছে। 

দৈনিক সময়ের আলোয় প্রতাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়- শীতের এই প্রকোপের প্রধান সমস্যা হলো মানুষের অসহায়ত্ব। যেমন পঞ্চগড়ে কৃষকের হাত-পা জমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়েছে। এ রকম দৃশ্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা যাচ্ছে। খেটে খাওয়া মানুষজন, যেমন রিকশাচালক, দিনমজুর ও কৃষকরা, শীতের কারণে কাজের বাইরে যেতে পারছে না। অপ্রতুল পোশাক ও আধুনিক শীতবস্ত্রের অভাবে তারা কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। 

শীতের প্রভাব শুধু মানবজীবনে সীমাবদ্ধ নয়; এর ক্ষতি হচ্ছে দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত কৃষিতেও। রবিশস্য, বোরো বীজতলা ও আলু ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষকরা জানাচ্ছে, শীতের কারণে চাষাবাদে বিঘ্ন ঘটছে। আলুর ক্ষেতে রোগবালাই দেখা দিয়েছে। ফলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর পাশাপাশি গবাদিপশুও শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, যা কৃষি ও পশুপালন খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। 

পরিবহন ও যোগাযোগব্যবস্থা এই শীতের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাতাসে কুয়াশা ও শীতের কারণে যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। বিমান ও নৌচলাচলেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ঘন কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় দুর্ঘটনা ও যোগাযোগের সমস্যা বাড়ছে। 

শীতের প্রভাবে দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই প্রয়োজন যথাযথ প্রস্তুতি ও সামাজিক সহায়তা। সরকার ও বিভিন্ন সংস্থা শীতবস্ত্র ও গরম খাবার বিতরণে উদ্যোগ নিয়েছে, তবে এই উদ্যোগের পরিমাণ যথেষ্ট নয়। প্রতিদিনই মানুষ এই দুর্দশার কবলে পড়ছে। 

এই শীতের প্রকোপ থেকে রেহাই পেতে প্রয়োজন আমাদের সবার সচেতনতা ও সহযোগিতা। যথাযথ পোশাক, গরম খাবার ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে খাদ্য ও কৃষি উৎপাদন রক্ষায় সরকারের উদ্যোগ আরও জোরদার করতে হবে। শুধু এই মৌসুমে নয়, ভবিষ্যতেও শীতের প্রভাব মোকাবিলায় আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। শুধু একান্ত প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হওয়া, যানবাহনের হেডলাইট চালু রাখা এবং শীতের পোশাক পরা এই সময়ের জন্য অপরিহার্য। 

শীতের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কারণ শীতে দেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষগুলো সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে। সরকারের উচিত এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা, যেন সবার জীবন নিরাপদ ও স্বাভাবিক থাকে। আমাদের সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে, যেন এই শীতের কষ্টকে আমরা একসঙ্গে জয় করতে পারি। তা ছাড়া মানুষের স্বাস্থ্যসেবা যাতে বিঘ্নিত না হয় সংশ্লিষ্টরা সজাগ থাকলে মোকাবিলা সহজ হবে। 

সময়ের আলো/এনএ 

  বিষয়:   শীতার্ত  মানুষ  পাশে থাকুন  ঠান্ডায় জমে যাচ্ছে 


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: